মনের রোগে ডায়না

0
78
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

 

প্রিন্সেস ডায়না

প্রিন্সেস ডায়না জটিল মানসিক রোগে ভুগেছেন। কেন? তখন তার স্বামী প্রিন্স চালসের ভূমিকা কেমন ছিল? আর কী কী হয়েছে তার? কীভাবেই বা হয়েছেন তিনি ব্রিটিশ রাজ বংশের বধূ? কেমন মানুষ ছিলেন অনেকের অজানা লেখাটি লিখেছেন শরীফুল ইসলাম সাগর
প্রিন্সেস ডায়নার জীবনের অনেক কিছুই আমরা জানি। তার যেকোনো খবর আজও হট কেকের মতো গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কারণ হয়। তবে আমরা কী জানি প্রিন্স অব ওয়েলস চালস আথার ফিলিপের সঙ্গে বাগদানের মোটে একটি সপ্তাহের মধ্যে জটিল একটি মানসিক রোগে আক্রান্ত হলেন রাজপরিবারের নতুন এই। রাজ পরিবারের বাসস্থান উইন্ডসর ক্যাসেলে বাগদানের সপ্তাহ থেকেই শুরু হলো ডায়নার ‘বুলিমিয়া’। প্রিন্স র্চালস তার ভাবী স্ত্রী প্রিন্সেস ডায়ানার কোমরে হাত রেখেই বলে বসলেন ‘ওহ, এদিকটা মনে হয় একটু মোটা হয়ে যাচ্ছে। নাকি?’ কথাটি স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে মযাদাপূণ রাজ পরিবারের আগামী দিনের বধুটির মনে খুব লেগেছিল। তিনি আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে শুরু করলেন। এই সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। পরে ডায়না বলেছেন ‘আমার মধ্যে প্রিন্সের এই কথাটি কিছু একটা করেছিল।’ ফের জানিয়েছেন আমার স্বামীর সঙ্গে ক্যামলিয়িা পাকার বোলসের বিষয়টিও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে তখন মনে।’ অন্যের স্ত্রী ক্যামিলিয়ার সঙ্গে চালসের পুরোনো অবৈধ সম্পক স্বাভাবিকভাবে নতুন এই বিয়েতে প্রভাব ফেলেছে। সবচেয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ডায়না নিজেই। এর প্রতিক্রিয়াই বুলিমিয়া শুরু হলো তার। হঠাৎ অতিরিক্ত খাওয়া আর বমি করে ফেলে দেয়া, তারপর মানসিক থেকে শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ডায়ানার দ্রুত ওজন কমতে থাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এটি একটি মনস্তাত্বিক জটিলতাজনিত রোগ। রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অতিরিক্ত হতাশা শুরু হয়, অতিরিক্ত দুচিন্তায় আক্রান্ত হন তিনি। ফলে তা থেকে তার ক্ষুধার তীব্রতা বাড়তে থাকে। ফলে তিনি খুব বেশি খেতে শুরু করেন। তখন আবার মোটা হয়ে যাবার ভয় শুরু হয় মনে। আবার কখনো খাওয়া নিয়ে আবার অপরাধবোধ গ্রাস করতে থাকে ও এক সময় তীব্র আকার ধারণ কওে সেটি। ফলে রোগী তখন খাবারগুলো বমি করে উগড়ে দেন। অন্যদের মতো প্রিন্সেস ডায়না রোগটিতে আক্রান্ত হলেন। অনেকের মধ্যে থেকেও ধীরে ধীরে নি:সঙ্গ ও বিরক্ত হয়ে উঠতে লাগলেন তিনি। ১৯৮২ সালে তাদের বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম আথার ফিলিপ ডিউক অব কেমব্রিজের জন্ম হলো। তার মা প্রিন্সেস ডায়ানার সন্তান জন্মদানের পর থেকে পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন বা হরমোনের পরিবতনের কারণে সন্তান জন্মদানের পরের অবসাদের রোগটির লক্ষণ দেখা দিল। ফলে আরো বেশি হতাশা, ভয়াবহ মুড সুইং বা হঠাৎই আবেগের পরিবতন, ক্লান্তি ইত্যাদি ঘিরে ধরলো তাকে। নানা সময়ে রাজপূত্র স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া অপমান, সংসারের নানা বিষয়ে সর্মথনহীনতা, রাজপরবিারে সবার মাঝে থেকেও স্বামী এবং অন্যদের কারণে একা থাকা, চাইলেও মনের কথা বা প্রয়োজন বলতে না পারা এসব তাকে হতাশা ও রোগগুলোতে চরম আক্রান্ত করে দিলো। উন্নত চিকিৎসা করে ভালো হতে প্রিন্সেস ডায়নার পুরো ১২ বছর বা এক যুগ লেগে গিয়েছিল। অথচ তার জীবন কাব্য মোটেও এরকম নয়। একেবারেই মানবিক একজন মানুষ তিনি বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তান। জীবন যার বেদনার মহাকাব্য। জন্মের সময়ও বাবা ও মা দুজনকেই এই মেয়ের বদলে ছেলেই আগ্রহই কুঁড়ে, কুঁড়ে খাচ্ছিল। সেদিন ছিল ১ জুলাই, ১৯৬১। ভাগ্যের কী পরিহাস অপরূপ এই মেয়ে তাদের ছেলের দু:খ নিমেষেই ভুলিয়ে দিলো। একটি সপ্তাহ পর নাম রাখা হলো ওর ডায়ানা ফ্রান্সিস স্পেন্সার। তিনটি বছর পর দম্পতির সারা জীবনের সাধ পুত্রধন জন্মালো। ফলে তারা ছেলেতে মেতে গেলেন পুরোপুরি। তাতে বড় বোন ডায়ানার মনে স্থায়ী প্রভাব পড়েছে। সে বয়সেই নিজেকে অনাকাংখিত ভাবতে শুরু করলেন। ধীরে, ধীরে বয়স বাড়তে লাগলো অবিশ্বাস্য সুন্দরীর। তিনি আস্তে, আস্তে বুঝতে শুরু করলেন ডায়না এলে বাকি মেয়েদের মতো মা, বাবা হতাশ হয়ে যান। তাতে নিজের ভেতরে অনুশোচনার বোধ জন্মাতে লাগলো। এই চার ভাইবোনের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো ১৯৬৯ সালে বাবা-মার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেল। ডায়নার দাদা রাজপরিবারে বিয়ে করেছিলেন বলে সেই সূত্রে তারা ব্রিটিশ রাজবংশের সঙ্গে আত্মীয়তায় বাঁধা। আর তখন এই রাজ পরিবারে বিবাহ বিচ্ছেদ ছিল সবার আলোচনার বিষয়, পরিবারের সবাইকে বিব্রত করে দেয়। তবে মেয়েটি বড় হয়েছে সব মানবিক গুণ নিয়ে। বিদ্যালয়ে তার চরিত্রের অনন্য গুণ দয়াশীলতা দৃষ্টি কেড়েছে প্রত্যেকের। তিনি বয়সে ছোটদের সাহায্য করতেন নিয়মিত, শিক্ষকদের কাজে সবসময় সহযোগিতা করতেন। তবে পড়ালেখার ভুবনে অঙ্ক ও বিজ্ঞান শিখতে খুব সমস্যা হচ্ছিল ওর। শিল্প, সাহিত্যের ক্লাস খুব উপভোগ করতেন। দীর্ঘদেহী ও কর্মচঞ্চল মেয়েটি ক্রীড়াবিদ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন।

বাকিংহাম প্যালেসের বিখ্যাত বারান্দায়

ডায়ানা তাঁর বান্ধবীদের নিয়ে এক অতি বৃদ্ধা মহিলার বাসা নিয়মিত পরিষ্কার করে দিতেন। বাজার করে দিতেন তার, সঙ্গও দিতেন তাকে। তখনই প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য সেবার জন্য টাকা সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত পার্টিগুলোতে যাওয়া শুরু করলেন ডায়না ফ্রান্সিস স্পেন্সার। নতুন করে তখনই আসলে বদলে যেতে শুরু করলো এসব কাজের মাধ্যমে বিশ্ব সেরা সুন্দরীটির মনোজগৎ। নিজেকে আবিষ্কার করতে লাগলেন তিনি। বুঝতে পারলেন আপনার ভেতরে এই মানুষগুলোর সঙ্গে মিশে যাওয়ার অনন্য চারিত্রিক গুণ আছে। তখনই প্রকৃত শান্তি লাভ করেন যখন এসব করতে পারেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ায় খারাপ করতে লাগলেন নানা কারণে। পরপর দুইবার অকৃতকার্য হয়ে ইতি টানতে হলো বিদ্যায়। তবে ভাগ্য তাকে আরো সামনে ঠেলে দিলো। রাজবংশের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে ১৯৮০ সালের জুলাইয়ে একজন বন্ধুর বাড়িতে এলেন তিনি। এই বারিবিকিউ পার্টিতে দেখা হলো ব্রিট্রেনের ভবিষ্যত রাজা প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে। চার্লস মেয়েটির স্পষ্টবাদীতা ও সহমর্মিতায় ভরা দৃষ্টিভঙ্গিতে অভিভূত হয়ে গেলেন। সেই থেকে তাঁদেও দেখা সাক্ষাৎ বাড়তে থাকল। রাজ পরিবারের আবাস উইন্ডসর ক্যাসেলে প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস ফিলিপ আর্থার জর্জ ডায়ানা ফ্রান্সিস স্পেন্সারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।
২৯ জুলাই, ১৯৮১ সাল পুরো গ্রেট ব্রিটেনেই রাস্তায় নেমে পড়লেন ব্রিটিশরা। উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা। রাণীর প্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেসের সামনে তখন তীব্র হর্ষধ্বনি। দেশের প্রতিটি বাড়িতে উড়ছে ব্রিটেনের জাতীয় পতাকা। আজ ইংল্যান্ডের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লসের বিয়ের দিন। লম্বা আইভরি গাউনে সজ্জিত হয়ে কনে যখন বাবা জন স্পেন্সারের সঙ্গে বিশেষভাবে সাজানো গাড়িটিতে এসে বসলেন, তাকে অবিকল রূপকথার অপরূপ সিনড্রেলার মতোই লাগছে। তবে বিচ্ছেদ, সন্তানদেও কাছে না পাওয়া ইত্যাদি সহ আরো নানা কিছু মোটে ৩৬ বছর বয়সে তার জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। সবই তিনি বলেছেন ‘ডায়না : হার ট্রু স্টোরি’ বইতে।

বড় ছেলে কোলে স্বামী চার্লসের সঙ্গে ডায়না

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে  

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪
more

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here