সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি গড়তে যা করতে পারেন

0
45
সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি গড়তে যা করতে পারেন
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

সুস্থ সম্পর্ক গড়তে দম্পতিরা যে কয়েকটি বৃহত্তম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় তার মধ্যে একটি হল গঠনমূলক আলোচনা।

দম্পতিরা একে অপরের কার্যক্রমের গঠনমূলক আলোচনা না করার কারণে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয় এবং একে অপরকে দোষারোপ করে। সময়ের সাথে সাথে তারা এই ভুল বার বার করে থাকে।

একটি সম্পর্ক কী কারণে ভেঙ্গে যায়? সেটা জানার আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে হয়। সেটা হল দুইজন মানুষের মধ্যে একটি সম্পর্ক কী ভাবে গড়ে উঠে।

অর্থাৎ যেসব দম্পতির সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, তারা আসলে কী ভাবে বা কী মনে করে, কী প্রত্যাশা থেকে সম্পর্ক করেছিলেন? এর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে তাদের দাম্পত্য কলহ এবং সম্পর্ক ভাঙ্গনের মূল কারণ।

শুনে অনেকে অবাক হতে পারে, সম্পর্ক ভাঙ্গনের সাথে সম্পর্ক শুরুর কি কোন সংযোগ আছে? সম্পর্ক শুরুর মধ্যে কী থাকে যার কারণে দাম্পত্য কলহ এবং সম্পর্কের ভাঙ্গন হয়?

একটি সম্পর্ক শুরু হয় মূলত দুজন ব্যক্তির চাহিদা, পছন্দ, ইচ্ছা, মতের মিল ও প্রত্যাশা ইত্যাদি থেকে। তবে এই বিষয়গুলো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ভিন্ন হয়।

আর একটি বিষয় থেকে সম্পর্ক শুরু হয় তাহলো কিছু নিয়ম। নিয়ম বলতে একটি সম্পর্কে কী কী করা যাবে আর কী কী করা যাবে না। এটাকে একটা সম্পর্কের গ্রাউন্ড রুলসও বলা হয়।

যদি কোন কারণে এই গ্রাউন্ড রুলস গুলোকে কোন একজন না মানে বা ভঙ্গ করে তখন শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। আর তা যদি প্রতিনিয়ত চলতে থাকে তাহলে একটা সময় তা বিচ্ছেদে পরিণত হয়।

তাহলে এখন জেনে নেওয়া যাক দম্পতিরা কি কি ধরনের গ্রাউন্ড রুলস সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেট করে থাকে। যেমন:-

১. আমার সাথে সবকিছু শেয়ার করতে হবে। কোন কিছু গোপন করা যাবে না।

২. মিথ্যা কথা বলা যাবে না। কোন ধরনের প্রতরণা করা যাবে না।

৩. কোন পুরুষ বা ছেলে অথবা কোন মেয়ে বা নারী বন্ধু থাকতে পারবে না।

৪. বন্ধুদের সাথে বা বান্ধবীদের সাথে কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে না।

৫. আমার পরিবারের বা মায়ের দেখাশুনা করতে হবে। তারা যা কিছু বলুক তাদের কিছু বলা যাবে না।

৬. তোমার পরিবারের কোন লোক আমাদের বাসায় আসতে পারবে না।

৭. বিয়ের পরে আলাদা বাসা নিতে হবে।

৮. কোথায় কী কর, যাও, কার সাথে যাও তা আমাকে বলতে হবে।

৯. রাত ১২টার পরে ফেসবুক ব্যবহার করা যাবে না।

১০. ছেলে বা মেয়ে বন্ধুর সাথে চ্যাট করা যাবে না।

১১. প্রতি ঈদে আমার পরিবারের সকলকে জামা কাপড় দিতে হবে।

১২. এক্স এর সাথে কোন যোগাযোগ করা যাবে না।

এই রকম আরও অনেক নিয়ম বা গ্রাউন্ড রুলস দম্পতিরা তৈরি করে থাকে। এই গ্রাউন্ড রুলসের মাধ্যমে দম্পতিরা তাদের সম্পর্ক নিরাপদ রাখতে চাই।

কোন কারণে কেউ যদি এই নিয়ম বা গ্রাউন্ড রুলস ভঙ্গ করে তখন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা শুরু হয়। আর তা যদি সমাধান না হয় এবং একই ভুল বারবার করতে থাকে তাহলে একটা সময় দুজনের মধ্যে তিক্ততা অনেক বেড়ে যায়। সেখান থেকেই বিচ্ছেদ দেখা দেয়।

সমস্যা তখনি শুরু হয় যখন দম্পতিরা এই গ্রাউন্ড রুলস গুলোকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে। একটি নিয়ম না মানলে সেটাকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করে। আর সম্পর্কের আগে যেসব চাহিদা, পছন্দ, ইচ্ছা, মতের মিল ও প্রত্যাশা থেকে শুরু হয়েছিল, সম্পর্কের পরে তা যদি পূরণ না হয় তাহলেও দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

অনেকে আবার নিজের যে মতবাদ আছে বা তিনি যে গ্রাউন্ড রুলস মেনে চলেন তা পরিবর্তন করতে চান না। তার কাছে মনে হয় আমি যে গ্রাউন্ড রুলসে চলি সেটাই সঠিক। আর সে যে গ্রাউন্ড রুলসে চলে তা ভুল।

নিজেদের গ্রাউন্ড রুলসকে সঠিক মনে করা, সেটা পরিবর্তন করতে চাই না বা আগ্রহ প্রকাশ করে না। এই পরিবর্তন না করার ফলে দম্পতি কলহ চলতে থাকে এবং তারা দুজনেই মনঃকষ্টে থাকে।

দম্পতিরা যে গ্রাউন্ড রুলস বা নিয়ম তৈরি করে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য, সেই গ্রাউন্ড রুলস বা নিয়মের কারণে যদি ভালো না থাকা যায় বা প্রতিনিয়ত কলহ শুরু হয়, তাহলে সেই নিয়ম বা গ্রাউন্ড রুলস পরিবর্তন করা কি ভালো না?

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here