স্মৃতিশক্তি ১ম পরিচ্ছেদ: স্মৃতির প্রকারভেদ

0
231
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই শোনা যায়, আমার কিছু মনে থাকে না। মেমোরি/স্মৃতি ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক, উপকারী, অপকারী সব রকম হতে পারে। আমরা এবার মেমোরি/স্মৃতি নিয়ে কয়েকটি পর্বে আলোচনা করব। আজকের এই পর্বে মেমোরি কত প্রকার সেটা নিয়া আলোচনা করা যাক।
মেমোরি সাধারাণত তিন রকমের হয়ে থাকে।
১. স্বল্প মেয়াদি মেমোরি (Short Term Memory/ Sensory Memory): এটা খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়। সাধারণত এটা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়ঃ একটা মোবাইল নম্বর দেখার সাথে সাথে সরিয়ে নিলে অল্প কয়েক সেকেন্ড মনে থাকে। এটাকে স্বল্প মেয়াদি মেমোরি বলা হয়। স্বল্প মেয়াদি মেমোরি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় মাত্র।
২. মধ্যম মেয়াদি মেমোরি (Intermediate Term Memory): এটা কর্মক্ষম মেমোরি (Working Memory) হিসাবে পরিচিত। এটা কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস স্থায়ী হয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়ঃ গত সপ্তাহে কী ঘটেছে, গত মাসে কী ঘটেছে, সে গুলো মনে করা, সমন্বয় করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা।
৩. দীর্ঘ মেয়াদি মেমোরি (Long Term Memory): এই মেমোরি অনেক লম্বা সময় যাবত স্থায়ী হয় এবং এর প্রভাব সুদুরপ্রসারী। এটা সাধারণত বছর নিয়া বিন্যস্ত এবং বছর একক নিয়া হিসাব করা হয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়ঃ ছোট বেলায় স্কুল এর কোনো স্মৃতি; প্রথম স্কুলের নাম, ক্লাস এ ফাস্ট বয় বা গার্ল এর নাম ইত্যাদি। দীর্ঘ মেয়াদি মেমোরি আবার দুই ধরনের।
ক. Procedural Memory: এটা গড়ে উঠে কোনো কাজ বার বার করার ফলে। এটা এক জাগ্রত মন থেকে অর্ধ জাগ্রত মন বা অবচেতন মনে চলে যায়। এ মেমোরি সহজে মানুষ ভুলে যায় না। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়ঃ গাড়ি চালাতে চালাতে দক্ষ ড্রাইভাররা পরিচিত পথে খুব সহজে অবচেতন মনে গাড়ি চালাতে পারেন, শল্যবিদ অতি সহজেই অবচেতন মনে অনেকবার করা appendisectomy করে ফেলতে পারেন। সাইকেল চালানো, সাতার কাটা এগুলা Procedural Memory এর স্পষ্ট উদাহরণ, যা মানুষের দ্বারা ভোলা বেশ কঠিনই।
খ. Declarative Memory: এটা সাধারণত কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতি। এটা আবার দুই প্রকার।
Semantic Memory: এটা কোনো তথ্য জাতিও মেমোরি। যেমন আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট এর নাম কি, বাংলাদেশ কবে স্বাধীন হয়েছিল ইত্যাদি।
Episodic Memory: এটা পূর্বের কোনো গুরুত্বপূর্ণ life event এর স্মৃতি। যেমন, মেয়ের  জন্মদিন কবে, নিজের বিবাহ বার্ষিকী কবে ইত্যাদি।
এর পর থাকবেঃ
মেমোরি কিভাবে তৈরি হয়,
মেমোরি কিভাবে বাড়ানো যায়।
ভুলে যাওয়ার কারণ কি কি,
মেমোরি জনিত বিভিন্ন রোগসহ মেমোরি নিয়ে আরও কিছু বিষয়।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনের খবরের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মনের খবরে প্রকাশিত কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না কর্তৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here