প্রায় প্যানিক অ্যাটাক হয়, তাই বিদেশে পড়তে যেতেও ভয় করছে

0
72

প্রশ্ন: স্যার, আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স ১৯। আমি এইচএসসি ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী। গত ১৯ সালের করোনার সময় অনেক বেশি সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়ে ছিলাম যার ফলে আমার প্রথমবার প্যানিক এটাক হয়। তখন আমি বুঝতামই না প্যানিক এটাক কী। পরে আস্তে আস্তে বুঝেছি। পরে ওষুধ খেয়ে অনেকটাই সেরে যায় আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সমস্যাটা দেখা দেয় গত ২ মাস আগে হঠাৎ আমি মাথা ঘোরে পড়ে যাই। ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে পারি আমার প্রেশার হাই। এখন আমি অনেক ভয়ের মধ্যে আছি। আমার অনেক স্বপ্ন আমি বিদেশে পড়তে যাবো, কিন্তু সবসময় এই ভয়টাই কাজ করে যে ওখানে গিয়ে যদি আমার এরকম সমস্যা হয় আমি তখন কি করবো।যদিও আমি এখন অনেক কন্ট্রোল করে খাওয়া-দাওয়া করি। আমার মনে হয় আমি যদি মরে যাই তখন কি হবে। পরিবারের মানুষগুলো ছাড়া থাকবো কিভাবে, তাদের প্রতি আমার অনেক মায়া। এত এত টেনশনের জন্য আমার পড়াশোনাও ব্যাঘাত হচ্ছে। আর কোনো কিছু ভালো লাগে না। দয়াকরে আমাকে পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করুন।

পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা. মো. সালেমির হোসেন চৌধুরী (অবসরপ্রাপ্ত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ)

উত্তর: ওয়ালাইকুমুসসালাম। ধন্যবাদ তোমার একটি সুন্দর প্রশ্নের জন্য। তুমি উল্লেখ করেছো, তোমার বয়স ১৯ বছর। ২০১৯ সালের করোনা ছড়িয়ে পড়ার শুরু থেকে তুমি খুব ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ো এবং তোমার ধারণা হয়েছে যে, তোমার প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে। তারপরে ওষুধ ব্যবহারের ফলে তোমার অবস্থা অনেকটা উন্নতি হয়ে যায়। তবে গত দুই মাস আগে তুমি হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে যাও এবং ডাক্তারের পরামর্শ মতে তোমার উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে এবং এতে তুমি খুব ভয় পেয়ে যাও, যা অদ্যাবধি তোমার মধ্যে অবস্থান করছে। এমন কি মৃত্যু ভয়ও তোমার মধ্যে তীব্রভাবে এসে পড়ে এবং তোমার মনে হয় যে, তুমি যদি মরে যাও তবে পরিবারের মানুষগুলো ছাড়া কিভাবে তুমি থাকবে?
আসলে তুমি তোমার রোগ নিয়ে অতিরিক্ত বেশি চিন্তা করে ফেলেছ। আসলে এটি একটি অতি সাধারণ মানসিক রোগ, যা থেকে ভয়ের বিশেষ কোনো কারণ নেই। মানসিক চিকিৎসাবিদদের মতে এর নাম phobic anxiety disorder with secondary depression। এ রোগে মৃত্যুর কোনো ভয় নেই। নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে গেলে তুমি সম্পূর্ণরূপে সুস্থ থাকবে ইনশাআল্লাহ। নিম্নে উল্লেখিত ঔষধগুলি চালিয়ে গেলে তুমি সম্পূর্ণরূপে সুস্থ থাকবে এবং তোমার পড়াশোনা সঠিকভাবে চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে। ঔষধগুলি নিম্নরূপ :
Tab. Escitalopram 10mg
সকালে একটি ও রাতে দুটি, Tab. Maprotiline 25mg
২ টি করে রাতে, Tab. Propranolol 40mg
সকালে একটি ও রাতে একটি এবং সেই সাথে Tab. Rabeprazole 20mg খাওয়ার আগে সকালে একটি ও রাতে একটি করে। সেই সাথে তোমার সাইকো থেরাপিরও প্রয়োজন আছে, যা একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে তোমার গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আর তুমি তোমার প্রশ্নে আরও উল্লেখ করেছো যে তোমার উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে। আসলে এ ধরনের মানসিক রোগ বেড়ে গেলে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা রোগের লক্ষণগুলি কমে গেলে এই রক্তচাপ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। সেজন্য এই রক্তচাপের জন্য কোনো আলাদা ঔষধ সেবন করার প্রয়োজন নেই। তবে তোমাকে অবশ্যই একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তোমার সুস্থতা কামনা করে শেষ করছি। ধন্যবাদ তোমাকে।

Previous articleনবীন সাইকিয়াট্রিস্টদের সংবর্ধনা দিল বিএসএমএমইউয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগ
Next articleশৈশব থেকে আবেগের ক্রমবিকাশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here