সিজোফ্রেনিয়াতে যৌন সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা

0
65

ডা. সজীব আবেদিন
সহকারী রেজিস্টার, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বিশ্বের এক শতাংশের কিছু কম মানুষ রোগটিতে ভুগছেন। সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় সবার ক্ষেত্রে রোগটি দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। এমনকি তাদের যৌনজীবনও নানাভাবে প্রভাবিত হয়।
সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে এসব প্রভাব কমানোর জন্য ওষুধ, থেরাপি ও দৈনন্দিন সহায়তার ধরনও ব্যক্তিভেদে আলাদা। তবে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় সবার ক্ষেত্রে রোগটি দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। এমনকি তাদের যৌনজীবনও নানাভাবে প্রভাবিত হয়।

গবেষকেরা বলছেন, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরাও আর সব মানুষের মতোই যৌনতা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহী। উপসর্গের কারণে তারা যৌন আকর্ষণ অনুভব করতে বা যৌনতার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিতে সমস্যায় ভোগেন। যৌন চাহিদা প্রকাশেও মানসিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওষুধের কারণে অনেকের কামশক্তি, যৌন সংবেদনশীলতা ও অরগাজমে সমস্যা হতে পারে।
সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত অনেকের যৌনতার অনুভূতি আবার প্রচণ্ড তীব্র হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্য থেকে সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্তদের অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও যৌন রোগে ভোগার একটি ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব।
রোগটির কারণে সম্পর্কের ধরন পুরোপুরি বদলে যায়। ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভাববার ফুরসত থাকে না। অনেক সময় সম্পর্কটি শেষ হয়ে যায়। সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে সমাজে গ্রহণযোগ্যতার অভাব রয়েছে। ওষুধ খাওয়া শুরুর সময়ে মনে হয়, কোনো কিছুই ঠিকঠাকভাবে করতে সক্ষম না।

তবে উপসর্গ তীব্র হলে নিজেকে অস্থির বা আবেগশূন্য মনে হয় অথবা হ্যালুসিনেশন যখন হয়, তখন আসলে ঘনিষ্ঠ হওয়া মুশকিল। একদম আবেগশূন্য হতে পারে। সব সময় লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
১। নিয়মিত ‘কাপল থেরাপিতে’ একসঙ্গে অনেকটা পথ যেতে পার যায়। তবে সেই পথে অনেক দ্বন্দ্ব থাকবে।
২। যখন লক্ষণগুলো প্রকট হয়, তখন আমরা সেক্স না করার উপদেশ দিয়ে থাকি।
৩। সম্পর্কের এমন অনেক অধ্যায় আছে যখন আমাদের যৌনতার মাত্রা এমনিতেই কমে যায়। বিশেষ করে       সিজোফ্রেনিয়ার ওষুধ খাওয়ার সময়ে যৌন চাহিদা একদম কমে যায়।
৪। উন্নতি ঘটানোর আরও সুযোগ রয়েছে।যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করা। এটা একটি চলমান          প্রক্রিয়া।
৫। প্রথমে আমরা ঔষধ কমিয়ে চেষ্টা করি।
৬। যদি কাজ না হয় তবে যে সকল ঔষধ কম যৌন সমস্যা করে সেগুলো ব্যবহার করা হয়।
৭। এর সাথে আমরা পিডি ৫ ইনহিবিটর ব্যবহার করি।

সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্তদের জন্য যৌনতা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামলানো কঠিন হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছুদিন আগ পর্যন্তও তেমন মাথা ঘামাননি। অনেক চিকিৎসক রোগীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেও আগ্রহী নন। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক জার্নাল ও পেশাদার গ্রুপে অনেকে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য পাবলিক ফোরামেও খোলাখুলি আলোচনা শুরু হয়েছে। সবার জীবন সুন্দর হোক।

 

Previous article‘থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগ- অসংক্রামক রোগ’ প্রতিপাদ্যে পালিত হয়েছে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস
Next articleদাম্পত্য সম্পর্ক ঠিক না থাকলে জীবনে চরম মূল্য দিতে হয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here