মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় স্কুলগুলোকে আরো সোচ্চার হতে হবে

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় স্কুলগুলোকে আরো সোচ্চার হতে হবে

১৬ বছর বয়সের গ্রেস গত নয় বছর ধরে নিপীড়িত। সে দুবার স্কুল পরিবর্তন করেছে, কয়েকবার আত্নহত্যা করার চেষ্টা করেছে এবং উদ্বিগ্নতা এবং বিষন্নতার জন্য চিকিৎসা নিয়েছে। একটি মুহূর্তে সে বলেছে, “এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যে আমার জন্য সেখানে কেউ ছিল না, আমি নিজেকে খুব নিচু ভাবছিলাম, আমি আর যেতে চাচ্ছিলাম না স্কুলে”।
বিবিসি স্কুল রিপোর্ট এর গবেষণায় দেখা গেছে যে, শতকরা অর্ধেক কিশোর কিশোরীরা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ঘটনা একা একা সামলানোর চেষ্টা করে থাকে। এবং তৃতীয় কেউ বলেন তারা পর্যাপ্ত সাহস পায় না তাদের শিক্ষকের সাথে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে।
গ্রেস যখন কোনভাবেই আর মেনে নিতে পারছিল না তখন সে একটি ‘সুইসাইড ভিডিও’ বানায় এবং ইউটিউবে আপ্লোড করে যেখানে আত্নহত্যা করার প্রচেষ্টা চালায়। সে বলে, “আমি প্রায় প্রতিদিন মার খেতাম। আমার শিক্ষকদের কিছু বলতে পারতাম না কারণ তারা কিছু করত না। এমন ও হয়েছে আমি আমার শিক্ষকদের আমার অগোচরে আমাকে নিয়ে কথা বলতে শুনেছি”।
তার মা সারাহ এর কথা অনুসারে গ্রেস বিভিন্ন গানের মাধ্যমে কিছুটা সাহায্য পেয়েছিল। আর কিছুটা সাহায্য পেয়েছিল কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে। তবে সে তার প্রথম দুটি স্কুল থেকে খুব কম সমর্থন পেয়েছিল। এবং ওর তৃতীয় স্কুলের পক্ষ থেকে খুব ভাল সমর্থন পেয়েছিল। যেখানে গ্রেস নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাজ করে প্রতিনিধি (এন্টি বুলিয়িং এমবাসেডর) হিসেবে। সে ‘ন্যাশনাল এন্টি বুলিয়িং ইউথবোর্ড’ এর একজন সদস্য।
কমরেস এর গবেষকরা বিবিসি স্কুল রিপোর্ট এর জন্যে ১০০০ জনের মধ্যে একটি জড়িপ করে। জড়িপটি করা হয় ১১ থে ১৬ বছরের কিশোর কিশোরীদের উপর-
শতকরা ৭০ ভাগ কিশোর কিশোরীরা গত এক বছরে নানা সময়ে নেতিবাচক অনুভূতির স্বীকার হয়েছেন। দুঃখ অনুভব করেছেন, অসুখী ছিলেন, উদ্বিগ্নতা, ভয় এবং নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন। শতকরা ৪৭ ভাগ দুঃখ বোধ করেছেন এবং অসুখী ছিলেন, শতকরা ৩৪ ভাগ চিন্তায় ছিলেন তারা দেখতে কেমন, শতকরা ৪১ ভাগ উদ্বিগ্নতায় ভুগেছেন।
শতকরা ১১ ভাগ বলেছেন তারা সবসময় অসুখী।
শতকরা ৮৬ ভাগ বলেছেন তারা সবসময় সুখী।
তারা বলেন স্কুলগুলোতে ছাত্র ছাত্রীদের সমর্থন করার জন্য যে বিষয়টি করা সবচেয়ে গুরত্বপুর্ণ তা হচ্ছে এমন কাউকে নিয়গ দেয়া যার সাথে গোপনে সব ধরণের গোপন কথা বলা যাবে, যাকে ভরসা করা যাবে।
শতকরা ১৮ ভাগ বলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যে সমর্থন পাওয়া গেছে তা খুবই নগন্য।
শতকরা ৬৬ ভাগ বলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে সমর্থন পাওয়া গেছে তা ভাল।
অর্ধেক বলেছেন তাদের একজন শিক্ষক বরাদ্দ করা আছে যার সাথে তারা তাদের যে কোন সমস্যার কথা বলতে পারে।
শতকরা ১৫ ভাগ বলেছেন তাদের স্কুল আগে যারা এই স্কুল থেকে পড়াশুনা করে গেছে তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
৭০০ শিক্ষকের উপর একটি জরিপ করা হয়েছে-
প্রায় তিন চতুর্থাংশ শতকরা ৭৩ ভাগ শিক্ষক মাঝে মধ্যে অথবা কালে ভদ্রে তাদের ছাত্র ছাত্রীদের ভাল থাকা নিয়ে চিন্তা করে।
এক চতুর্থাংশ শিক্ষকের একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ছাত্রের সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে অথবা কি ধরণের ব্যভার করতে হবে এর উপর কোন প্রশিক্ষন নেই।
কিছু সংখ্যক শিক্ষক বলেছেন তারা জানেন না কখন অথবা কোন পর্যায়ে গেলে একজন মানসিক সমস্যায় ভোগা ছাত্রের সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।
জানুয়ারিতে থেরেসা মে যুবক যবতী এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় কি ধরণের আচরণ করতে হবে এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই পরিকল্পনাটিতে কিভাবে স্কুল এবং এনএইচএস এর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করা যায় তা বলা রয়েছে। প্রত্যেকটি স্কুলের শিক্ষকদের ‘মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড ট্রেনিং’ এই প্রশিক্ষনটি নিতে হবে।
গতবছর ‘রিসার্চ ফর দ্যা চিলড্রেন’স কমিশনার ফর ইংল্যান্ড’ এ দেখা গেছে যে এক তৃতীয়াংশের বেশি শিশুরা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাইয় কোন সমর্থন অথবা চিকিৎসা পায় নি।
বৃহষ্পতিবারে কমিশনার এনি লংফিল্ড বলেন, “বিবিসি স্কুল রিপোর্ট টি অনেক দুঃখজনক কাহিনী আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। সেখানে খুব ভয়ানক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে শিশুরা কোণ ধরণের সমর্থন পায় নি অথাবা তাদের কোন ধরণের সমর্থন দেয়ায় অস্বীকার কয়ারা হয়েছে”। তিনি জরুরি ভিত্তিতে স্কুল, সরকার এবং এনএইচএস কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহবান জানিয়েছেন।
স্কুলগুলোর প্রয়োজন আরো ভাল কর্মকর্তা যাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যথেষ্ট প্রশিক্ষণ রয়েছে যেন তারা ছাত্র ছাত্রীদের যে কোন সমস্যায় শারীরিক এবং মানসিক সমর্থন দিতে পারে। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না এটি দেখার জন্য আবারও সব স্কুল পরিদর্শন করা উচিত।
তথ্যসূত্র- বিবিসি
(http://www.bbc.com/news/education-39267193)

রুবাইয়াত মুরসালিন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here