মন খারাপ মানেই কি বিষণ্নতা?

0
60
মানসিক অস্বস্তি কমানোর জন্য যা করতে পারেন

মো. আকবর হোসেন
মনোবিজ্ঞানী, সিয়েরা লিওন

আমরা প্রায়ই অনেককেই বলে থাকি যে আমি ডিপ্রেশনে/বিষণ্নতায় ভুগতেছি। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এ বিয়ে প্রায়ই বিভিন্নজনের মন্তব্য দেখা যায়। যেখানে অনেকেই বলতেছেন, ‘‘আমি বিষণ্নতায় ভুগতেছি, সাহায্য দরকার।’’ মন খারাপ হওয়াকেই অনেকে বিষণ্নতা মনে করে থাকেন। কিন্তু মন খারাপ মানেই সেটাকে বিষণ্নতা  বলা যাবে না।

বিষণ্ণতা ডায়াগনোসিস করার জন্য Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (DSM) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কিছু ক্রাইটেরিয়া থাকতে হবে যেটা একজন Clinical Psychologist অথবা Psychiatrist ই নির্নয় করবেন।

এখানে DSM-4 অনুযায়ী ডিপ্রেশনের ক্রাইটেরিয়াগুলো তুলে ধরলাম যেগুলো একটানা দুই সপ্তাহের বেশি কারো মধ্যে থাকলে তখন সেটা ডিপ্রেশন বলে গন্য হবে যা একজন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী বা সাইকিয়াট্রিস্ট নির্ণয় করবেন।

বিষন্নতার লক্ষণসমূহ :
১. দিনের বেশিরভাগ সময়, সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন মনটা খারাপ (Depressed Mood) থাকবে।
২. আগে যেসব কাজ করে ভালো লাগতো, এখন সেসব কাজ করে আনন্দ না পাওয়া। (Loss of pleasure in almost all activities)

এ দুটো প্রধান লক্ষণের সাথে নিন্মোক্ত লক্ষণগুলোর বেশিরভাগ গুলো থাকতে হবে…
৩. শরীরের ওজন কমে যাওয়া (weight loss) অথবা শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া (Weight gain)। কিন্তু এটা ডায়েটিং এর জন্য হবে না।
৪. ঘুমের সমস্যা থাকবে। কারো একদমই ঘুম হবে না (Insomnia) আবার কারো অনেক ঘুম হবে (Hypersomnia). কারো কারো ক্ষেত্রে শোয়ার অনেক পরে ঘুম আসবে, এবং ঘুম ভেঙে যাবে। ঘুমের চক্রটা পূর্ণ হবে না।
৫. প্রায় প্রতিদিনই অবসাদগ্রস্ততা (Fatigue) এবং শক্তিহীন (Loss of Energy) অনুভব করা।
৬. অস্থিরতা বেড়ে যাবে (psychomotor agitation) অথবা কারো ক্ষেত্রে একদম নিশ্চুপ/নিস্তেজ হয়ে যাওয়া (Psychomotor retardation).
৭. সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা (Indecisiveness). ছোটো-খাটো অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে না পারা। মনোযোগ দিয়ে কোনো কাজ করতে না পারা (Concentration problems).
৮. নিজেকে মূল্যহীন মনে করা (self worthlessness). ‘‘আমি ব্যর্থ, আমাকে কেউ ভালোবাসে না, আমি অযোগ্য, আমার দ্বারা কিছুই সম্ভব না’’ এরকম চিন্তা মাথায় আসা। অহেতুকভাবে নিজেকে দোষ দেয়া (inappropriate Self blaming)।
৯. আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসা (Suicidal thinking), আত্মহত্যার পরিকল্পনা করা (Suicidal planning) এবং আত্মহত্যার চেষ্টা (Suicidal attemp) করা। অনেক সময় নিজের হাত পা বা শরীর কেটে ফেলা (Para suicide).

উপরোক্ত সমস্যাগুলো থাকার কারণে যদি ব্যক্তির Personal life, Professional life and Social life মারাত্মকভাবে প্রভাবিত (Significantly hampered) হয় তবে দ্রুত একজন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী বা সাইকিয়াট্রিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করা উত্তম।

পুরুষের মনোঃযৌন সমস্যা ও চিকিৎসা

লেখক,
মনোবিজ্ঞানী
এমএসএফ- নেদারল্যান্ডস।
সিয়েরা লিওন মিশন।

/এসএস/মনেরখবর/

Previous articleশরীরিক ও আচরণগত লক্ষণে মানসিক রোগ চেনার উপায়
Next article‘ডিপ্রেশনের সাথে অনিদ্রায় ভুগছি, ওষুধেও কাজ হয় না’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here