পরিবারে সহিংসতা এড়িয়ে চলার উপায়    

পরিবারে সহিংসতা এড়িয়ে চলার উপায়    

ভিন্নমতের বিভিন্ন মানুষ একই ছাদের নিচে বাস করা এবং একে অপরের প্রতি ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্ট কলহের ফলে সহিংসতার আশঙ্কা থাকে। মাঝে মাঝে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক; এটা পারিবারিক জীবনের অংশ। কিন্তু এই মতবিরোধ যদি দিনের পর দিন এবং সব বিষয়ে চলতে থাকে তবে তা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

কারণ, এভাবে চলতে থাকলে একসময় পরিবারের সদস্যদের আচরন হয়ে উঠে আক্রমণাত্মক বা হিংসাত্মক; যার দরুণ সহিংস ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও বিভিন্ন পরিস্থিতি যেমন- বেকারত্ব, চাকরিচ্যুত হওয়া, দূরত্ব তৈরি হওয়া, দরিদ্রতা ইত্যাদি কারনে মানসিক চাপ, হতাশা ও অস্থিরতার ফলে বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহিংস আচরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে মানসিক সমস্যা। মানসিক সমস্যা থেকেও সহিংস হয়ে উঠছে কেউ কেউ। কিন্তু যে কোনও ধরণের সহিংসতাই পরিবার এবং সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

তাই পরিবারের সঙ্গে কলহে না জড়িয়ে শান্তিপুর্ণ সস্ম্পর্ক বজায় রাখার দিকে জোর দিতে হবে। পরিবারের সবার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের সর্বত্তম উপায়।

আসুন জেনে নেই কিভাবে আমরা আমাদের পরিবারে সহিংসতা এড়িয়ে চলতে পারি-

  • পারিবারিক সহিংসতা এড়াতে সবার আগে পরিবারের সব সদস্যদের ক্ষেত্রে সমআচরণ করার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
  • কেউ কোন কারণে (যেমন- বেকারত্ব, চাকরিচ্যুত হওয়া ইত্যাদি) সমস্যাগ্রস্থ হলে তাকে অভিযোগ না করে অন্য সদস্যদের উচিত তার পাশে থাকা এবং যতটুকু সম্ভব সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করা যাতে সে মানসিকভাবে ভেংগে না পড়ে; এতে তার মানসিক চাপ কমে এবং যেকোন সংঘাত বা সহিংস পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।
  • পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের সাথে কৌশলী হওয়া অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ করার চেষ্টা করা; এতে করে পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।
  • একজন আরেকজনের প্রতি প্রত্যাশা যতোটুকু সম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে; তাতে সম্পর্কগুলো সহজ হয়।
  • পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করার মনোভাব তৈরি করার মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং যেকোন কাজকে সহজ করা যেতে পারে।
  • পরিবারের প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাজের প্রশংসা করা; এতে করে কাজের প্রতি মনোযোগ এবং আগ্রহ বাড়ে ও সংঘাত কমে।
  • উদ্বিগ্ন থাকা অবস্থায় মানুষের কাছে অন্যের নেতিবাচক দিকটাই বেশি নজরে আসে। ফলে অনেক সময় ঝগড়া বিবাদ হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। তাই অন্যের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য বা বিভেদের জায়গাগুলোও মেনে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং একজন আরেকজনে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
  • প্রত্যেকে প্রত্যেকের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো এবং প্রশংসা করা; তাতে সবার প্রতি সবার সম্মান ও আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

লেখক : মাহজাবীন আরা 
এসিস্ট্যান্ট কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট 

সূত্র : মাসিক মনের খবর জুন ২২’ সংখ্যা। 

লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে ক্লিক করুন : মাহজাবীন

  • মাসিক মনের খবর প্রিন্ট ম্যাগাজিন সংগ্রহ করতে চাইলে কল করুন : 01797296216 এই নাম্বারে। অথবা মেসেজ করুন পেজের ইনবক্সে। মনের খবর অনলাইনে লেখা পাঠাতে পারেন monerkhaboronline@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা হোয়াটসঅ্যাপ  01844618497 নাম্বারে।

/এসএস/মনেরখবর?

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here