‘স্ট্রোকে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে’

0
21
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

মনের খবর টিভির ‘আড়ালে থাকা স্নায়ু কথা’য় ১৭ নভেম্বর, রাত ১১ টায় প্রচারিত হয়েছে স্ট্রোকের ‘কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার’ পর্ব।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন ডা. ইফফাত ইকবাল নিঝুম, এমবিবিএস, সিএমইউ; জেনারেল প্র্যাকটিশনার।

আলোচক ছিলেন অধ্যাপক ডা. এমএস জহিরুল হক চৌধুরী। তিনি বিখ্যাত নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ। অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন-ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে। এই চিকিৎসক এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমসিপি (মেডিসিন, ইউএসএ), এমডি (নিউরো মেডিসিন), ফেলো-মুভমেন্ট ডিজঅডার ও বোটুলিনাম টক্সিন (ভারত)।

ডা. ইফফাত ইকবাল নিঝুম শুরুতেই জানান, ‘প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং প্রতি ৪ সেকেন্ডে ১ জন মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও বিশ্বজুড়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ কোটিরও বেশি। তাদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব নিয়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বেঁচে আছেন।’

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ লাখ। এই দেশে সরকারী হাসপাতালগুলোতে নানা রোগে যত রোগী মারা যান, তাদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শতকরা ২০ ভাগ।’

অধ্যাপক ডা. এমএস জহিরুল হক চৌধুরী ‘স্ট্রোক কী’-এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর একটি। স্ট্রোক হলো ব্রেনের একটি রোগ। তবে ভুল করে আমাদের দেশের ও সারাবিশ্বের অনেকেই মনে করেন এটি হার্টের রোগ। ফলে স্ট্রোক হলে তাদের অনেকেই হৃদরোগ হাসপাতাল বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে ছুটে যান।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মস্তিস্কের যে রক্তনালীগুলো রক্ত সরবরাহ করে, সেগুলোতে কোনো অসুবিধা হলে, যেমন রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হলে, রক্ত চলাচলের পথে রক্ত জমাট বাঁধলে, কোনো ধমনী বা শিরা ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হলে-এই অসুবিধাগুলোকে আমরা চিকিৎসকরা স্ট্রোক বলি। রক্তজমাট ও শিরা ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ এই দুই ধরণের স্ট্রোক হয়ে থাকে। যেখানে বা মস্তিস্কের যে অংশে এই সমস্যা হয়, সেখানের কার্যক্ষমতা লোপ পায়। আমাদের শরীরের এক হাত বা এক পা পঙ্গু হয়ে যায় বা কথা জড়িয়ে যায়। তখন একে স্ট্রোক বলি।’

তিনি পরিস্কার করে জানিয়েছেন, ‘রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধা-এই দুই ধরণের স্ট্রোকে মানুষ আক্রান্ত হন।’

অধ্যাপক ডা. এমএস জহিরুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘স্ট্রোক একটি বিধ্বংসী রোগ। এই রোগে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। ফলে মানুষকে বোঝানোর জন্য আমরা একটি শব্দ বলি-বি ফাষ্ট। কোনো রোগী বা মানুষ হঠাৎ করে ভারসাম্যহীন হলে, ভারসাম্যহীনতা অনুভব করলে আমরা বলি আপনি স্ট্রোক করেছেন। হঠাৎ করে কারো চোখ অন্ধ হয়ে গেলে, চোখে ঝাঁপসা দেখলে মনে করা হয়, তিনি স্ট্রোক করেছেন। মুখমন্ডলের কোনো একপাশ হঠাৎ ঝুলে গেলে অথবা অবশ হয়ে গেলে তিনি স্ট্রোক করেছেন বলি। এক হাত বা এক পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে বা অবশ হয়ে গেলে স্ট্রোক করেছেন বলি আমরা। কথা হঠাৎ জড়িয়ে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন বলি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় প্রচন্ড মাথা ব্যথা হয়, অনেক সময় প্রচণ্ড বমি হয়। তখন আমরা মনে করি, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন বা স্ট্রোক করেছেন।’

‘এক মিনিটে ১৯ লাখ নিউরণ মারা যায় বলে যেকোনো স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূণ। ফলে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সাথে, সাথে যেকোনো মানুষকেই হাসপাতালে বা এমবিবিএস চিকিৎসকের যেতে হবে। নচেৎ নিউরণ, স্নায়ুকোষ নষ্ট হচ্ছে বলে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি প্রতি সেকেন্ডে বাড়তে থাকে। তাতে তিনি তত বেশি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হবেন’-বলেন তিনি।

স্ট্রোকের কারণ জানাতে গিয়ে দেশের প্রখ্যাত এই চিকিৎসক বলেছেন, ‘যাদের ডায়াবেটিস থাকে, ব্লাড প্রেশার বেশি থাকে যাদের, রক্তে চবি বেশি থাকলে, অতিরিক্ত ধূমপান করলে, মদ্যপানে আসক্ত, মাদকে আসক্ত এবং শারীরিকভাবে কাজ না করার কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। বয়স্ক এবং পুরুষের স্ট্রোক বেশি হন’-তিনি জানান।

অধ্যাপক ডা. এমএস জহিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘২০১৭ সালে পুরো বাংলাদেশে করা এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ফরমালিনযুক্ত ফলমূল ও শাকসবজি স্ট্রোকের জন্য ৬৫ ভাগ দায়ী। এখানে ব্লাডপ্রেশার ও ডায়াবেটিস স্ট্রোকের জন্য বেশি দায়ী। বাংলাদেশে ৪০ বছরের নীচে ১০ শতাংশ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। হৃদরোগ, রাগ, উত্তেজনা, চাপ মাদকাসক্তি, মদ্যপান ইত্যাদির কারণে তরুণদের স্ট্রোক বেশি হয়। এখন শিশুরা বাড়িতে বসে থাকে। তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। ফার্স্টফুড, পরটা, সিঙ্গারা, সমুচা, একই তেলে বারবার খাবার বানানো হলে তাতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমীক্ষায় আরো জানা গিয়েছে, বিশ্বে পঙ্গুত্বের জন্য সবচেয়ে দায়ী স্ট্রোক। মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ এটি।’

অধ্যাপক ডা. এমএস জহিরুল হক চৌধুরী সবাধুনিক চিকিৎসা বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে স্ট্রোকের তিন থেকে চার ঘন্টার মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে স্ট্রোকের সবাধুনিক চিকিৎসা থম্বোলিসিস প্রদানের সুবিধা আছে। এটি ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে প্রায় এক বছর আগে থেকে আছে। ১শর বেশি রোগীকে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের ৯৫ জন হেঁটে বাড়িতে গিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানটির সায়েন্টিফিক পাটনার ছিল জেনারেল ফামাসিউটিক্যালস লিমিটেড। পাওয়ার্ড বাই ছিল সেরেটন (ভিমপসেটিন)।

১৮ নভেম্বর, ২০২১; ওমর শাহেদ।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

more

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here