সবকিছুর কথা চিন্তা করে দেড় মাস যাবৎ ড্রাগস নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি

সমস্যা:
আমার বয়স ৩৪ বছর। আমি ১২ বছর যাবৎ ড্রাগস নেই। এর মধ্যে দু’বার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে থেকেছি কিন্তু আমাকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানে রাখায় আমি রাগ করে আবারও নেশা করি। আমি বিশ্বাস করি এটা সম্পূর্ণটাই মনের ব্যাপার। কেউ যদি মাস খানেক ভাল থাকতে পারে তাহলে সে চাইলে ভালো থাকতে পারবে। আমি আমার সংসার, সন্তান, মান-সম্মান, অর্থনৈতিক অবস্থা সবকিছুর কথা চিন্তা করে দেড় মাস যাবৎ ড্রাগস নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি; কিন্তু আমার স্ত্রী চায় আমি তিন মাস রিহ্যাবে থাকি। আমার প্রশ্ন হল আমি তো নিজের ইচ্ছায় দেড় মাস ভাল থাকতে পেরেছি এবং আমার আর কোন প্যারা নেই। এখন কি আমার রিহ্যাবে থাকার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে?
পরামর্শ:
অনেকের কাছে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে কিছুদিন কোন ক্লিনিকে ভর্তি রাখা বা ‘রিহ্যাব’ করানোই এর চিকিৎসা। তারা মনে করেন, একবার কিছুদিন ভর্তি রাখলেই মাদকাসক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ ভাল হয়ে সুপথে ফিরে আসবে। কিন্তু এ ধারণাটি ঠিক নয়। মাদকের চিকিৎসা মানেই একটি সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় মাদক না নেয়ায় যে অসহ্য শারীরিক – মানসিক প্রতিক্রিয়া হয়, সে কারণে সে নিজেকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পারে না। এই প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ এবং রোগীকে ভর্তি রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
যেহেতু আপনার আপাতত কোনো ‘প্যারা’ নেই এবং দেড় মাস আপনি মাদক থেকে দূরে রয়েছেন, সেক্ষেত্রে আপনার কোথাও ভর্তি থাকার প্রয়োজন না-ও হতে পারে। তবে, নিয়মিত কাউন্সেলিং করানো আপনার জরুরী। আপনি যেহেতু নিজ থেকেই মাদক ছড়াতে উদ্বুদ্ধ, আপনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল আশাই করা যায়। তবে, আপনি যেমন ইতিবাচক, তেমনি আপনার জন্য ইতিবাচক একটি পরিবেশেরও ব্যবস্থা করতে হবে। সে রকম অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে আপনিও দীর্ঘদিন সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। আপনার স্ত্রী বা পরিবারের অন্যদেরও এই ব্যাপারটি বুঝতে হবে। এ কারণে স্ত্রীসহ কোনো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন।
পরামর্শ দিচ্ছেন,
ডা. মুনতাসির মারুফ


দৃষ্টি আকর্ষণ- মনেরখবর.কম এর প্রশ্ন-উত্তর বিভাগে, মানসিক স্বাস্থ্য, যৌন স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি সহ মন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আপনার কোনো জানার থাকলে বা প্রশ্ন থাকলে বা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দরকার হলে question@www.monerkhabor.com এই ইমেলের মাধ্যমে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন।

Previous articleমায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ফান্ড গঠনের আবেদন
Next articleস্কুলই হওয়া উচিৎ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক চর্চা শুরুর স্থান
ডা. মুনতাসির মারুফ
সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here