মানসিক স্বাস্থ্য সচেতন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ

0
12
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হতে শরীর ও মন দুটোরই সুস্থতা প্রয়োজন। কিন্তু, শারীরিক সুস্থতাকে আমরা যতটা গুরুত্ব দিয়ে থাকি, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক ততটাই অবহেলা করি। মানসিক স্বাস্থ্যও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা সবাই ভুলেই যাই।

বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে। দেশের মানুষ এখনও নিজের মানসিক সমস্যার কথা বলতে সংকোচবোধ করে। কিন্ত, অন্য শারীরিক রোগের মতোই মানসিক রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ দেশে মানসিক রোগীদের ‘পাগল’ বলে হেয় করার মানসিকতা রয়েছে। এ কারণে অনেকেই নিজের মানসিক সমস্যা চেপে রাখেন ও কষ্ট পান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিষণ্নতা বিশ্বের প্রধান রোগ দাঁড়াবে। আমাদের দেশে বিষণ্নতাকে প্রাণঘাতী সমস্যা মনে করা না হলেও এটি মানুষের চিন্তা ও কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। এছাড়াও কর্মক্ষমতা নষ্ট করতে পারে দুশ্চিন্তা, সিজোফ্রেনিয়া, অ্যাসপারগারস সিন্ড্রোম, আলঝেইমারসহ নানা ধরনের মানসিক রোগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করেন। বিশেষ করে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আর বাংলাদেশ প্রতি বছর ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন।বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পুরুষদের আত্মহত্যার পরিমাণ বেশি হলেও আমাদের দেশ এর চিত্র উল্টো।

গ্লোবাল ইকোনমির এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০০ সাল হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে আত্মহত্যার মাত্রা ছিল প্রতি ১ লাখে ৪.৩৯ জন। সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় দশম। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে আত্মহত্যা প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সবসময় আত্মহত্যার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক না থাকলেও মানসিক সমস্যাই এর অন্যতম কারণ।

সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ওয়ালিউল হাসনাত সজীব বলেন, প্রায় সকল ধর্মেই আত্মহত্যাকে নিষিদ্ধ বলা আছে। কারণ আত্মহত্যা যেসব কারণে সংঘটিত হয় তা সাময়িক এবং এসব কারণের অনেকগুলোই উপযুক্ত ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। আত্মহত্যা সাময়িক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা।

আত্মহত্যা প্রতিরোধের পরামর্শ দিয়ে ডা. ওয়ালিউল বলেন, আত্মহত্যার কারণ দরিদ্রতা, কলহ, সম্পর্কের ফাটল, মানসিক রোগ, ব্যক্তিত্বের ধরন, নেশা কিংবা হতাশা যাই হোক না কেন আত্মহত্যা প্রতিরোধের একটি অন্যতম উপায় হচ্ছে আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির পাশে এসে দাঁড়ানো, তার সমস্যার সমাধানে তার জন্য সামান্যতম হলেও সাহয্যের হাত বাড়ানো।পরিবারের সমর্থন, বন্ধুবান্ধব বা সহপাঠীদের সহযোগিতা এমন অনেক বিষয়ই সাহায্য করতে পারে একজন মানুষকে জীবনমুখী করে তুলতে।

যাই হোক না কেন আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে তাদের জন্য কাজ করি তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা খুব সহজেই সম্ভব। আত্মহত্যা প্রতিরোধে তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে  

more

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here