বলা হয় একজন মানুষের জীবনে কঠিন সময় আসাটা খুব দরকার। কঠিন সময়ের কারণেই মানুষ সাফল্য উপভোগ করতে পারে। চাকরি হারানো, ব্যবসায় ক্ষতি, পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পরেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়া—এসব ঘটনা মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
পৃথিবীজুড়ে যাদের আমরা সাফল্যের শিখরে দেখে থাকি, তারাও কিন্তু জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ব্যর্থতার স্বাদ পেয়েছেন। এক-দুবার ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ হাত গুটিয়ে বসেন কিন্তু সবচেয়ে সফল মানুষগুলোকে জিজ্ঞেস করে পাওয়া যায় ভিন্ন চিত্র। ক্ষমতা, অর্থ আর খ্যাতি যাদের হাতে এসেছে, তারা সেখানেই থেমে থাকেননি, জীবনের অর্থ এবং সার্থকতা খুঁজেছেন আরও গভীরে।
আরও পড়ুন…
ব্যর্থতাই যাদের অনুপ্রেরণা
পৃথিবীর বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গদের জীবন দেখলে ব্যর্থতার গল্পগুলো পাওয়া যায়। মাইকেল জর্ডান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে যাকে ধরা হয়। জর্ডানের ভাষায়, ‘‘ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়ার পর সেটা আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করেছে।’’ জর্ডান যখন হাইস্কুলে, তখন ছাত্রদের নিয়ে করা একটি বাস্কেটবল টিমে তার জায়গা হয়নি। অথচ আজ সে বাস্কেটবলে সর্বসেরা।
টানা ১৩ বছর ধরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি ছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী বিল গেটস শুরু করেন ব্যবসা। সেই ব্যবসা সফলতা দেয়নি তাকে। বলা যায় একরকম বিপর্যয় ছিল তা। তবে এতে বিল গেটস ভেঙে পড়েননি। ওই ব্যর্থতাকে কোনো রকম মাথায় না নিয়েই দ্বিগুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে শুরু করেন মাইক্রোসফট নামের নতুন প্রতিষ্ঠান।
ব্যক্তি জীবনে আমাদের আশেপাশে ব্যর্থতার পর নতুন উদ্যমে ফিরে এসে সাফল্যের গল্প হাজারো। এর জন্য শুধু দরকার মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাস।

ব্যর্থতা: শিক্ষার সবচেয়ে বড়ো বিদ্যালয়
সাফল্য মানুষকে আত্মবিশ্বাস দেয়, কিন্তু ব্যর্থতা মানুষকে প্রজ্ঞা দেয়। ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি বুঝতে পারেন কোথায় তার দক্ষতার ঘাটতি ছিল, কোন সিদ্ধান্তগুলো ভুল ছিল, কোন অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়। অর্থাৎ, ব্যর্থতা কেবল একটি ফলাফল নয়, এটি একটি প্রতিক্রিয়া, যা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপকে আরও কার্যকর করতে পারে।
জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসের সৌন্দর্য ও পুনর্গঠন
ক্রিকেটে যেমন দ্বিতীয় ইনিংস কখনো কখনো প্রথম ইনিংসের চেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়, তেমনি জীবনের দ্বিতীয় ক্যারিয়ারও অনেক সময় প্রথমটির চেয়ে বেশি সফল হয়। কিছু পদক্ষেপ ব্যর্থতাকে সাফল্যে পরিণত করতে পারে। যেমন—
১. পরিবর্তনশীল মানসিকতা গড়ে তোলা
২. নেতিবাচক চিন্তা বদলানো
৩. শেখার চেষ্টা অব্যাহত রাখা
৪. ব্যর্থতাকে বিশ্লেষণ ও শিক্ষা গ্রহণ
৫. হতাশা, রাগ বা দুঃখের অনুভূতিগুলোকে গ্রহণ করে ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাসী হওয়া
৬. অন্যের সাথে তুলনা করা বন্ধ করে ছোটো ছোটো লক্ষ্য নির্ধারণ করা
‘‘আমি ব্যর্থ মানুষ’’—এই চিন্তা মানুষকে নতুনভাবে শুরু করার সাহস থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে, সবচেয়ে বড়ো পরাজয় হলো ব্যর্থতার পর আর কখনো নতুনভাবে শুরু করার চেষ্টা না করা।
- ডা. মো. সামীউল আলম
- এমবিবিএস এমডি (সাইকিয়াট্রি)
- সহকারী অধ্যাপক মনোরোগবিদ্যা বিভাগ,
- মার্কস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

আরও দেখুন…

