দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা রোগীর চিন্তাভাবনা ও অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে; ফলে অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। শরীর ও মনকে আমরা দুটি আলাদা সত্তা হিসেবে ভাবলেও এ দুটির মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। একটা কথা আমরা প্রায়ই শুনি, ‘মন ভালো তো সব ভালো’। মন ভালো না থাকলে অনেক শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। আবার এর উল্টোটাও কিন্তু হচ্ছে। কারো কারো ক্ষেত্রে শারীরিক অসুস্থতা মনকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। কিন্তু অসুস্থ হলে শরীরের যত্নের প্রতি মানুষ যতটা গুরুত্ব দেন, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি ঠিক ততটাই উদাসীন থাকেন। যেকোনো রোগের গতি-প্রকৃতি ও নিয়ামক সম্পর্কিত সঠিক ধারণা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখলেই বেশির ভাগ রোগী ভালো থাকতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি রোগে ঘরে বাইরে ভালো থাকার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার। আসুন
জেনে নেই তেমনই কিছু জরুরি টিপস :
- জীবনে যেকোনো সময়ে যে কেউ যেকোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই কোনো রোগ হয়ে গেলে তার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে মেনে নিতে হবে এবং সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে। যতো দ্রুত এটা করা যাবে ততই ভালো থাকা যায়।
আরও দেখুন…
- অতিরিক্তি হস্তমৈথুন থেকে মুক্তির উপায়
- পরিবার কেন খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে নিরুৎসাহিত করে?
- নিজের প্রতি যত্নবান হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চিকিৎসককে নিয়মিত অবহিত করতে হবে। নিজে থেকে কোনো ওষুধ বন্ধ করা বা নতুন ওষুধ সেবন করা যাবে না।
- যতটুকু সম্ভব শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য নিয়মিত শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই; কারণ, নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে শরীর ও মন ফুরফুরে থাকে। গবেষণায় প্রমাণিত যে, ব্যায়াম অক্ষমতা প্রতিরোধ করতে এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করা; যেমন- হাঁটা, দৌড়ানো, বাইসাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি। তবে সেটা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।
- উপযোগী ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা এবং নিয়মিতভাবে সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণের অভ্যাস জরুরি। খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আপনাকে ভালোভাবে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা দীর্ঘস্থায়ী রোগের অগ্রগতি ধীর করতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
- পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মন ভালো রাখার জন্য খুবই জরুরি। ঘুমের অভাবে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। আর যেকোনো রোগীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো প্রয়োজন।
- কিছু কিছু রোগে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত ওজনে অনেকসময় রোগের মাত্রা বাড়িয়ে আক্রান্ত রোগীর কষ্ট আরোও বাড়িয়ে দেয়। শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে শরীরের জয়েন্টগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

- সবসময় আনন্দদায়ক কাজে নিজেকে যুক্ত রাখা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করা। এজন্য অবসরে পরিবারের সাথে ভ্রমণে বের হয়ে আনন্দপূর্ণ সময় কাটাতে পারেন অথবা প্রকৃতির নির্মল বাতাসে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন যা মন এবং শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- দীর্ঘমেয়াদি রোগে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাটা খুবই জরুরি। অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসেলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা শরীরে ইমিউন সিস্টেমকে আরো দুর্বল করে দেয়। ফলে তা রোগীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।
- অ্যালকোহল পান করা বা ক্ষতিকর ড্রাগ ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব ব্যবহার কমানো বা সম্ভব হলে বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে ভালো থাকা যায়।
- দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রাগ, দুঃখ, ভয় এবং হতাশার অনুভূতি থাকা স্বাভাবিক। কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগ বিষণ্ণতা সৃষ্টি করে। যেমন পারকিনসন রোগ এবং একাধিক স্ক্লেরোসিস। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় যখন স্বাভাবিক কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে পড়ে তখন বিষণ্ণতা অনুভব করা স্বাভাবিক। যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে বিষণ্ণতা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাকে আরো খারাপ করে তুলতে পারে। এক্ষেত্রে কাছের মানুষ; যেমন-পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় পরিজন এবং প্রয়োজনে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে ভালো থাকা যায়।
- মাহজাবীন আরা
- অ্যাসিস্ট্যান্ট কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট


