বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যাংকিং থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সহায়ক হিসেবেও AI কাজ করছে। প্রবীণদের মানসিক সঙ্গ দেওয়ার ক্ষেত্রেও AI নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ একাকিত্ব, নিঃসঙ্গতা এবং মানসিক চাপের সম্মুখীন হন। সন্তানরা কর্মব্যস্ত থাকেন বা দূরে থাকেন, অনেকের জীবনসঙ্গীও আর পাশে থাকেন না। ফলে কথা বলার বা অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার মতো মানুষ কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে AI-ভিত্তিক চ্যাটবট বা ভার্চুয়াল সহকারী প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলতে পারে, তাদের কথা শুনতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিতে পারে। এতে অনেকের একাকিত্ব কিছুটা কমতে পারে।
AI প্রবীণদের ওষুধ খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দিতে পারে, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের কথা জানাতে পারে এবং প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া গান শোনানো, গল্প বলা, ধর্মীয় বা শিক্ষামূলক তথ্য দেওয়া কিংবা স্মৃতিচর্চার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের মানসিকভাবে সক্রিয় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে AI-এরও অনেক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সবচেয়ে বড়ো বিষয় হলো, AI মানুষের প্রকৃত ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং আবেগের বিকল্প হতে পারে না। একজন মানুষের আন্তরিক স্পর্শ, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা বন্ধুর সঙ্গে গল্প করার যে মানসিক তৃপ্তি, AI তা দিতে পারে না।
এছাড়া সব প্রবীণ প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারলে AI-এর সুবিধা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ থাকতে পারে। আবার AI ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যও দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র AI-এর পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়।
তাই বলা যায়, AI প্রবীণদের জন্য একটি সহায়ক প্রযুক্তি, কিন্তু এটি কখনোই পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা স্বাস্থ্যকর্মীদের বিকল্প নয়। বরং মানুষের স্নেহ, যত্ন ও নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি AI ব্যবহার করা হলে প্রবীণদের মানসিক সুস্থতা আরও উন্নত হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার প্রবীণদের জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং আনন্দময় করে তুলতে পারে। তবে এর ব্যবহার হতে হবে সচেতনভাবে এবং মানবিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে। কারণ মানুষের পাশে মানুষের উপস্থিতিই সব সময় সবচেয়ে মূল্যবান।
- ডা. সোমাইয়া নাওশিন আহমেদ
- সহযোগী অধ্যাপক
- মনোরোগবিদ্যা বিভাগ
- ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।


