সম্পর্কের প্রয়োজনে স্যাক্রিফাইজ কী করা উচিত!

0
20

মানুষ এক জীবন সম্পর্কের মায়ায় কাটিয়ে দেয়। মা তার সন্তানের প্রতি, স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি, বোন তার ভাইয়ের প্রতি, প্রেমিক তার প্রেমিকার প্রতি। আর এই সব সম্পর্কের জন্য কেউ কখনো না কখনো স্যাক্রিফাইজ করে থাকেন।

কিন্তু সম্পর্কের জন্য স্যাক্রিফাইজ করা উচিত? এর উত্তর একেকজন একেক রকমভাবে দিয়ে থাকেন। সাধারণত পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্যাক্রিফাইজ বা কম্প্রোমাইজ নিয়মিত একটা ঘটনা। কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কে স্যাক্রিফাইজ বা কম্প্রোমাইজ বিষয়কে অনেক বড় হিসেবে দেখা যায়।

অনেকে স্যাক্রিফাইজ বিষয়টা পছন্দ করে থাকে না। অস্ট্রেলিয়ান এক নারী নিজের সম্পর্কে স্যাক্রিফাইজ করা নিয়ে বলেন, ‘অনেক মেয়েরা নিজেদের সম্পর্কে জড়ায় কারণ তারা একলা থাকতে অপছন্দ করে। তারপর সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক কিছুই স্যাক্রিফাইজ করেন। কিন্তু দিনশেষে তারা নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে এবং অনেক সময় নিজেদের সম্পর্কও হারিয়ে ফেলে। আমি সেটা করতে রাজি নই।’– জুলিয়া ডেলফি।

অন্যদিকে একই বিষয়ে বাংলাদেশি মেয়েদের ধারণা কিছুটা ভিন্ন। তারা সবকিছু স্যাক্রিফাইজ করার বিষয়ে রাজি নন। তবে তারা সম্পর্কের জন্য রোমান্টিক কম্প্রোমাইজ করতে রাজি। এই বিষয়ে বাঙালি নারী ইফফাত আর ইমু বলেন, ‘স্যাক্রিফাইজ করা উচিত না, তবে রোমান্টিক কম্প্রোমাইজ করা যেতেই পারে। এতে সম্পর্কের স্বাভাবিকত্ব থাকে।

একই ধরনের মতামত দেন অস্ট্রেলিয়ার এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। বেটে মিডলার নামের সেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে- ‘ভালোবাসার সৌন্দর্য্য বোঝার জন্য নিজের জায়গা থেকে কিছুটা ছাড়তে হবে, কিছুটা ধরতে হবে, এবং মাঝে মাঝে এই অসহায় মনকে কিছুটা ভাঙ্গতেও হতে পারে।’

যদিও আমাদের সমাজে ভালোবাসার জন্য রোমান্টিক কম্প্রোমাইজকে হয় ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। অথবা এটাকে অনেক সময় সমালোচনা করা হয়। যদিও জীবনের প্রয়োজনে এবং ভালোবাসার জন্য কম্প্রোমাইজ করা প্রয়োজন অনেক সময়।

সাধারণত একটা সম্পর্কে কী ধরণের রোমান্টিক কম্প্রোমাইজ দেখা যায়? এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই একপক্ষই বেশিরভাগ সময় মেনে নিতে থাকে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চেষ্টার অভাব রাখা হয় না। কিন্তু অনেকে কম্প্রোমাইজের এই অন্তর্নিহিত মূল্য বোঝে না। তাই সুস্থ সম্পর্কের জন্য এই স্যাক্রিফাইজের মূল্য বুঝতে হবে। এবং সম্পর্কের জন্য অবশ্যই পাশের মানুষকে সময় দেওয়া আবশ্যক। হুটহাট সারপ্রাইজ দিলে হয়ত কিছু ভালো মোমেন্ট পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেটিই সবকিছু নয়। তাই চেষ্টা করতে হবে টানা ভালো সময় উপহার দিতে।

স্যাক্রিফাইজের বিষয়ে বাংলাদেশি মোহাম্মদ ফাহিম হোসেন বলেন, ‘সম্পর্কের প্রয়োজনে স্যাক্রিফাইজ বা কম্প্রোমাইজ করা প্রয়োজন হলে করা উচিত। কারণ, সবসময় আমরা যা চাই, সেটি সম্ভব না। তখন সম্পর্কে টানাপোড়েন আসে। আর সেই টানাপোড়েন দূর করে সম্পর্ককে সুস্থ এবং দারুণ রাখতে স্যাক্রিফাইজ করা উচিত।’

যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক সম্পর্কে এই কম্প্রোমাইজ করা সত্ত্বেও সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। অনেকে আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু সেটি আমাদের কাম্য নয়। কেউ কম্প্রোমাইজ বা স্যাক্রিফাইজ করলে সেটি অবশ্যই আমাদের মূল্যায়ন করা উচিত। আর স্যাক্রিফাইজ কেবল একও পক্ষ থেকে নয় বরং দুই পক্ষ থেকেই করা উচিত। তাহলেই কেবল সুন্দর এবং সুস্থ রোমান্টিক সম্পর্ক পাওয়া সম্ভব।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।
       
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here