অল্পতে রেগে যায়, নিজেকে অবহেলিত ভাবে

অল্পতে রেগে যায়, নিজেকে অবহেলিত ভাবে

প্রতিদিনের চিঠি : আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে মনের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। আপনিও লিখতে পারেন আমাদেরকে। সেজন্য ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

চিঠি পাঠাতে পারেন পেজের ইনবক্সে অথবা মেইল monerkhaboronline@gmail.com -ঠিকানায়। আমাদের আজকের চিঠি পাঠিয়েছেন- মারুফ।

প্রতিদিনের চিঠি পর্বে দেয়া উত্তরগুলো কেবলমাত্র প্রাথমিক দিকনির্দেশনা। সঠিক ও পূর্নাঙ্গ চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সাথে সরাসরি কথা বলে চিকিৎসা নিতে হবে।

চিঠি : আমি মারুফ। বিয়ে করেছি দুই বছর। আমার ওয়াইফ আমাকে খুব ভালোবাসে। এতো বেশি ভালোবাসে যা মাত্রাতিরিক্ত। আমাকে ছাড়া এক মূহুর্তও থাকতে চায় না। প্রথম প্রথম এমনও হইছে তার কাছে যখন যেতাম বাড়ি থেকে বেড় হতে দিত না। এখনো সেই আগের মতো টান আছে। কাছে না পেলে ফোনে প্রচুর কল করে। কখনো কখনো বিরক্ত হয়ে যাই। এটা ঠিক যে বাসায় অধিকাংশ সময় একা থাকে। তবে বাসায় থাকি বা দূরে থাকি সব সময় বলা যায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে আমার সাথে সংযুক্ত থাকতে চায়। সমস্যা হলো সামান্য কিছুতে রেগে যায়, আবার খুব দ্রুত সহজও হয়ে যায়। রাগ গোস্মা সব ভুলে যায়। অন্যদিকে খুব অল্পতেই কষ্ট পায়। নিজেকে অবহেলিত ভাবে। খুব বেশি কিছু আবদার করে না। কিন্তু কখনো যদি পাঁচ টাকার একটা চকোলেট এনে বলি এটা তোমার জন্য। কোনো কারণে যদি সেটা তখন তাকে না দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেটা অন্য কেউ খেয়ে ফেলল তাহলে ভীষণ কষ্ট পায়। কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। এমনকি হাত-পা ছুড়ে মারতে থাকে। হঠাৎ হঠাৎ কোনো একটা কিছু খেতে ইচ্ছে হলে দ্রুতই সেটা দিতে পারলে খাবে না হলে পরে আর খাবে না। সব সময় খেতে ইচ্ছে করে এরকম প্রিয় কোনো খাবার নেই। খাবারের প্রতি খুবই আগ্রহ কম। দুধ-ডিম জাতীয় খাবার একেবারেই খেতে চায় না। বলে এগুলো খেতে ইচ্ছে করে না। এরকম ছোট ছোট অনেক বিষয় আছে যা অন্যদের থেকে অনেক ব্যতিক্রম। শুধুমাত্র আমাকে কাছে পাওয়া ছাড়া তার আর কোনো ইচ্ছা স্থায়ী না। রাগ, ক্ষোভ ইচ্ছা সব কিছুই তার দ্রুত পরিবর্তনশীল। এমন অবস্থায় কী করতে পারি? উল্লেখ্য, আমাদের এখনো কোনো সন্তান নেই। বর্তমানে সে সন্তানসম্ভবা।

মারুফ। যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

পরামর্শ : ধন্যবাদ আপনাকে প্রশ্নের জন্য। এটা যে একটা প্রশ্ন বা সমস্যা আমাদের সমাজে অনেক মানুষ তা বুঝতে চায় না। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে। আপনি কিন্তু বিয়ে করেছেন কতদিন সেটা উল্লেখ্য করেননি। ধরে নিলাম সেটা খুব বেশি সময় হয়নি। এই আপনি বললেন আপনার স্ত্রী আপনাকে কাছে পেতে চায় এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু যখনই সেটা যুক্তির বাইরে চলে যায় আমি কখন চাবো, কখন পাবো, কখন কাছে থাকা উচিত তখনই বিষয়টা দৃষ্টির মধ্যে আনা উচিত। যেমন এই ক্ষেত্রে আপনি বলছে বাইরে যেতে দেয় না, আপনি নিজেও বিরক্ত হয়ে যান। এ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার ওয়াইফের সোশ্যাল স্কিলের অভাব আছে। অর্থাৎ কোন সময় কখন কীভাবে রিয়েক্ট করতে হয়, কোন পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হয়, এই বিষয়গুলো ঘাটতি আছে। সেটা হয়তো উনি ছোটবেলা থেকে প্রোপারলি পেয়ে আসেনি। সেই ট্রেনিংটা পাননি। এখন আপনার দায়িত্ব কী? আপনার জন্য করণীয় হলো তার সাথে সরাসরি কথা বলা। একটা একটা দায়িত্ব ওকে বুঝিয়ে দেওয়া। একটু একটু করে যে এটা তুমি এভাবে করবা, এটা এভাবে করবা। একটা একটা কাজ ও যেন নিজে করে। দায়িত্ব নিয়ে কাজ যখন নিজে নিজে শুরু করবে তখন কনফিডেন্স আসবে আর আস্তে আস্তে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবে। তারপরে আস্তে আস্তে একটা একটা বড় বড় দায়িত্ব নিতে পারবে। এটা একদিনে হুট করে হয়ে যাবে না। এর জন্য সময় লাগবে।

আরেকটা হলো আপনি যদি প্রফেশনাল সাহায্য দরকার হয়। আপনি প্রফেশনারল সাহায্য নিতে পারলে ভালো। সেটা যদি না পারেন আমাদের মনের খবর ওয়েব সাইটে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখতে পারেন। সেখানে পরামর্শ, আর্টিকেল, সোশ্যাল স্কিলের জন্য সেগুলো তাকে পড়তে দিবেন। তাকে বুঝাবেন এটা বড় কোনো মানসিক সমস্যা না। এটার জন্য তোমাকে অপমানিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। ভাববেন না আমি পাগল বা এই টাইপের কিছু। ভাববেন এটা একটা স্বাভাবিতক প্রক্রিয়া। সবাই সব কাজ করতে পারে না। সামাজিক দক্ষতার কিছু কিছু বিষয় ছোটকাল থেকে অর্জন হয়। এটা নির্ভর করে ছোট বেলা থেকে কে কতটুকু করেছে তার ওপর। সুতরাং তাকে আস্তে আস্তে করে একটা একটা দায়িত্ব দেন, কাজ শিখান। সে যখন কনফিডেন্টলি পারবে তার নিজের ভালো লাগবে তখন দেখবেন বড় কাজের দায়িত্ব নিতে পারবে।

ধন্যবাদ। পরবর্তীতে সমস্যা হলে জানাবেন।

উত্তর দিয়েছেন,
অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব- সম্পাদক, মনের খবর
অধ্যাপক– মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সেকশন মেম্বার– মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব ‘ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন’।
কোঅর্ডিনেটর– সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট – বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।

এটাও পড়ুন…
মানসিক স্বাস্থ্য কী?
মানসিক স্বাস্থ্য : আমরা কতোটা সচেতন

পরিবারে কম সন্তান শিশুর মানসিক সমস্যা তৈরী করে : গবেষণা

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে 

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪

/এসএস

 

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here