প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম স্যার। আমি একজন ছাত্র। বয়স ২০ বছর। পড়াশোনা করতে বসলেই মন অন্যদিকে চলে যায়। পাঁচ-দশ মিনিটের বেশি একটানা পড়তে পারি না। মোবাইল দূরে রাখলেও মনোযোগ ধরে রাখতে পারি না। ছোটোবেলা থেকেও কিছুটা অমনোযোগী ছিলাম, কিন্তু এখন সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। এর কারণে পরীক্ষার ফলও খারাপ হচ্ছে। কীভাবে আমি এই সমস্যা থেকে বের হতে পারি?
মেহেদি হাসান, লক্ষ্মীপুর
পরামর্শ: ধন্যবাদ প্রশ্নটির জন্য এবং আমার মনে হয় এই প্রশ্নটি যেকোনো ছাত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। বর্তমানে বেশিরভাগ ছাত্ররাই এই কমপ্লেইন নিয়ে আমাদের কাছে আসে যে পড়তে বসলে মন বসে না, একটু পড়লেই আর পড়তে পারি না, পড়া মনে থাকে না বা মনে রাখতে কষ্ট হয়। পড়াশোনায় মন বসাতে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে প্রথমেই নিজের সুবিধা ও প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সুনির্দিষ্ট ডেইলি রুটিন তৈরি করতে হবে। এতে ঘুম থেকে ওঠা, ক্লাস, গোসল, খাবার এবং বিনোদনের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ থাকতে হবে। রুটিনটি যদি নিয়মমাফিক এবং প্রতিদিন অনুসরণ করা হয়, তবে জীবনযাত্রায় একঘেয়েমি বা বিশৃঙ্খলা আসে না। পড়তে বসে যদি দেখা যায় যে পাঁচ-দশ মিনিট পড়ার পরেই মনোযোগ চলে যাচ্ছে তাহলে প্রথমে বুঝতে হবে যে মনোযোগ কেন চলে যাচ্ছে। এটা একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়।
অনেকেই পড়তে বসে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজ করতে থাকে যেমন টিভি দেখা, মোবাইল টিপা ইত্যাদি। এরকম না করে আসলে মোবাইল বা টিভি যেটাই হোক সেটা সন্ধ্যা বা বিকেলের মধ্যেই রিক্রিয়েশনাল টাইমে শেষ করা। সন্ধ্যার পরে কোন ধরনের মোবাইল বা স্ক্রিন টাইম ব্যবহার না করাটাই ভালো। তখন মেন্টালি আমরা যদি মেনে নেই যে না আমাকে পড়তে হবে, আমার পরের দিনের পড়া আছে, জীবনে কিছু করতে হলে লেখাপড়া করতে হবে, জীবনে এগোতে হবে, পরীক্ষা দিতে হবে, লেখাপড়া সংক্রান্ত আমাদের এডুকেশনাল যে সিস্টেম রয়েছে এটার মধ্যে থাকতে হবে, তাহলে পড়ার দিকে মনোযোগ থাকবে। অনেক সময় দেখা যায় যে একটানা কিছুক্ষণ পড়ার পরে আমরা টায়ার্ড হয়ে যাই। তো সেই ক্ষেত্রে বলবো যে একটানা দীর্ঘক্ষণ না পড়ে প্রতি আধা ঘণ্টা পড়ার পর এক-দুই মিনিটের বিরতি নিন। একটু হাঁটাচলা করে আবার পড়তে বসলে একঘেয়েমি কাটে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
এছাড়াও পড়ার জন্য একটি নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশ থাকা অত্যন্ত জরুরি। আশেপাশে হই-হুল্লোড় বা টিভির শব্দ থাকলে মনোযোগ নষ্ট হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের উচিত পড়ার সময় টিভির ভলিউম কমিয়ে রাখা বা শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করা। এই নিয়মগুলো মেনে একটি সুশৃঙ্খল রুটিন অনুসরণ করলে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে এবং শেখার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন
- অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোর্শেদ
- বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

