সন্তান জন্মের প্রায় পুরোটা ধকল ও দায়িত্ব মাকেই নিতে হয়। মা হিসেবে নতুন ভূমিকা এবং এ গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন কিছু প্রস্তুতির। সন্তান প্রসবের পূর্বে কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। এটা অসম্ভব যে আপনি সবধরনের মানসিক পরিবর্তনের জন্য নিজেকে আগে থেকে প্রস্তুত করবেন কিন্তু মানসিক প্রস্তুতি যদি আগে থেকে নেয়া যায় তাহলে এটা ভবিষ্যতে আপনাকে সাহায্য করবে। সন্তান প্রসবের পূর্বে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখুন:
মানসিক চাপ হ্রাস করা: গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মানসিক চাপ গর্ভবতী মায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যার প্রভাব সন্তানের ওপরও পড়তে পারে। তাই এ সময় মানসিক চাপ কমানোর জন্য কিছু মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন করা যেতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম: এ সময়ে কম ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই যথেষ্ট পরিমাণে ঘুম যাতে হয় সেদিকে নজর রাখা। সার্বক্ষণিক সমর্থন দেয়া কারণ অনেক সময় সন্তান প্রসবের আগে মায়েরা একাকিত্ব বা অসহায় অনুভব করতে পারেন। এই সময় সম্ভব হলে তার কাছের কাউকে তার পাশে রাখলে মন ফুরফুরে থাকে।
স্বাভাবিক কাজকর্মে থাকা: অনেকে গর্ভধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে কাজকর্ম সব বাদ দিয়ে সারাদিন শুয়ে বসে থাকেন। এর ফলে মানসিক অবসাদ দেখা দিতে পারে। তাই এসময় স্বাভাবিক কাজকর্ম করা যেতে পারে।
পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা: মা হওয়ার পর একজন নারীকে বিভিন্ন পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে হয়। তাই এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকগুলিতে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করা।
দাম্পত্য সম্পর্ক: স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যবর্তী সম্পর্কও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। তাই এসময় স্ত্রীর প্রতি সহমর্মী হওয়া, সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে পাশে থাকা, তাকে মানসিকভাবে সাহস দেয়া অত্যন্ত জরুরি।
পারিবারিক পরিবেশ: পরিবারের প্রত্যেকের জানা থাকা দরকার এই সময় নারীর শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর ও মনের পরিবর্তন আসতে পারে। তাই কোনো প্রকার মানসিক চাপে না রেখে মেয়েটিকে সম্পূর্ণ মানসিক সহায়তা করতে হবে অর্থাৎ সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি অনাগত শিশু শুধু একজন মায়ের জীবনের জন্য নয়, একটি পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই পারিবারিক পূর্ণ সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া: সন্তান প্রসবের আগে মায়ের বিষণ্ণতা রোগ হলে তা মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। কারণ, মা যদি বিষণ্ণ থাকেন তবে তার প্রভাব সন্তানের ওপরও পড়ে। তাই মায়ের মানসিক সমস্যায় যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে।
একজন মাকে সুস্থ তখনই বলা যাবে যখন তিনি শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও সুস্থ থাকবেন। সন্তান প্রসবের পূর্বে একজন নারীকে যেসব শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এর জন্য যদি তিনি তৈরি না থাকেন তবে বিষয়গুলো মেনে নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়। তাই সুস্থ-সবল শিশুর জন্ম নিশ্চিত করতে হলে মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা খুবই জরুরি।
- মাহজাবিন আরা
- প্রতিবেদক, মনের খবর।

