ভয়ভীতির কথা মনে হলে খুব বিষণ্ণতায় ভুগতাম

0
50
ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

প্রশ্ন: আমার নাম মিন্টু, বয়স ৩৮, পেশায় একজন শিক্ষক। আমি ২০১২ সালে পারিবারিক একটা বিষয় নিয়ে খুব রাগান্বিত হলে, এত পালপিটেশন হয়েছিল যে, সেদিন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

তখন কিছুদিন পর ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে দেখাই। কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তারপরেও মনের ভয়ভীতি দূর করতে না পেরে ময়মনসিংহ মানসিক বিভাগে দেখাই, তখন ডাক্তার আমাকে NEXITO 10 ও revotril 5 দিলেন। ১ মাস খাওয়ার পর আবার গেলাম।

আবার দুই মাস খেতে বললেন, খেলাম। মনের জোর নিয়ে চলি, কতদিন ভালো যায়। এর মধ্যে যখনই এই ভয়ভীতির কথা মনে হতো খুব বিষণ্ণতায় ভুগতাম আর তখনই মাসখানেক NEXITO 10 খেতাম। এভাবে এই চার বছরের মধ্যে চার পাঁচবার মাসখানেক করে NEXITO 10 খেয়েছি।

এখন ইদানীং দুইমাস ধরে প্রচণ্ড বিষণ্ণতায় ভুগছি। কোনো কিছুতেই ভালো লাগে না। মন ভীষণ দুর্বল। এখন আমার মূল সমস্যা হলো সবসময় অহেতুক ভয়ভীতির কথা মনে আসে। এক জায়গায় যেতে চাইলে মনে হয় যেতে পারব না। আসলে কিছুই হয় না। কিন্তু এই চিন্তা মনে নানা রকমের নেতিবাচক চিন্তার জন্ম দেয়।

আমার চলাচল সীমাবদ্ধ করে দেয়। একেক সময় অস্থির হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দেই এই ভেবে যে, আমি এ কোন রোগে ভুগছি, আমি কেন স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারছি না। এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করছি। এই চিন্তাগুলো এক সময় দূর করে ফেলি, কিন্তু আমার স্কুলটা বাড়ি থেকে অনেক দূর হওয়ায় যাওয়া আসার সময় এই চিন্তাগুলো আবার আসতে আসতে আমায় বিষণ্ণতার দিকে নিয়ে যায়।

এমনও হয় চার পাঁচদিন ঘর থেকে বের হই না। তখন আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরে এই ভয়-ভীতির চিন্তা ও নিজের শরীরকে নিয়ে নানাবিধ উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।

স্যার গত পাঁচ মাস আগে হরমোন টেস্ট করেছিলাম TSH ছিল ৬.২৫, তখন আমাকে SYNROID 50 হাফ করে তিন মাস খেতে বলেছিলেন এবং তিন মাস পর আবার পরীক্ষা করতে বলেছিলেন, কিন্তু করা হয়নি। এখন কীভাবে এসব চিন্তা থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারব? আমি জানি এই ভয়-ভীতির চিন্তা আমার কিছু হবে না।

কিন্তু আমার মনকে বিষিয়ে তোলে যার ফলে দুই মাস ধরে খুবই বিষণ্ণতায় ভুগছি, মনে হয় বাঁচব না। সারাদিন শুয়ে শুয়ে দিন পার করি আর দুর্বল দুর্বল চিন্তা এসে ভর করে।

উত্তর: আপনার রোগের শুরুতে প্রচণ্ড রাগান্বিত হওয়া এবং পরবর্তীতে হতাশা, দুর্বলতা, হতাশাজনিত রোগ (Major depressive disorder)-এরই বহিঃপ্রকাশ। এ হতাশা কাটিয়ে উঠতে না পারায় আপনার বুক ধড়ফড় করে এবং ভয় কাজ করে। যদিও সাধারণের দৃষ্টিতে উল্টোটাই মনে হবে, অর্থাৎ ভয়ের কারণে হতাশা আসছে।

তবে আপনার সমস্যার উৎস যাই হোক এ রোগের খারাপ দিক হলো দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা অনেকটা কমিয়ে দেয়। এমনকি যথাযথ চিকিৎসা না করলে আত্মহননের ইচ্ছাও জাগাতে পারে।

কাজেই আপনি যে ওষুধগুলো খাচ্ছেন সেগুলো এক নাগাড়ে ৯-১২ মাস খাওয়া যেতে পারে। তবেই বারবার হতাশায় পেয়ে বসার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাবে। ওষুধের বাইরেও আপনি যে যে পারিবারিক ও দৈনন্দিন কাজগুলো করছেন তা নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে। উপলব্ধি করতে হবে যে এ অসুখ সাময়িক সময়ের জন্য আসে।

আরেকটা ব্যাপার হলো, ভয়-ভীতি কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে আসে কিনা তাও খতিয়ে দেখবেন, আর যে জিনিসে বা ঘটনায় ভয় পান সে ঘটনা বা জিনিসে বারবার মুখোমুখি হলে আস্তে আস্তে ঐ ঘটনা বা জিনিসের প্রতি ভয়-ভীতি কেটে যায়। কাজে নিজেই সচেতন হয়ে, ভয়-ভীতি থেকে মুক্ত হয়ে, কর্ম-চাঞ্চল্যের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত করে হতাশা থেকে দূরে থাকতে পারবেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

প্রশ্ন-উত্তর পর্বে দেয়া উত্তরগুলো কেবলমাত্র প্রাথমিক দিকনির্দেশনা। সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সাথে সরাসরি দেখা করে চিকিৎসা নিতে হবে।

পরামর্শ দিয়েছেন

অধ্যাপক ডা. মো. মহসিন আলী শাহ্

সহযোগী অধ্যাপক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

more

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here