আত্মহত্যা

আত্মহত্যা
Protect candle flames

নিজের জীবন শেষ করার জন্য জেনে নিজের জীবন শেষ করাই হল আত্মহত্যা। অনেকে চেষ্টার পরও বেচে যায়। আবার অনেকে অন্যকে ভয় দেখাতে গিয়ে অনেক সময় মরে যায়। আত্মহত্যা সারা পৃথিবী জুড়েই একটা সামাজিক সমস্যা। অনেক দেশে এটাকে নিজেদের অধিকার মনে করে। তবে বেশীরভাগ দেশই এটা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে, তবে এটা সেই আদ্যিকাল থেকে ছিল এখনও আছে। আত্মহত্যা শুধু একটি জীবনের হত্যা নয়, এটা সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক সকল দিকেই প্রভাব ফেলে।
আমাদের ভিতরে একটা ধারণা আছে, যে যিনি আত্মহত্যার কথা মুখে বলেন তারা আত্মহত্যা আসলে করেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আত্মহত্যা করেন তাদের তিন ভাগের দুই ভাগই আত্মহত্যার আগে অন্যদের কাছে তাদের মনের চিন্তাটা বলেছেন। সুতরাং বিষয়টি মনে হয় আবার নতুন করে সাজিয়ে নিলে আমাদের উপকারই হবে। আবার অনেক ভয় দেখানোর জন্য বলতে থাকলেও এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং আত্মহত্যা ঘটে যায়।
যাদের পরিবারের অন্যকেও আত্মহত্যায় মারা গেছেন, যাদের নিজের জীবনে আর আশা নেই বলে মনে করেন, যারা চিন্তা ভাবনা না করেই সিধান্ত নিতে অভ্যস্ত, যারা নিজেরা বিষণ্ণ, ব্যাক্তিত্বে অসুবিধা, যারা নেশায় অভ্যস্ত, গুরুতর মানসিক রোগে ভুগতেছেন ইত্যাদি থাকলে তাদের ঝুঁকি বেশি।
সামাজিক কারণ হিসাবে দেখা গেছে, যারা সামাজিক ভাবে পীড়িত, লেখাপড়া কম, দাম্পত্য জীবনে কলহ, নিম্ন সামাজিক অবস্থা, সামাজিক অরাজকতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, পেশা জীবনে ব্যর্থতা সহ আরও কিছু বিষয় ঝুঁকি হিসাবে চিহিন্ত হয়েছে।
বিষণ্ণতা, নেশা, সিজোফ্রেনিয়া, ব্যাক্তিত্বের অসুবিধা, হতাশা, অনিরাময় যোগ্য মৃতুপথযাত্রী, ক্যান্সার সহ আরও কিছু রোগে আত্মহত্যার ঝুঁকি হিসাবে কাজ করে।
আত্মহত্যার পরিকল্পনা, আত্মহত্যার নোট লেখা, নির্জন জায়গায় আত্মহত্যার চেষ্টা, নির্জন সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা, বারবার আত্মহত্যার চেষ্টা, নিশ্চিত পদ্ধতি ব্যাবহার, মানসিক রোগ আত্মহত্যার সম্ভাবনা অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের চারপাশে আমাদের পরিচিত অনেক জীবনকে অকালে ঝরে যেতে দেখি, যেটা ওই হারিয়ে যাওয়া জীবনের সাথে সাথে ওই পরিবারের অনেক স্বপ্নই অজানায় হারিয়ে যায়। বেচে থাকা আত্মীয়দের আক্ষেপ আরও বাড়ে, যখন ওনারা স্বীকার করেন যে ওই ব্যাক্তি আত্মহত্যার আগে উনাদের বলেছিলেন কিন্তু উনারা ঠিক গুরুত্ব দেন নাই। আমাদের কাছে যে কেও আত্মহত্যার ইচ্ছা জানালে সেটা অবশ্যই গুরুত্বের সাথে নেওয়া ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার আওয়তায় সেবা গ্রহন প্রয়োজন। ছোট্ট একটা অবহেলায় যেন আর একটি জীবনও না ঝরে যায়।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here