প্যানিক ডিজঅর্ডার, কারণ ও আমাদের করণীয়

0
85
প্যানিক ডিজঅর্ডার, কারণ ও আমাদের করণীয়
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

প্যানিক ডিজঅর্ডার এক ধরনের মানসিক সমস্যা ও ব্যাধি। এর বাংলা অর্থ উদ্বেগ। সাধারণত ছোট ছোট ব্যাপার নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা এবং আতঙ্কিত হয়ে যাওয়া। ফলে অন্যান্য কাজের ক্ষতি হয়।

প্যানিক ডিজঅর্ডারের ফলে প্রচন্ড আতঙ্কের শিকার হয় এবং এই প্যানিক অ্যাটাকের স্থায়ীত্বকাল ৮ থেকে ১৫ মিনিটের মতো হয়। তবে অনেক সময় ক্ষেত্র বিশেষ ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের বেশী সময় হতে পারে।

সাধারণত পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশী হয়। এই মানসিক সমস্যা যেকোনো বয়সেই দেখা দিতে পারে তবে বয়ঃসন্ধিকাল (১৩-১৯) বয়সে সর্বাধিক সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া প্যানিক ডিসঅর্ডারের লক্ষণগুলো ২৫ বছর বয়সের কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা যায় অনেক।

প্যানিক ডিজঅর্ডারের আক্রমণগুলো তীব্র ভয় সৃষ্টি করে যা হঠাৎ শুরু হয় কোনও সতর্কতা ছাড়াই। সবার জন্য অভিজ্ঞতা আলাদা এবং লক্ষণগুলো প্রায়ই আলাদা আলাদা হয়।

প্যানিক ডিজঅর্ডারের কারণ

প্যানিক ডিসঅর্ডার হওয়ার কারণগুলো স্পষ্টভাবে এখন বোঝা যাচ্ছে না। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্যানিক ডিসঅর্ডারটি জিনগতভাবে সংযুক্ত থাকতে পারে। তবে প্যানিক ডিসঅর্ডারটি জীবনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সাথেও জড়িত থাকে। যেমন-

  • বৈবাহিক কিংবা দাম্পত্য জীবনে জটিলতা।
  • অর্থকষ্ট বা আর্থিক সমস্যা।
  • হঠাৎ কোনো বিষাদময় ঘটনা ঘটা।
  • অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা গর্ভপাত।
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • আবার যেকোন ফোবিয়া (অস্বাভাবিক ভীতি) থেকে প্যানিক ডিসঅর্ডার হতে পারে।
  • জিনগতভাবেও হতে পারে।

প্যানিক ডিজঅর্ডারের লক্ষণ

* স্বাভাবিক অবস্থা থেকে হঠাৎ করে বুক ধড়ফড় করা।

* তীব্র ভয় ও আতঙ্ক।

* অজ্ঞান না হয়েও অবশ বা অজ্ঞান হবার অনুভূতি সৃষ্টি।

* হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা।

* প্রচুর ঘাম হওয়া।

* নানা রকম ভয়ের চিন্তা মাথায় আসা।

* ঘন ঘন দাঁতে দাঁতে বাড়ি খাওয়া।

* কখনই সুস্থ হবো না, কেউ বাঁচাতে পারবে না, এখনই মারা যাবো এই রকম চিন্তা আসা। ডাক্তাররা কিছুই ধরতে পারছেন না এ রকম ভূল ধারণা।

যাদের প্যানিক ডিসঅর্ডার হয় তারা সবসময় উৎকন্ঠায় থাকেন। অসুখ না হলেও অসুখ বাড়লো কিনা তা নিয়ে সবসময় নজরদারি চালিয়ে যায়। অনেকেই মিনিটে কতবার শ্বাস নিচ্ছে সেটা পরিমাপও করেন। এরকম খুঁতখুঁতে স্বভাব রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ না করে বরং রোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। প্যানিক ডিসঅর্ডার দৈনন্দিন জীবন যাপনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চিকিৎসা

প্যানিক ডিসঅর্ডারের অভিজ্ঞতা প্রথমবারের মতো হলে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে তাদের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। প্যানিক ডিসঅর্ডারের ব্যাধি একেবারে নির্মূল করা সম্ভব নাও হতে পারে। অ্যালকোহল এবং উত্তেজক যেমন- ক্যাফিনের পাশাপাশি অবৈধ ড্রাগগুলো এড়িয়ে লক্ষণগুলো হ্রাস করা যেতে পারে।

এই প্যানিক ডিসঅর্ডারের জন্য মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা দেয়া হয় যেমন- CBT (Cognitive Behavior Therapy) রোগীর ভ্রান্ত ভয় ও আতঙ্ক ধারণা দূর করতে হবে এবং তাকে বুঝতে হবে যে এ রোগের জন্য মৃত্যু হয় না এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে এমনিতেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

(Family Therapy) এছাড়া রোগীর পরিবারের বাকী সদস্যদেরকে এই ডিসঅর্ডার সম্বন্ধে সাধারণ ধারণা দেওয়া হয় ফলে তারা রোগীকে সহযোগিতা প্রদান করতে পারে।

মুনমুন মতিন

অনার্স ৩য় বর্ষ

মনোবিজ্ঞান বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে

more

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here