সিদ্ধান্ত তৈরিতে যে ৭টি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ

0
74
আমরা সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় সঠিক কাজটি বেছে নিতে পারিনা। ছবিঃ ইন্টারনেট

আমরা সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় সঠিক কাজটি বেছে নিতে পারিনা। আপনি যে কাজটি করে উপভোগ করেন সে কাজটি করবেন নাকি যে কাজে আপনি বেতন বেশি পান সে কাজটি করবেন? অবশ্যই অনেক কঠিন প্রশ্ন নয়। তবে হ্যাঁ বা না উত্তর নিতে তথা সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় চলে যায়। আপনার বন্ধু বান্ধব এবং পরিবার ছেড়ে কি প্রেমিকের সাথে পালানো উচিৎ? আপনার একজন দীর্ঘদিনের বন্ধুকে আপনি কি ছেড়ে চলে যাবেন যে স্বভাবিক নাই? এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বা সিদ্ধান্ত নিতে অনেকের অনেক বেগ পেতে হয়। এমন কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে নিচে কিছু পদ্ধতি তুলে ধরা হলঃ-

১। হ্যাঁ বা না প্রশ্নে সিদ্ধান্তটি নিয়ে আসুন। যেমন- আপনার কি চাকরীটি নেয়া উচিৎ। আপনার কি ঢাকা যাওয়া উচিৎ? আপনার সেই বন্ধুকে ফেলে দেয়া উচিৎ?

২। এই পদ্ধতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ মানসম্পন্ন। একটি কাগজ নিন যেখানে দুটি কলাম তৈরি করুন। একটিতে পেশাদারদের জন্য যেটি প্রশ্নের হ্যাঁ উত্তর দিতে সুবিধা দিবে এবং অন্যটি অসুবিধার জন্য যেটি অসবিধা বা না উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। কলামে আপনি যা যা ভাবতে পারেন তা লিখুন চেষ্টা করে যান, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি সমস্ত ধারনা শেষ করেন ততক্ষণ পর্যন্ত চালিয়ে যান। যেহেতু এটি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত তাই এখানে আপনার মাথা ও মন উভয়ই কাজে লাগানো উচিৎ। পদক্ষেপগুলো আপনার চিন্তাভাবনা, অনূভুতি এবং মুল্যবোধকে উন্নত করতে সাহাযা করবে।

৩। আপনার পালস পরীক্ষা করুন। আপনি যেহেতু হ্যাঁ বলার সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো রেকর্ড করেছেন সুতরাং প্রতিটি কলাম আলদাভাবে পরীক্ষা করুন। এখন আপনি কি একভাবে টান অনুভব করছেন নাকি অন্যভাবে? এবং আপনি কোন কলামে টানছেন সেটা একটা নোট তৈরি করুন। (চিন্তা করবেন না, আপনি এখনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। শুধু আপনার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন)।

৪। যেসমস্ত আইটেম সত্য নয় সেগুলো অতিক্রম করে যান। যেমন- এখন স্কুলে ফিরে যাওয়া সম্ভব না কারণ আমার অনেক বয়স। আপাতত এমন কিছু আইটেম রেখে দিন যাতে আপনার স্কুলে যাওয়া হতে পারে। কারণ এটি একটি সম্ভবত সত্য। পরবর্তীতে, আপনার মূল্যবোধ যেমন- পরিবার, স্বাস্থ্য, প্রতিজ্ঞা, সততা, সম্মান, বা ব্যক্তিগত বিকাশ সম্পর্কে চিন্তা করুন। যদিও সবাই একইভাবে ভাবে না এবং আমরা তাদের একইভাবে র‍্যাঙ্কিং করিনা।

৫। আপনি নমনীয়তা, স্বাধীনতা এবং রুটিনকে মূল্য দেন কিনা আপনার ব্যক্তিগত মুল্যবোধই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ করে। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, আপনি যে আইটেমটি বেছে নিতে চাচ্ছেন সেটি বৃত্তের মধ্যে লিখুন।

৬। ক্ষতির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এমন আইটেমগুলো রেখে দিন। যেমন আপনার মনে হতে পারে এটি কার্যকর নাও হতে পারে বা এটি কার্যকর হতে অনেক খরচ হবে। এমন আইটেমগুলো রেখে দিন। যখন আমরা কোন কিছু পাওয়ার আশার থেকে কী কী হারাবো তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয় তখন আশার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৭। এমন কিছু আইটেম হিসেব করুন যা আপনি আন্ডারলাইন করেন নি বা ক্রস করেন নি। সেগুলো প্রতিটি কলামের নিচে যোগ করুন।

ওপরের ৩ নাম্বার ধাপে কলামের নিচে আপনি একটি বিন্দু যোগ করুন, এবং আরেকটি বিন্দু যেটিতে সর্বাধিক বৃত্তাকার আইটেম রয়েছে। যদি একটি বিন্দু বিজয়ী হয় তাহলে আপনি সিদ্ধান্ত সম্পন্ন করেছেন। আর আপনি যদি উপরের ধাপগুলি আতিক্রম করেন এবং হ্যাঁ বা না তা এখনো স্পষ্ট করতে পারেন নি তাহলে নিচের প্রশ্নগুলি নিজেকে জিজ্ঞেস করুন।

১। এটা কি সত্যি স্পষ্ট নয় নাকি আপনার পক্ষে এটা অনুসরণ করা কঠিন?

২। আপনি কি ভয় পাচ্ছেন যে কেউ এই সিদ্ধান্তে কষ্ট পাবে?

৩। আপনি কি আজই এই সিদ্ধান্ত নিবেন?

৪। আপনি কি টস করতে চাচ্ছেন?

৫। ভবিষ্যতে আপনি কেমন অনুভব করবেন তার থেকে আপনি যদি আজ কেমন অনুভব করেন সেটার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন তাহলে উত্তরটি কি স্পষ্ট হবে?

শেষ প্রশ্নটি বেশ কার্যকরী । ডেনিয়েল গিলবার্ট তার বই ‘স্টাম্বলিং অন হ্যাপিনেস’ এ উল্লেখ করেন, আমাদের বেশিরভাগই ভবিষ্যতের অনুভূতি সম্পর্কে ভয় পায়। সুতরাং সব থেকে বুদ্ধিমানের কাজ হল বর্তমানের কাজে নিজেকে খুশি করার চেষ্টা করা।

আশা করি আলোচ্য পদক্ষেপগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

লেখা- রবিউল ইসলাম

 

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

 

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।
       
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here