আত্মহত্যা এমন একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা যা প্রায়শ গবেষক, স্বাস্থ্যনীতি প্রণেতা, চিকিৎসা পেশাজীবীদের কাছে অবহেলা পেয়ে থাকে। সমগ্র বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ লোক মারা যায় আত্মহত্যার মাধ্যমে। সংখ্যাটা উদ্বেগজনক এবং এই সংখ্যার ১০-২০ গুণ বেশি মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিশ্বব্যাপী ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সে মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণের একটি হচ্ছে আত্মহত্যা। কিশোর বয়সীদের মৃত্যুর এক নম্বর কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা, সুতরাং এটা নিয়ে অবহেলা দূরে থাক বরং বেশি মাত্রায় সচেতনতা দরকার। কারণ আত্মহত্যা প্রতিরোধ করাই এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়। বিশ্বের বৃহত্তর মহাদেশ এশিয়ায় সামগ্রিক আত্মহত্যার ৬০% সংঘটিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হলো বাংলাদেশ। সেই হিসেবে এখানেও আত্মহত্যার হার অনেক বেশি। কিন্তু অপ্রতুল গবেষণা, অপর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত এবং জাতীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের কারণে সঠিক হার নির্ণয় করা কঠিন। এই নিবন্ধে জানুয়ারি ২০০০ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাপত্রগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে-বাংলাদেশে প্রতি বছরে এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৪০ জন আত্মহত্যা করে! যা কিনা আত্মহত্যার উচ্চ হারের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করে।
আরও পড়ুন…
আত্মহত্যার মাধ্যম হিসেবে যেসব উপায় উঠে এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো কীটনাশক সেবন, বিষ পান, গলায় ফাঁস দেয়া, রেললাইনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেয়া, উচু জায়গা থেকে লাফিয়ে পড়া ইত্যাদি। অন্যান্য দেশে প্রবীণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেলেও বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে এই হার বেশি (১০ থেকে ৭৮ বছর)। ৪০ বছরের নিচে যার হার সবচেয়ে বেশি। ছেলেদের গড় বয়স এক্ষেত্রে ২৮-৩৯ বছর, মেয়েদের ২৫-৩৩ বছর। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তা হলো-দাম্পত্য কলহ, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, অনিরাময়যোগ্য অসুখ, মাদকাসক্তি, অনৈতিক গর্ভধারণ, অর্থনৈতিক দুর্দশা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, হতাশাসহ অন্য মানসিক রোগ।
এইসব ঝুঁকিসমূহ বিবেচনায় রেখে সঠিকভাবে আত্মহত্যার কারণ নির্ণয় করতে পারলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ যেমন সহজ হবে তেমনি এই জনস্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলায় পরবর্তী কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন তা চিহ্নিত করা যাবে।
Reference
https://www.researchgate.net/publication/308413 081 Suicide in Bangladesh a Mini Review
- ডা. সাদিয়া আফরিন
রেসিডেন্ট এমডি (চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলসেন্ট সাইকিয়াট্রি),
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।
আরও দেখুন…


