এসেক্সুয়ালিটি আর যৌন অক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক

0
99
এসেক্সুয়ালিটি আর যৌন অক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক

এই বিশ্বে বহু মানুষ পরিচিত সমকামী, লেসবিয়ান বা গে এর মত শব্দ গুলির সাথে। কিন্তু তার অর্ধেকের বেশি মানুষ পরিচিত নন এসেক্সুয়াল বা অযৌনচিত্ত শব্দের সাথে। অনেকে বিশ্বাস করতেই পারেন না, পৃথিবীতে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যারা ছেলে কিংবা মেয়ে কারোর প্রতি কোন যৌন আকর্ষণ অনুভব করেন না। অনেকে আবার তাদেরকে দেগে দেন মানসিক রোগী হিসেবে। বিশেষ করে যারা এসেক্সুয়াল, তারা নিজেদের এই ক্ষমতা বুঝতে পারেন বিয়ের পর। অনেকেই লজ্জায় প্রকাশ করতে পারেন না, আবার অনেকেই শিকার হন ধর্ষণের।

এসেক্সুয়াল কী?

নারী কিংবা পুরুষ, যেকোন কেউ এসেক্সুয়াল বা অযৌন চিত্তের হতে পারেন। অর্থাৎ তিনি নারী কিংবা পুরুষ কারুর প্রতি কোনো আকর্ষণ অনুভব করবেন না। শারীরিক সম্পর্ক তাদের কাছে হবে অত্যাচারের মত। অনেকে স্পর্শ সহ্য করে নিলেও, এর বেশি দূরের মাপকাঠিতে পৌঁছাতে পারেন না।

সেক্স বিদ্বেষী

অনেকেই আবার বুঝেই উঠতে পারেন না যে তিনি এসেক্সুয়াল। যৌন সম্পর্কে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না অথচ জোর করে স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়। এটাও এক ধরনের শারীরিক নির্যাতন। আদতে এসেক্সুয়ালদের যৌন সম্পর্কের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ যে ব্যক্তি এই আকাঙ্ক্ষা বা আকর্ষণটাই কোনভাবে অনুভব করতে পারেন না, তাদের কাছে তার চাহিদা একেবারেই জিরো পার্সেন্ট। অনেকে আবার স্পর্শ সহ্য করতে পারেন কিন্তু সম্পূর্ণভাবে সেক্স বিদ্বেষী। তাই এসেক্সুয়ালরা সেক্সের সময় প্রচন্ড ক্ষেপে যান কিংবা বিরক্ত হন।

কেমন হয় এসেক্সুয়াল ব্যক্তিদের অনুভূতি?

সাধারণত অন্যান্য মানুষ সেক্সের যে প্রয়োজন অনুভব করেন, সেই ধারণার গণ্ডির একেবারে বাইরে থাকেন এসেক্সুয়ালরা। তবে কোন রোমান্টিক সম্পর্ক বা বন্ধুত্বের সম্পর্কে কিছু এসেক্সুয়াল ব্যক্তি আলিঙ্গন বা সামান্য শারীরিক ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেন। কিন্তু গভীরভাবে কোন শারীরিক সম্পর্ক তারা একেবারেই পছন্দ করেন না।

এসেক্সুয়ালদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিকোণ

আসলে পৃথিবীতে বহু মানুষের এই ধারণার সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান নেই। নিজেরাই এসেক্সুয়াল, তা অনেকে ইন্টারনেট থেকে জানতে পারেন। আবার অনেকে না বুঝতে পারার কারণে দিনের পর দিন শিকার হন শারীরিক নির্যাতনের। অনিক মহিলাকে সংসার বাঁচানোর তাগিদে দিনের পর দিন জোর করে স্বামীর সাথে সহবাস করতে হয়।

আবার অনেকে বুঝতে পারেন না তাদের এই অসুবিধার সঠিক সমাধানের জন্য কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন। মানসিক নাকি হরমোন থেরাপি ! সমাজের বহু মানুষ এসেক্সুয়ালদের নানান বিদ্রুপের মুখে ফেলে দেয়, তাদেরকে অক্ষম ব্যক্তি হিসেবে দেখতে থাকেন।

যৌন অক্ষমতা আর এসেক্সুয়ালিটির মধ্যে পার্থক্য

এসেক্সুয়ালিটি আর যৌন অক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। এসেক্সুয়ালিটির মধ্যে সমস্ত জৈবিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ভাবেই হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই ধরনের ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া একই রকম থাকে। তারা কখনোই পার্টনারের সাথে শারীরিক সম্পর্কের কোনো আকর্ষণ বোধ করেন না। এসেক্সুয়ালিটি নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই থাকতে পারে। অনেকে বিয়ের পরে বুঝতে পেরে চেপে রাখেন। আবার অনেকে প্রকাশ করেও সমাজের নানান কটুক্তিকে সহ্য করতে পারেননা।

এসেক্সুয়ালিটি নিয়ে কাজ করছেন পৃথিবীর নানান সংস্থা। বাংলাদেশেও রয়েছে এসেক্সুয়াল অ্যাসোসিয়েশন। ২০২০ সাল থেকে অফিশিয়ালি এই সংস্থা কাজ করে চলেছে। এখনো পর্যন্ত এই সংস্থার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫০ জনের কাছে।

করোনায় স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪

 

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।
       
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here