অলসতা মানুষের একটি অভ্যাস যা অযথা কাজ এড়ানোর প্রবণতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যদিও অলসতা সাময়িক আরামের অনুভূতি দেয়, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি এবং সমাজ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। কেননা অলসতা আমাদের কর্মস্পৃহা হ্রাস করে, সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয় এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত করে। উৎপাদনশীলতা ও কর্মক্ষমতা কমায় তা সামাজিকভাবেও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অলসতার পেছনে নানাবিধ কারণ থাকতে পারে, যেমন-মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, লক্ষ্যবিহীন জীবনাচরণ ইত্যাদি। ইদানীং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার, যেমন- স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আসক্তি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর অতিনির্ভরশীলতা মানুষকে আরও অলস করে তুলছে বলে ধারণা করা হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরশীলতার সাথে আলস্যের কেমন সম্পর্ক রয়েছে তা যাচাই করতে ২০২৩ সালে চীন ও পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। Purposive Sampling পদ্ধতিতে মোট ২৮৫ জন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৬৪ জন পুরুষ এবং ১২১ জন নারী। Likert Scale-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরশীলতা এবং অলসতার মাত্রা যাচাই করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের অলসতার ৬৮.৯ শতাংশের জন্য দায়ী হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরশীলতা! অলসতার সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরশীলতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে t-value 1.96-এর চেয়ে বেশি এবং p-value 0.05-এর চেয়ে কম, যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ!
স্টিফেন হকিং একদা বলেছিলেন, “মানবসভ্যতার ইতিহাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবিষ্কারই হয়ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হবে।” সত্যিই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্যে অনন্য একটি আবিষ্কার। তবে এ আবিষ্কার বিভিন্ন উপকারে আসলেও তার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আলস্যের স্থবিরতায় আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনও স্থবির হওয়ার উপক্রম হবে।
রেফারেন্স-
https://www.nature.com/articles/s41599-023-01787-8
• ডা. ফয়সাল রাহাত
• ফেইজ বি রেসিডেন্ট, এমডি (সাইকিয়াট্রি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।


