শারীরিক সুস্থতার জন্যই মানসিক সুস্বাস্থ্য জরুরি : মনোজ কুমার

শারীরিক সুস্থতার জন্যই মানসিক সুস্বাস্থ্য জরুরি : মনোজ কুমার
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন অতিরিক্ত সচিব মনজ কুমার রায়

শারীরিক সুস্থতার চেয়ে মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব বেশি। এমনকি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্যই মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজ কুমার রায়।

মানসিক স্বাস্থের উপর ‘এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’ এর এক গবেষণাপত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার (সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজধানীর মহাখালীস্থ ব্রাক সেন্টারে আয়োজিত এ সেমিনারে চিকিৎসক, গবেষক, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে ‘এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে পরিচালিত ‘গ্রামীণ পর্যায়ে শিশু ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা’ শীর্ষক প্রকল্পের গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

লিখিত গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, গবেষণাপত্রের মূল গবেষক ও মালয়েশিয়া পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মনোবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি গবেষক প্রদ্যুত রায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (স্বাস্থসেবা) মনজ কুমার রায় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাড ইন্টারন্যশনাল ইউকে এর সহকারী প্রধান নির্বাহী মিজ ম্যারি অ্যান ক্লেমেন্টস, বাংলাদেশ সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহমুুদুর রহমান প্রমুখ।

গবেষণাটি পরিচালনা করে ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের নাসিরুর্লাহ সাইকোথেরাপী ইউনিট’। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট জুড়ে ৮টি বিভাগে গবেষণা পরিচালিত হয়।

এই গবেষণায় মানসিক অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশের পেছনে সামাজিক নেতিবাচক মূল্যায়ন, ভয়, চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা, ধর্মীয় এবং সামাজিক কুসংস্কার, লিঙ্গভিত্তিক সমস্যসহ বেশ কিছু কারণ উঠে আসে।

শিশু-কিশোর এবং বয়স্কদের ওপর পরিচালিত এ গবেষণার অন্তর্ভুক্ত ছিলো, মানসিক রোগী, ডাক্তার, নার্স, পেশাজীবী, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অসুস্থদের স্বজন ও পরিবারের ব্যক্তিবর্গ।

গবেষণাপত্রের ওপর বক্তাদের আলোচনায় জেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার প্রতিষ্ঠা, পর্যাপ্ত বাজেট, পাঠ্যসূচিতে মানসিক স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্ত করা ও দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব মনজ কুমার রায় বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক সুস্থতার জন্যই অধিক জরুরি। এমনকি শারীরিক সুস্থতার চেয়ে মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব বেশি।

তিনি বলেন, শপিংমল থেকে আমার বেচে থাকার জন্য খাদ্য অধিক জরুরি। তেমনি শারীরিক সুস্থতার জন্য মানসিক সুস্থতাও জরুরি। এর জন্য মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে বলে উল্লেখ্য করেন তিনি।

এডিডির এই গবেষণা অত্যান্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ‘‘এটা অবশ্যই আমলে নেয়া যেতে পারে। আপনাদের মতামত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। মানসিক স্বাস্থ্যখাতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটা বিপ্লব হয়েছে ইতোমেধ্য।

আমরা ২০১৮ সালে সরকারিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য অ্যাক্ট করতে পেরেছি। গত পহেলা জুন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি প্রকাশ হয়েছে। স্ট্রাটেজি প্লান করেছি। এভাবেই মানসিক স্বাস্থসেবা দিন দিন উন্নতি হচ্ছে’’ বলছিলেন মনোজ কুমার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিজ ম্যারি অ্যান ক্লেমেন্টস বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আজকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়। আজকে যারা প্রোগ্রামে এসেছেন কথা বলেছেন, প্রত্যেকের বক্তব্য আমার অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি সবার অংশগ্রহণ এবং এক্টিভিটি দেখে। ‘‘আমাদের সবাইকে মিলেমিশে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সেবা সর্বস্তরের মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে’’ বলেন মিজ ম্যারি।

বক্তব্য রাখছেন মিজ ম্যারি অ্যান ক্লেমেন্টস

বাংলাদেশ সাইকোলজিক্যাল অ্যাসসিয়েশন এর সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহমুুদুর রহমান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যকে সিরিয়াস নিতে হবে, সেবা বাড়াতে হবে। কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সেখানে সমাধান করতে হবে। সেটা করতে হবে রাষ্ট্র এবং সমাজের সমন্বয়ে।

তিনি বলেন, আমি বাড়ি বানাচ্ছি। কনস্ট্রাকশনে যারা কাজ করছেন তারা কিছুদিন পর গাফলতি এবং অসাধুতা শুরু করলেন। এখন আমি এটা নিতে পারছি না। মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়ছি। সাইকিয়াট্রিস্টস এর কাছে গেলে ঔষধ দিয়ে দিবেন কিংবা একজন সাইকোলজিস্ট এর কাছে গিয়ে কাউন্সেলিং নিলাম। তাতে কিন্তু সমস্যার সমাধান হবে না। সুতরাং মানসিক সমস্যা তৈরির কারণ খুঁজে সমাধান করতে হবে।

সেমিনারে প্যানেল মেম্বার হিসেবে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন, আইডব্লিউএফ এর নির্বাহী পরিচালক মিসেস মুনিরা রহমান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর সহযোগী অধ্যাপক ফারজানা রহমান দিনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ প্রমুখ।

/এসএস/মনেরখবর/

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here