ট্রিটমেন্ট রেজিস্ট্যান্ট প্যানিক ডিজঅর্ডার

0
7
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

প্যানিক ডিজঅর্ডার চিকিৎসায় ভালো না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

প্যানিক ডিজঅর্ডার বা তীব্র মাত্রার উদ্বিগ্নতা একটি অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার যা নাকি মাঝে মাঝে হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি তটস্থ থাকেন এই ভয়ে যে আবার হয়ত এরকম অ্যাটাক বা প্যানিক অ্যাটাক হবে। প্যানিক অ্যাটাকের কিছু লক্ষণ হলো বুক ধড়ফড় করা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া, কাপঁুনি, শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যথা বা অস্বস্তি, মাথা ঝিমঝিম করা, গরম বা ঠান্ডা অনুভূতি, হাত-পা অবশ লাগা এবং এখনি মরে যাব এমন অনুভূতি।

এগুলোর সবগুলোই একজনের মাঝে থাকবে এমন নয়, কমপক্ষে চারটি বা তার বেশি যদি থাকে তাহলে আমরা তাকে প্যানিক অ্যাটাক বলতে পারি। এই প্যানিক অ্যাটাক যদি মাসে একাধিক বার হয় এবং সবসময় তটস্থ থাকে এনিয়ে যা কিনা যা তার আচার আচরণে লক্ষণীয় পরিবর্তন আনে তখন তাকে প্যানিক ডিজঅর্ডার বলা হয়। ধারণা করা হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায় ৩.৫% থেকে ৫% লোক এই সমস্যায় আক্রান্ত এবং নারীরা পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ হারে এই সমস্যায় ভুগে থাকেন।

কেন এই সমস্যা হয় তার ব্যাখ্যায় বলা হয়ে থাকে যে, আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশ ভীতি বা দুশ্চিন্তার জন্য দায়ী সেখানে কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থের তারতম্যের কারণে প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে এবং এই সার্কিটের কারণে এভয়েডেন্স বা এড়িয়ে চলার ব্যবহার বৃদ্ধি পায় যেখানে বা যে কারণে এরকম অ্যাটাক হতে পারে সেসব বিষয়। এক তৃতীয়াংশ রোগী শারীরিক বা যৌন হয়রানির অভিযোগ করে। প্যানিক ডিজঅর্ডারের সাথে অন্যান্য মানসিক রোগও থাকতে পারে যেমন বিষণ্ণতা, অন্য উদ্বিগ্নতাজনিত রোগ এবং মাদকাসক্তি।

প্যানিক ডিজঅর্ডারের চিকিৎসা ঔষধ এবং সাইকোথেরাপি। ঔষধ শুরু করার সাথে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন যেমন-যথাযথভাবে রোগী কে রোগ সম্পর্কে ধারণা দেয়া, দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, পরিবারের সদস্যদের রোগ সম্বন্ধে ধারণা দেয়া এবং তাদের করণীয়। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে রোগের পরিবর্তনগুলো লিপিবদ্ধ করা উচিত, রোগের তীব্রতা অনুযায়ী রোগীর জীবনযাত্রার মান কেমন তা নিয়েও প্রশ্ন করা উচিৎ। এক্ষেত্রে কিছু এসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করা যায়। সাধারণত চার ধরনের ঔষধ ব্যবহার করা হয়- Selective serotonin reputake (SSRI), Selective norepinephrine serotonoin reuptake inhibitors (SNRI), Tricyclic Antidepressants (TCA) and Benzodiazepines (BDZ)। পূর্ব চিকিৎসার ইতিহাস, ঔষধের মল্য, সমসাময়িক মেডিক্যাল বা সাইকিয়াট্রিক অন্য কোনো সমস্যা, ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি বিষয় লক্ষ রেখে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। সাইকোথেরাপি হিসেবে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি দেয়া হয় কমপক্ষে ১২টি সেশনের কথা বলা হয়েছে কার্যকর চিকিৎসার জন্য।

পর্যাপ্ত সময় এবং পরিমিত ঔষধের পরেও কিছু কিছু রোগীর প্যানিক ডিজঅর্ডারের তেমন লক্ষণীয়ভাবে পরিবর্তন বা উন্নতি হয় না তাদেরকে ট্রিটমেন্ট রেজিস্ট্যান্স প্যানিক ডিজঅর্ডার বলে। সাধারণত ৬ সপ্তাহ একটা ঔষধ চালানোর পর রেসপন্স না পেলে অন্য আরেক গ্রুপের ঔষধ শুরু করতে বলা হয়। এ সংক্রান্ত গবেষণায় কিছুটা অভাব থাকায় একদম হলফ করে বলা যাচ্ছে না ঠিক কোন ঔষধটাই এক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে ছোট খাটো কিছু গবেষণার প্রেক্ষিতে বলা যায়, Mirtazapine,

Reboxetine, Duloxetine এসব ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও আরো কিছু এন্টিকনভালসেন্ট ড্রাগসের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু সবার প্রথমে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে তা হলো-রোগ নির্ণয়ের সঠিকতা, অন্য কোনো রোগের উপস্থিতি, মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্বের সমস্যা ইত্যাদি।

চিকিৎসার কার্যকারিতা অনেকাংশেই নির্ভর করে রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা রোগীর এবং তার পরিবারের, সঠিক ফলোআপে থাকা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের যত্নসহকারে টাইট্রেশন বা ঔষধ কমানো, অন্যান্য রোগ থাকলে তার চিকিৎসা করা। তাহলে বেশিরভাগ রোগীই প্রচলিত চিকিৎসার সুফল ভোগ করতে সক্ষম হবেন।

Reference

Management of Treatment-Resistant Panic Disorder

Richard L. Holt, MD and R. Bruce Lydiard, PhD, MD

Published online 2007 oct.

PMCID: PMC2860526

PMID: 20428311

সাদিয়া আফরিন

রেসিডেন্ট এমডি (চাইল্ড এন্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি)

বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্রঃ মনের খবর মাসিক ম্যাগাজিন, ৪র্থ বর্ষ, ১০ম সংখ্যায় প্রকাশিত।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে 

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here