শিশুদের এডিএইচডি বা অতিচঞ্চলতা হলে যা করবেন

0
132
সন্তানকে করোনা ভাইরাসের বিপদ সম্পর্কে কীভাবে সচেতন করবেন যেভাবে

শিশুদের যে কয়টি মানসিক রোগ রয়েছে তার মধ্যে এডিএইচডি বা এটেনশন ডেফিসিট হাইপার একটিভিটি ডিজর্অডার একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। ছোটবেলা যদি যথাযথভাবে এই রোগটিকে খেয়াল না করা হয় বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে মারত্মক সমস্যা তৈরী হতে পারে।

অথবা যদি রোগের লক্ষণ বুঝা না যায় তাহলে শিশুদের যে ক্ষতি হয় বা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা হলো, একজন মানুষ তার প্রকৃত মনোযোগ ধরে রেখে নিকেজে গঠন করা অথ্যাৎ পড়াশোনা করা এবং কাজের মধ্যে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার মত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

সুতরাং এই রোগটাকে বুঝতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো এই রোগের সাথে অন্য রোগ থাকে। এ জন্য বিশেষজ্ঞের শরানপন্ন হতে হবে। বিশেষ করে ছোটকাল থেকে কোনো শিশু যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চঞ্চল থাকে, এখানে সেখানে ব্যথা পায়, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারে, মনে হয় যে বেশি দুষ্টুমি করছে– তখনই সেটাকে দৃষ্টিতে আনা উচিৎ এবং চিকিৎসকের কাছে নিয়ে বোঝা উচিৎ এটি এডিএসডি কি না।

অনেক সময় এডিএসডি ছাড়াও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এডিএইচডি হলে যে ধরণের সমস্যা তৈরী হয় :

অমনোযোগীতা : কোনো কিছুতেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। খাওয়া-দাওয়া, কাজ, পড়াশোনা সবকিছুতেই অমনোযোগী হয়ে থাকে। ফলে দরকারী বিষয়ও মনে রাখতে পারে না।

অন্যমনস্ক হওয়া : অন্যমনস্ক হওয়া বা অমনোযোগীতা অনেকটা কাছাকাছি হলেও আলাদা করে বলার কারণ আছে। অমনোযোগীতা হলো পড়াশোনা করে, কিংবা কেউ কিছু বললে শোনে কিন্তু মনোযোগ দেয় না তাই মনে রাখতে পারে না। কিন্তু অন্যমনস্কতা হলো, সে একেবারে শোনেই না। যখন কেউ কিছু বলে তখন সে অন্যমনস্ক হয়ে থাকে। যার ফলে কোনো কথাই তার কান পর্যন্ত পৌঁছে না।

সম্পর্কে অস্থিতিশীলতা : যেকোনো সম্পর্কের ব্যাপরে অস্থিতিশীল হয়ে থাকে। সম্পর্ক ধরে রাখতে পারে না। সম্পর্ক ধরে রাখার ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পারেই না।

অতিরিক্ত বেপরোয়া : কিশোর বয়সে বাচ্চারা বখানে আড্ডা পেলে একটু বেপরোয়া হয়ে ওঠে ঠিক। কিন্তু এডিএইচডি হলে অতিরিক্ত বেপরোয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তখন কোনোভাবেই তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আগে থেকেই কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যায় এইডিএইচডি হলো কিনা। যেমন :

 পড়াশুনা বা খেলাধুলা কোনো কিছুতেই বেশিসময় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
 সারাক্ষণ ছোটাছুটি করা, চিন্তাভাবনা ছাড়াই হঠাৎ হঠাৎ নতুন কিছু করে ফেলা।
 কোথাও স্থির হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে না পারা।
 প্রায় সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা।
 কোথাও উঁচুতে উঠতে গেলে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠা।
 প্রশ্ন শোনার আগে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা।
 বড়দের কথার মাঝে কথা বলা ।
 একসঙ্গে অনেক কিছু করার চেষ্টা করা।

অতিচঞ্চলতার এই লক্ষণগুলো যদি সাত বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যে কমপক্ষে ছয় মাস ধরে দেখা যায় এবং এ কারণে যদি তার পড়ালেখা বাধাগ্রস্ত হতে থাকে তাহলে দ্রুত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে।

এসময় শিশুর সাথে রাগান্বিত হওয়া যাবে না। সর্বোচ্চ সম্ভব নম্র আচরণের মাধ্যেমে বুঝিয়ে বুঝিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে। বেশি বেশি ফলমূল, শাক-সবজি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।

  • মাসিক মনের খবর প্রিন্ট ম্যাগাজিন সংগ্রহ করতে চাইলে কল করুন : 01797296216 এই নাম্বারে। অথবা মেসেজ করুন পেজের ইনবক্সে। লেখা পাঠাতে পারেন monerkhaboronline@gmail.com বা এই 01844618497 হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে।

/এসএস/মনেরখবর/

Previous articleপ্রবাসে একাকীত্ব দূর করতে যা করবেন
Next articleবিচ্ছেদের পর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কী বলেছেন নাগা চৈতন্য?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here