রাবি’তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে

0
100
মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাকালীন দীর্ঘ ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছুটিশেষে ক্যাম্পাসে প্রাণচঞ্চলতা যেমন ফিরেছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে পূর্বের তুলনায় ৮ গুণ। গত তিন বছরে যেখানে মোট মানসিক রোগীর সংখ্যা ছিলো ৫০০ জন, সেখানে গেল দুই মাসেই এই সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৭০০ জনে। মানসিক সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ারুল হাসান সুফী এমনটাই জানিয়েছেন- ‘গত দুইমাসে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের মত মানসিক সমস্যাগ্রস্থ শিক্ষার্থী আমারদের কাছে এসেছে। তবে এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত যেভাবে বেড়েই চলছে সেটা সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যেখানে করোনা মহামারীর পূর্বে দিনে সর্বোচ্চ দুই জন রোগী আসতো সেখানে বর্তমানে দিনে ১০ জনেরও অধিক রোগী আসছে। যাদের মধ্যে ৪৮% পুরুষ ও ৫২% নারী শিক্ষার্থী।’

এই মানসিক সমস্যার কারণ উল্লেখ করে অধ্যাপক সুফি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরপরই প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষা ও একটানা ক্লাস শুরু হয়ে যায়। যার ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনার ব্যাপক চাপ পরে। এছাড়াও আমাদের অনেক শিক্ষকদের মধ্যে দেড় বছরের পড়াশোনা, দেড় মাসে শেষ করিয়ে ফেলার প্রবণতাই এমন পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশেই দায়ী বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও স্বীকার করেছেন এই কথা৷ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ক্যাম্পাস খোলার পর পরই পরীক্ষা শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে বেশ অনেকটা বিপর্যস্ত তারা। পড়তে বসলে মনে হয় কিছুই পড়েননি, কিছুই পারবে না পরীক্ষায়। এসব কিছু মিলিয়ে মারাত্মক চাপে আছে তারা। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরে কমপক্ষে এক মাস সময় দেওয়া উচিৎ ছিল প্রশাসনের। কিন্তু বিভাগগুলো তা না করে ক্যাম্পাস খোলার পরপরই পরীক্ষা শুরু করে দেয়। যার কারণে পড়াশুনা করলেও পরীক্ষার খাতায় যথেষ্ট লেখা সম্ভব হচ্ছে না এবং মানসিক দিক থেকে অনেকটা দুর্বল মনে হচ্ছে নিজেদের।

তবে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে অধ্যাপক সুফী বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি সেমিনার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের মানসিক সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি শিক্ষকদের সাথে শেয়ার করতে পারে। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্য খাতে দেশের নির্ধারিত বাজেটের পরিমাণকে ০.৩℅ থেকে নূন্যতম ৩% এ উন্নীত করা এবং সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করণে যথেষ্ট অর্থের বরাদ্দ রাখা।

সুত্রঃ ইন্টারনেট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪
Previous article১ লাখ ৩শ ৬ জন যুক্তরাষ্ট্রে বেশি মাদক নেওয়ায় মারা গিয়েছেন
Next article‘স্ট্রোকে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here