করোনা কালে ঘরে না থাকার মানসিকতা এবং নেপথ্যের যত কারণ

0
84
করোনা কালে ঘরে না থাকার মানসিকতা এবং নেপথ্যের যত কারণ
কোন ব্যক্তির মানসিকতা এবং তার ব্যক্তিত্ব এই মহামারীর মত সময়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তার ঘরে থাকা বা না থাকার মত বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।

সারা বিশ্বে করোনা মহামারী এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ নতুন রুগী পাওয়ার সাথে সাথে হাজার হাজার মানুষ এই মহামারীতে মৃত্যু বরণ করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই মহামারী দমন বা প্রতিরোধে কার্যকরী তেমন কোন ব্যবস্থা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। শুধুমাত্র কিছু পারিপার্শ্বিক বিষয় খেয়াল রাখার মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকার প্রচেষ্টার মাধ্যমে করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকার প্রয়াস করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতা হিসেবে বিশ্বব্যাপী সকল মানুষকেই করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এভাবে মানুষকে ঘরে রাখা এবং করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতা প্রাপ্তি একেবারেই নির্ভর করছে তারা ঘরে থাকতে কতোটা আগ্রহী  এবং কতোটা সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা প্রদর্শন করবে তার উপর। মানুষ এ ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা প্রদর্শন করবে কি না বা এ সময়ে ঘরে থাকতে আগ্রহী কি না সেটি যেমন নির্ভর করে তাদের সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ও অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্ন বাহ্যিক অবস্থার উপর তেমনি অনেকটাই নির্ভর করে কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় যেমন তাদের ইচ্ছে, উদ্দেশ্য, আগ্রহ, মানসিকতা, বিবেক বুদ্ধি এবং ব্যক্তিত্বের উপর।

বিভিন্ন দেশে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে যে তাদের এই ইচ্ছা বা মানসিকতার উপর শুধু সেখানকার সরকারী ব্যবস্থাপনার প্রভাবই কাজ করে তা নয়, বরং প্রত্যেকের নিজস্ব বিচার বুদ্ধির প্রভাব ও থাকে। আর এই বিচার বুদ্ধি এবং মানসিকতাই ব্যক্তির আচার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। মহামারীর মত দুঃসময়ে এসব বিষয় আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে।

এখন প্রায় সব দেশেই লকডাউনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ভাবে। প্রয়োজন ছাড়া সবাইকেই ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। অযথা ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করলে জরিমানার ও ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আইন যত কঠিন হোক একটা বড় অংকের মানুষের মাঝে এসব  আদেশ নির্দেশ না মানার প্রবণতা রয়েছে প্রবল্ভাবে। অনেকেই অকারণে ঘরের বাইরে গিয়ে আড্ডা দিচ্ছে, ঘোরাফেরা করছে। তাদের মাঝে আইন অমান্যকারী মানসিকতা দেখা যাচ্ছে। এদের অধিকাংশ মানুষের মাঝেই করোনা সংক্রমণ নিয়ে সঠিক জ্ঞান নেই। আবার অনেকে জেনে বুঝেও আইন অমান্য করার মানসিকতা দেখাচ্ছে কারণ তাদের মাঝে নেতিবাচক  চিন্তাভাবনা কাজ করছে। তারা সকল আইনকেই অমান্য করার মত মানসিকতা লালন করে এবং কোন বিপদ বা সমস্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং নিজের ভাললাগাকেই তারা গুরুত্ব দেয়।

আবার অনেকে অনন্যোপায় হয়েই এই মহামারীর মাঝে বাইরে বেরোতে হচ্ছে। অনেকেরই অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য বাধ্য হয়ে, পেটের তাগিদে বাইরে বের হতে হচ্ছে। তাদের মাঝে ইতিবাচক মানসিকতা বা বুদ্ধি বিবেচনা থাকা সত্ত্বেও তারা বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অনেকে ঘরে থেকে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাদের মাঝে মানসিক অবসাদ, বিষণ্ণতা এতোটাই বেড়ে গেছে যে মনের এই অবসন্ন ভাব দূর করতেই তারা এক প্রকার বাধ্য হয়ে বাইরে হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের ভয় তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে পারছেনা এবং তারা বাইরে বের হচ্ছে। এতে যেমন তারা সংক্রমণের কবলে পড়ছে, তেমনি যারা সংক্রমণ রোধে সচেষ্ট তাদের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে।

ঘরে থেকেও সচরাচর যেসব কাজ করা যায় সেসব কাজের জন্যও অনেকে অকারণে বাইরে বের হচ্ছে। বিভিন্নভাবে তাদের বোঝানো সত্ত্বেও তাদের মানসিক অবস্থা বদলানো সম্ভব হচ্ছেনা। তারা ঘরে থাকতে নারাজ। আর এ কারণে করোনা ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বাড়ছে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হারও। এই অবস্থায় মানুষকে সঠিক ভাবে বোঝানো খুব জরুরী। পেছনে যত বড় কারণই থাকুক না কেন, মানুষের মানসিকতা যদি বদলানো না যায় তাহলে ঘরে থাকার এই নির্দেশনা কখনোই বাস্তবায়িত হবেনা। তাই মানসিকতার পরিবর্তনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সূত্র: https://www.psychologytoday.com/us/blog/unique-everybody-else/202009/personality-and-sheltering-in-place-during-the-pandemic

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ পেতে দেখুন: মনের খবর ব্লগ
করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক টেলিসেবা পেতে দেখুন: সার্বক্ষণিক যোগাযোগ
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
করোনায় সচেতনতা বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও বার্তা দেখুন: সুস্থ থাকুন সর্তক থাকুন

Previous articleআমার স্ত্রীকে আমি কিভাবে বুঝাতে পারি?
Next articleটরেট সিনড্রোম বা মুদ্রাদোষের লক্ষণ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here