মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তরুণদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বেশি!

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Mailman School Of Public Health এবং Federal University Of Sau Paulo থেকে করা সম্মিলিত গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তরুণদের মধ্যে মদ, ধুমপান ও অন্যান্য মাদকের প্রতি আসক্তি অনেক বেশি। ঠিক তখনই এরকম হচ্ছে যখন তারা সামাজিক, পারিবারিক বা অন্যান্য কারণে মানসিক অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা বা অন্য কোনো সমস্যায় ভোগে। এই গবেষণায় তরুণদের সমস্যাগ্রস্ত মস্তিষ্কের সাথে মাদকের আসক্তির একটা আন্তসম্পর্ক দেখায়। গবেষণায় দেখা যায়, মধ্য ও নিম্নআয়ের দেশগুলোর শক্তিশালী সামাজিক বৈষম্যের ফলে সৃষ্ট সমস্যাকেই নির্দেশ করে। The American Journal On Addiction এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। গবেষণায় দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেনীর ৪০৩৪ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়। ব্রাজিলের ১২৮টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব তথ্য নেয়া হয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী এই তরুণদের অনেকেই এই আসক্তির কথা স্বীকার করে নেয়।
এই আসক্তদের একটা বড় অংশ আছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। লিঙ্গ ও সামাজিক কাঠামোর উপর সমতা রেখেই এ গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আসক্তদের মধ্যে ৪৪ ভাগের কোনো মানসিক সমস্যা নেই, ৮ ভাগের কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আশঙ্কার কথা হলো আসক্তদের ৪৮ ভাগই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক কোনো সমস্যায় আক্রান্ত। ফলে প্রশান্তির খোজে তারা বেছে নিচ্ছে মাদককে। গবেষণা চলাকালীন সময়ে তথ্য দাতাদের ৩৮ ভাগ স্বীকার করে নেয় যে তারা গত মাসেই মদ্যপান করেছে। আর মারিজুয়ানা গ্রহণের কথা স্বীকার করে ৭ ভাগ তথ্য দাতা। একজন অবিভাবকের দেয়া তথ্যমতে,”শিক্ষার্থীদের এই অবস্থার জন্য তাদের মানসিক অবস্থা দায়ী। সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলে তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সমাধান হিসেবে বেছে নেয় মাদককে।” গবেষণা কাজের সহযোগী অধ্যাপক Silvia Martinn বলেছেন,”কি কি মানসিক কারণে শিক্ষার্থীরা মাদক গ্রহণ করছে তা বের করাই গবেষণার লক্ষ্য। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মত ব্রাজিলেও দীর্ঘ সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। এগুলো দূর করা জরুরি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।”
তথ্যসূত্র- মেডিকেল নিউজ টুডে
http://www.medicalnewstoday.com/releases/312120.php
আব্দুল্লাহ আল মামুন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here