শিশুর বিকাশে প্রয়োজন পর্যাপ্ত খেলাধুলা

শিশুর বিকাশে প্রয়োজন পর্যাপ্ত খেলাধুলা
শিশুর বিকাশে প্রয়োজন পর্যাপ্ত খেলাধুলা

খেলাধুলা সময় নষ্ট করা নয়। এমনকি ছোট শিশুদের ব্যস্ত রাখারও কোন উপায় নয় অথবা বাবা-মা যখন নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত তখন তাদেরকে ব্যস্ত রাখা নয়। বরং স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ও ভাল ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্যে খেলাধুলা জরুরী। অন্য কোন কার্যাবলী যা না পারে খেলাধুলা তাই করতে পারে। খেলাধুলা শিশুকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশের সুযোগ দেয়। যে সব শিশুরা সারাদিন খেলে তারা, যাদের খেলাধুলা করার সুযোগ কম তাদের চেয়ে পরবর্তী জীবনে ভালভাবে খাপ খাওয়াতে পারে।

ছোট শিশুর জীবনে খেলাধুলা অত্যন্ত মূল্যবান। খেলাধুলার মাধ্যমে ছোট শিশুরা যে ধরনের উপকার পায় তা হল খেলাধুলা শরীরের অতিরিক্ত শক্তি বের করে দেয়, শরীরের বিভিন্ন অংশের বিকাশ হয়; যেমন- হাড়, পেশী এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গ। ব্যায়াম হয় ফলে ক্ষুদা বাড়ে এবং ঘুম ভাল হয়। শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেখায়। সারা জীবনের জন্য কার্যকরী অনেক দক্ষতার বিকাশ হয়। সক্ষমতার বিকাশ হয়। সৃজনশীলতার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। পরিবেশের বিভিন্ন জিনিসের অর্থ আবিষ্কার করতে সুযোগ দেয়। রাগ, ভয়, হিংসা এবং দুঃখ থেকে অব্যাহতি পেতে উপায় হিসেবে কাজ করে। অন্যান শিশুদের সাথে কীভাবে মিশবে তা শেখার সুযোগ হয়। ভাল খেলোয়াড় হতে শেখায়, তার অর্থ হল জয়-পরাজয় মেনে নিতে পারে। আইন কানুন অনুসরণ করতে সুযোগ দেয় ইত্যাদি।

যদি শিশুরা খেলাধুলা থেকে উপকার পেতে চায় তবে তাদের অতিরিক্ত শক্তি থাকতে হবে। খেলাধুলার সময় শিশু শান্তভাবে থাকে, যথেষ্ট সরঞ্জাম, খেলার জায়গা এবং খেলার সঙ্গী থাকতে হবে। খেলার বিভিন্ন রকম তালিকা থাকতে হবে। কিন্তু এই বিভিন্নতার সাথে সমন্বয় থাকতে হবে। গুরুত্ব অনুসারে খেলার প্রয়োজনীয়তাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় : শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখে সামাজিকতা শিক্ষা দেয়, নৈতিকতার সুষ্ঠু বিকাশ হয় এবং জ্ঞান অর্জন করে ।

শারীরিক সুস্থতা
খেলাধুলা শরীরকে ভাল রাখে। শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়ার ফলে ভাল ব্যায়াম হয়, রক্তচলাচল ভাল হয়, মাংশপেশী সতেজ ও সবল হয় এবং দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিপক্ব হয়। অঙ্গসঞ্চালন খেলা মাংসপেশীর সমন্বয় সাধনের সাহায্য করে এতে মাংসপেশীসমূহ শক্ত হয়। ছবি আঁকার ফলে হাত এবং চোখের সমন্বয় সাধন হয়। শিশুর হাত, বাহু, চোখ এবং মাংশপেশীর সমন্বয় সাধন হয়। এতে দক্ষতার প্রশিক্ষণ এবং ব্যায়াম হয় ফলে হাতের সঞ্চালন প্রক্রিয়া ভাল হয়। মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা বাড়ে। প্রধানত খেলার মাধ্যমেই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিপকৃতা সাধিত হয়।

মানসিক সুস্থতা
খেলাধুলা মনের জড়তা, দুঃখ ও বেদনা কমিয়ে দেয়। মানসিক অবসাদ দূর করে এবং কাজের জন্য মনকে সবল ও সতেজ করে। ক্লান্তি ও হতাশা দূর করতে যেমন বিশ্রাম ও নিদ্রার প্রয়োজন তেমনি জড়তা দূর করে শরীরকে সবল ও সতেজ করার জন্য খেলার প্রয়োজন। শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক রকম উৎকন্ঠা, উদ্বেগ ও অশান্তি দেখা দিতে পারে। খেলার মাধ্যমে দুঃখ, ক্ষোভ ভোলা যায় এবং আবেগ প্রকাশ করা যায়। শিশু বইয়ের চরিত্রের সাথে নিজেদের সনাক্ত করে একাত্ম হয়ে আবেগ প্রকাশ করতে পারে। গল্প করে, ছবি দেখে ভয়, ঘৃণা, আনন্দ এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে হালকা হতে পারে খেলা প্রয়োজন ও ইচ্ছা মেটাবার একটি ভাল উপায়। এতে রাগ, ভালবাসা প্রকাশ করা যায়। হিংসার বশবর্তী হয়ে অনেক সময় নিজের পুতুলকে মারে। এতে মনের ক্ষোভ মেটে এবং মনটা হালকা হয়, সুস্থ আবেগের বর্হিপ্রকাশ ঘটে। শিশুর মানসিক বিকাশ সুষ্ঠু হয়। সামাজিকতা শেখায়।

দলীয় খেলায় অংশগ্রহণ করে শিশু সামাজিক হয়। শিশু শিখে কিভাবে অন্যের সংগে মিশতে হয়, কীভাবে তাদের সাথে সহযোগিতা করতে হয়। নেতৃত্ব নেয়ার ক্ষমতা অর্জন করে এবং নিজের কর্মদক্ষতা তুলনা করতে পারে। খেলার মাধ্যমে ভাবের আদান প্রদান হয়, দলের রীতিনীতি শেখে। গঠনমূলক খেলায় শিশুরা নিজেদের সমালোচনা করতে শেখে। নাটকীয় খেলার মাধ্যমে সামাজিক বোধের সৃষ্টি হয়। অন্যথায় শিশু একাকী ও অসামাজিক হয় ।

নৈতিক শিক্ষা লাভ
শিশুরা পরিবার থেকেই নৈতিকতা শিক্ষা লাভ করে থাকে। খেলতে যেয়ে শিশু খেলার রীতিনীতি এমন সুষ্ঠুভাবে পালন করে যা পরিবারের রীতিনীতি থেকে কঠোর। শিশুকে দলে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তাকে হতে হবে সত্যবাদী, সৎ, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং ভাল খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব। খেলার দলে থাকতে হলে হারজিত নিয়ে দুঃখ না করে খেলোয়াড়সুলভ আচরণ করতে হয়। মন খারাপ করা ভাল খেলোয়াড়ের লক্ষণ নয়। তাকে দলের কঠোর রীতিনীতি পালন করতে হবে। এভাবেই শিশুর নৈতিক চরিত্র গড়ে ওঠে।

জ্ঞানের বিকাশ
খেলার মাধ্যমে শিশু স্বাধীনভাবে এবং আগ্রহ সহকারে স্বেচ্ছায় শেখে। শিশুর মধ্যে অবস্থিত সহজাত শক্তি এবং প্রবৃত্তিই হচ্ছে শিক্ষার উৎস।

বিভিন্ন ধরনের খেলনা দিয়ে খেলার ফলে শিশু খেলার সরঞ্জামের সাথে পরিচিত হয় এবং চিনতে শেখে। বয়স বাড়ায় সাথে সাথে বিভিন্ন খেলায় পারদর্শী হয়। বিভিন্ন ধরনের খেলা আবিষ্কার করতে যেয়ে অনেক তথ্যের অধিকারী হতে পারে। বই পড়া, সক্রিয় খেলা, ছবি আঁকা, টেলিভিশন দেখা, ইত্যাদি শিশুর জ্ঞানের সম্প্রসারণ ঘটায়। এতে অনেক আনন্দ পায়। কার্টুন, বই, টেলিভিশন, সিনেমাতে যা দেখে তা আরও জানার জন্য আগ্রহী করে তোলে। নাটকীর খেলার মাধ্যমে সে বাস্তব জগৎ ও কাল্পনিক জগতের তফাৎ বুঝতে পারে এবং ভাষার বিকাশ ঘটে। নিজের ক্ষমতা ও দক্ষতার সাথে অন্যদের তুলনা করতে পারে। অনুসন্ধানমূলক খেলার মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজও চালিয়ে যেতে পারে। খেলার ভূমিকা পালন করে নিজের ভূমিকার সাথে পরিচিত হয়।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে 

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪

 

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here