জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন নতুন পরিবেশে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে, নতুন অবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হয়। অনেকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে সহসা খাপ খাওয়াতে পারেন না। মনের সঙ্গে এই যুদ্ধে আপনাকে জয়ী হতে হবে। নতুন পরিবেশে আপনার অনিশ্চিত এবং উত্তেজিত উভয় অনুভূতি হতে পারে। আপনি যদি সফলভাবে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে চান তবে কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত। যেমন: নতুন কিছু গ্রহণ করে নেয়ার মানসিকতা রাখুন। প্রাথমিকভাবে সমস্যাটা মানসিক। তাই মনকে মানাতে হবে সবার আগে। নতুন পরিবেশে সবকিছুই নতুন তাই বাহ্যিক এই পরিবর্তন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তারচেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক পরিবর্তন। তাই সবার আগে আপনার মনকে প্রস্তুত রাখুন।
নতুন পরিবেশ সম্পর্কে আপনি যত তাড়াতাড়ি জানতে পারবেন ততো দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেয়া সহজ হবে। এজন্য আপনাকে প্রথমেই সেই পরিবেশের লোকজনের আচার-আচরণ, ওঠা-বসা, সমাজ-সংস্কৃতি সবকিছু সম্পর্কে তথ্য জানতে হবে। এই তথ্য আপনাকে নতুন পরিবেশ এবং সেখানকার মানুষদের বুঝতে সাহায্য করবে। নতুন কোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। তারপরও মানিয়ে নেয়া জরুরি। এজন্য আপনাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। কেউই দ্রুত সবকিছু বুঝতে এবং মানিয়ে নিতে পারে না। কোনো কিছুতেই তাড়াহুড়ো করবেন না।
নতুন জায়গায় গিয়ে সবার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করুন যাতে অন্যরা আপনাকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সংকোচ বোধ না করে। কেউ এগিয়ে না আসলে আপনিই এগিয়ে যান। এতে করে আপনার গ্রহণযোগ্যতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। আপনার আশেপাশের নতুন লোকজনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক মনোভাব এবং সেইসঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ আপনার নতুন পরিবেশকে উপভোগ্য করে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সবার সাথে সহজ ও সাবলীল সম্পর্ক আপনার নতুন পরিবেশকে দ্রুত আনন্দময় করে তুলবে। সবার সাথে আন্তরিক হলে খুব সহজেই নিজেকে বাপ বাইয়ে নেয়া সম্ভব। তাই বলে শুরুতেই সবাইকে আপন ভেবে সব দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলার অথবা শত্রু মনে করে এড়িয়ে যাওয়ার দরকার নেই। এক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা শ্রেষ্ঠ উপায়।। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সবার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন। নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে গিয়ে আপনার আচরণেও কিছু পরিবর্তন করতে হবে এবং সেটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে হবে। অর্থাৎ পরিবেশ পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবেশ অনুযায়ী আপনার পূর্বের কিছু অভ্যাসেরও পরিবর্তন করতে হতে পারে।
আপনাকে খোলা মনের অধিকারী হতে হবে। বোলা মন-মানসিকতা আচরণে নমনীয়তা নিয়ে আসে, আঘাত এড়াতে সাহায্য কওে; ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন সংস্কৃতিকে জানতে এবং সেখান থেকে শিখতেও সহায়তা করে। খোলা মনের ভাবনা বিভিন্ন সংস্কৃতির (বিশ্বাস, আচরণ, যোগাযোগ শৈলী, অঙ্গভঙ্গি, ক্ষমতা পার্থক্য ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন পরিবেশের মানুষদের আরো ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
আতত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করুন। একইসঙ্গে নিজের দুর্বলতাগুলোও কাটিয়ে উঠুন। আপনি যতক্ষণ না নিজ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠছেন, ততক্ষণ আপনি নিজেকেই আবদ্ধ করে রাখছেন। পরিবেশ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপনার জীবনের নতুন কিছু ঘটবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আপনার নতুন পরিবেশকে পুরোনো পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করবেন না। বরং আপনার নতুন পরিবর্তনের বিষয়ে আশাবাদী হোন।
পর্যবেক্ষণ দক্ষতা ব্যবহার করুন। যেহেতু আপনাকে নতুন পরিবেশে বিভিন্ন নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে তাই অন্যরা পরিস্থিতিগুলোতে কীভাবে আচরণ করে সেটা আপনাকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং বুঝতে হবে। একটি নতুন পরিবেশে কাজ শেখাও সহজ নয়। এজন্য কখনো কখনো উদ্বিগ্ন বা হতাশ বোধ হতে পারে। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, এই অনুভূতিগুলো স্বাভাবিক, পরিস্থিতি নির্ভর এবং অস্থায়ী। আমরা যখন কোনো নতুন পরিবেশে প্রবেশ করি তখন আমরা আমাদের যোগ্যতাগুলো স্বীকৃত করতে চাই। এটা না করে নিজেকে শান্ত ও স্থির রাখার চেষ্টা করুন।
নিজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করুন। সবসময় সফল হতেই হবে এমন চিন্তা করা থেকে বিরত থাকুন। সফলতা কিংবা ব্যর্থতা মিলিয়েই আপনার জীবন। যদি আপনি ভুল না-ই করেন, তবে অনেক কিছুই আপনি শিখতে সক্ষম হবেন না। নিজের ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে দেখুন। হয়ত আপনার এমন কিছু গুণ আছে, যা বাকিদের নেই।
মাহজাবিন আরা শান্তা
প্রতিবেদক, মনের খবর।
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনেরখবর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য মনেরখবর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।
আরও দেখুন-




