‘দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় মানসিক সমস্যা : করণীয় জানতে চাই’

‘দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় মানসিক সমস্যা : করণীয় জানতে চাই’

চিঠি : স্যার সমস্যাটা মূলত আমার বাবাকে নিয়ে। উনার বয়স ৬৭ বছর। পুরাতন স্ট্রোক , ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে। উনি ছোটবেলা থেকেই পেটের সমস্যায় ভুগছেন। পেটে ব্যাথা, পেট ফুলে থাকা, গ্যাস হওয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনো পাতলা পায়খানা হয়, মিউকাস যায়, শরীর খারাপ থাকে। অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে। সব ধরনের টেস্ট, এন্ডস্কোপি, কোলনস্কপি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়েছে। সবই নরমাল পাওয়া যায়।

  • ডাক্তাররা সবসময়ই বলে আসছেন উনার সমস্যাটা আই বি এস (IBS)। দেশের বাহিরেও চিকিৎসা করানো হয়েছে। তেমন কিছুই ধরা পরে নাই। কিন্তু পেট ব্যাথা আর যায় না। উনি সবসময় এটা নিয়ে টেনশনে থাকেন। আমরা এখন নিশ্চিত যে, সমস্যাটা আই বি এস (IBS)। বাবার মনে সবসময় দুশ্চিন্তা, হতাশা, ডিপ্রেশন কাজ করে।

আমরা জানি আইবিএসটা পরিপাকতন্ত্র ডাক্তার এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে কম্বাইন করে চিকিৎসা নিলে রোগী ভালো থাকে। কিন্তু আমরা উনাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিতে পারছি না। উনার স্ট্রোক, ডায়বেটিস, উচ্চরক্তচাপ এর ঔষধ চলমান এবং নিয়ন্ত্রণে আছে। পেটের সমস্যা কমছে না। তাই আপনারা যদি আই বি এস (IBS), টেনশন, ডিপ্রেশন, হতাশা এর জন্য একটি প্রেসক্রিপশন করে দিতেন খুব উপকার হত। আপাতত উনাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিতে পারছি না। তাই স্যার আপনি যদি পরামর্শ এবং ঔষধ দিতেন, আপনার নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকব। ধন্যবাদ।

জন, (ছদ্মনাম) ঢাকা

পরামর্শ : উনি শারীরিকভাবে সমস্ত সমস্যা মেনে নিয়েছেন এবং সেটা চিকিৎসা করাতে রাজী হয়েছেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত মানসিক রোগ সম্পর্কে চিকিৎসা নিতে রাজী না। আপনাদের অন্যরা কীভাবে ভাবে সেটা বুঝা গেল না। আপনার হয়ত মনে করছেন উনাকে সুস্থ করা লাগবে। কিন্তু আপনার কেন স্টেপ নিচ্ছেন না, উনাকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিচ্ছেন না সেটাও একটা প্রশ্নের বিষয়। আপনার যেটা চাচ্ছেন, বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন। কোনো একজন ডাক্তারের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিতে চান; এটা আসলে কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি না। উনার কী কী সমস্যা আছে সেটা আপনি আপনার ভাষায় বলছেন। কিন্তু সিভিয়ারিটি কতটুকু, বয়সের সাথে সমস্যার সম্পর্ক কতটুকু, একই সাথে উনার ডায়াগনোসিস কী সেটা না জেনে কেউ আপনাকে ঔষধ দিতে পারবে না। এতে কখনো কখনো উল্টো ফলও হতে পারে। সুতরাং আপনাকে আপাতত সরাসরি দুইটা পরামর্শ দিতে পারি। এক, যেভাবেই হোক উনাকে ডাক্তারে কাছে নিতে হবে। যত কথাই বলেন, ডাক্তার না দেখানোর ভিন্ন কোনো উপায় নেই। অথবা একজন সাইকিয়াট্রিস্টসের অধীনে কাছাকাছি কোনো একটা হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। কারণ, এই বয়সে না দেখে-শুনে চিকিৎসা দেয়া বা নেয়া একেবারেই উচিত হবে না।

  • পরামর্শ দিয়েছেন,
    অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব- সম্পাদক, মনের খবর
    অধ্যাপক– মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
    সেকশন মেম্বার– মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব ‘ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন’।
    কোঅর্ডিনেটর– সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।
    সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট – বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখা পড়তে ক্লিক করুন এখানে :

প্রতিদিনের চিঠি : আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে মনের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। আপনিও লিখতে পারেন আমাদেরকে। সেজন্য ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

মানসিক স্বাস্থ্যের যে কোনো প্রশ্ন/পরামর্শ পেতে চিঠি পাঠাতে পারেন পেজের ইনবক্সে অথবা মেইল করুন monerkhaboronline@gmail.com -ঠিকানায়।

[প্রতিদিনের চিঠি পর্বে দেয়া উত্তরগুলো কেবলমাত্র প্রাথমিক দিকনির্দেশনা। সঠিক ও পূর্নাঙ্গ চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সাথে সরাসরি কথা বলে চিকিৎসা নিতে হবে।]

  • মাসিক মনের খবর প্রিন্ট ম্যাগাজিন সংগ্রহ করতে চাইলে কল করুন : 01797296216 এই নাম্বারে। অথবা মেসেজ করুন পেজের ইনবক্সে। লেখা পাঠাতে পারেন monerkhaboronline@gmail.com বা এই 01844618497 হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে।

/এসএস/মনেরখবর

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here