বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তবে সীমিত জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে চিকিৎসকরা লড়াই করছেন একাধিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে। এই বাস্তবতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মানসিক রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন সম্প্রতি মনের খবর-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় তুলে ধরলেন দায়িত্বের ভিড়ে কেমন সময় কাটছে তাঁর, সরকারি পর্যায়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রাপ্তি কোথায় দেখেন, এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনা। সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার থেকে শুরু করে তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
মনের খবর: কেমন আছেন?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
মনের খবর: সাম্প্রতিক সময়টা কেমন কাটছে আপনার ?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: সাম্প্রতিক সময়টা দায়িত্ব পালন ও ব্যস্ততার মধ্যে কাটছে। বিশেষ করে জুলাই ২১, ২০২৫ এর মাইলস্টোন স্কুলের প্রাঙ্গণে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করতে গিয়ে দৈনন্দিন স্বাভাবিক দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে ব্যস্ত বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল কর্মকর্তা, ও ট্রেইনী সাইকোলজিস্টদের পরিচালনার কাজ করতে হয় । জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে সহকর্মীদের পাশাপাশি আমাকেও যেতে হয়েছিল।
মনের খবর: মানসিক রোগ চিকিৎসার পেশায় আপনার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হয়?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: আমার বাবা স্নাতক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকোলজি এবং দর্শনশাস্ত্র বিষয়ে পড়েছেন এবং পরবর্তীতে তিনি একটি কলেজে কিছুদিন সাইকোলজি বিষয়টি পড়িয়েছেন। পরে তিনি সরকারী প্রশাসন বিভাগে যোগদান করেন। আমাদের বাসায় সাইকোলজি এবং দর্শনের বেশ কিছু বই ছিল, যার কোনো কোনোটা আমার পড়া হয়ে গিয়েছিল। তাই মনে হয় আমার মনের অবচেতন অংশে মানসিক রোগ নিয়ে জানার প্রবণতা কাজ করত। এছাড়াও অনেক নাটক সিনেমায় দেখা মানসিক দ্বন্দ্বের জটিলতার বিশ্লেষণ আমাকে মনের রোগ নিয়ে আরো জানতে আকর্ষণ করে থাকতে পারে।
মনের খবর: কর্মজীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার এই পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও প্রাপ্তি কোনটি বলে মনে করেন?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: আমার মতে সরকারী পর্যায়ে কাজ করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল বিভিন্ন সময়ে সরকারের প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করা; যার মধ্যে অনেক স্থানে চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাজ করার পরিপূর্ণ অবকাঠামো, সহায়ক প্রশিক্ষিত জনবল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ঘাটতি রয়েছে।সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির হিসাব করতে গেলে আমি মনে করি ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের মতো এতো বড় একটা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারা আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, কারণ এখানে সারা দেশের থেকে আগত রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়েছে এবং সাথে সাথে বেশ কিছু সাইকিয়াট্রি ট্রেইনী ও ট্রেইনী সাইকোলজিস্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানের সুযোগ ঘটেছে।

মনের খবর: বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক রোগ বিভাগের সেবা কাঠামো ও চিকিৎসার ধরন সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরবেন কি?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: মানসিক রোগ বিভাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজে দুই ভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হয়; প্রথমতঃ রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়, এবং দ্বিতীয়তঃ বহির্বিভাগে রোগী দেখা হয়। ভর্তি রোগীদের পরিচর্যার জন্য নার্সিং কর্মচারীরা, সাইকিয়াট্রি পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনীরা, সহকারী রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রার, সহকারী অধ্যাপক, এবং সহযোগী অধ্যাপক দলগতভাবে কাজ করেন। বহির্বিভাগেও একইভাবে মেডিকেল কর্মকর্তারা উর্ধতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে রোগী দেখে থাকেন। এছাড়াও ট্রেনী সাইকোলজিস্টরা তাদের কাছে এসাইন করা রোগীদের নিয়মিত সাইকোথেরাপী দিয়ে থাকেন। হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগ হতেও রোগী রেফার করা হয়ে থাকে যা পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসকগণ দেখে থাকেন।
মনের খবর: মানসিক রোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের মধ্য সচেতনতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বদলেছে বলে আপনি মনে করেন?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: মানসিক রোগের চিকিৎসার ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করি। এখন মানুষ শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা নিয়েও সচেতন। মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে যায়। তবে মানসিক রোগ নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান আছে। যেমন, মানুষ এখনো ঝাড়-ফুক, তাবিজ-কবজ, ওঝা-ফকির-এ বিশ্বাস করে এবং এগুলোর সাহায্যে মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে চায়। মানুষ এখনো মনে করে যে, মানসিক রোগের ঔষধ একবার শুরু করলে আর বন্ধ করা যায় না, এবং মানসিক রোগের ঔষধের দ্বারা মানসিক রোগ সৃষ্টি করা হয়।
মনের খবর: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগে কী কী ধরণের মানসিক রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: ঢাকা মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগে মেজর সাইকিয়াট্রিক ডিসঅর্ডার, যেমন-সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিস অর্ডার (ম্যানিক এপিসোড); এবং মাইনর সাইকিয়াট্রিক ডিস অর্ডার, যেমন- মানসিক অবসাদ (ডিপ্রেশন), উদ্বেগাধিক্য (এনজাইটি ডিসঅর্ডার), শারীরিক উপসর্গ নিয়ে রোগ (সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার), ব্যক্তিত্বের সমস্যা (পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার) ইত্যাদি রোগ নিয়ে রোগীরা আসেন এবং এ সকল রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।
মনের খবর: বর্তমানে কোন কোন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বা থেরাপি বর্তমানে চালু রয়েছে?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: প্রধান দুই ধরণের আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে ফার্মাকোথেরাপী বা ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা; দ্বিতীয় ধরণটি হলো সাইকোথেরাপী বা কথা বলার মাধ্যমে চিকিৎসা। ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা হতে পারে মুখে খাওয়ার ঔষধের এবং শরীরের মাংসপেশীতে ইঞ্জেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে। সাইকোথেরাপীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সব ধরণের থেরাপী-ই এখানে প্রয়োগ করা হয়—শুধু গ্রুপ থেরাপী ব্যতীত।
মনের খবর: সরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় আপনার দেখা সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা কোনটি?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: সরকারী পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো প্রয়োজনের তুলনায় সবকিছুর স্বল্পতা। প্রয়োজনের তুলনায় এখানে বাজেট কম, দক্ষ মানব সম্পদের সংখ্যা কম, কাজের জন্য যতটুকু স্থান লাগে তার প্রাপ্তির পরিমাণও কম।
মনের খবর: মানসিক রোগ নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কার কীভাবে চিকিৎসা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: মানসিক রোগ নিয়ে ভুল ধারণা যেমন, এসব রোগ জ্বীন, ভুত, বা কোনো কিছুর প্রভাবে হয়, এসব মনে করায় রোগের চিকিৎসায় বিলম্ব হয়। রোগীর লোকজন রোগিকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে ওঝা, বৈদ্য, ফকির-এর কাছে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করে। পরবর্তীতে কোনো উপকার হয় না দেখে রোগীর লোকজন চিকিৎসকের কাছে আসে। কুসংস্কারের কারণে এরা রোগীকে অপরাধী অথবা তার কাছ থেকে রোগ ছড়াতে পারে মনে করে। এছাড়াও রোগী ইচ্ছাকরে অস্বাভাবিক আচরণ করছে মনে করে রোগীকে সেবা দেয়ার বদলে নিপীড়ন করে।
মনের খবর: আপনি কীভাবে মানসিক রোগ চিকিৎসার এই সামাজিক বাধাগুলো ভাঙতে কাজ করছেন?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: যেকোনো শিক্ষিত মানুষের দায়িত্ব হলো কুসংস্কারকে দূর করে সুশিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করা এবং সেই শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে আমার দায়িত্বও হচ্ছে ব্যক্তি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে কুসংস্কারকে চিহ্নিত করে সেগুলো পরিত্যাগ করা । আমার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের চিকিতসকরাও কুসংস্কার ও সামাজিক বাধা দূর করে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানসিক রোগ চিকিৎসার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। আমার লেখার মাধ্যমেও আমি কুসংস্কার ও সামাজিক বাধা ভাংগার কাজ করছি।
মনের খবর: চিকিৎসা সেবার প্রেক্ষাপটে জনবল, অবকাঠামো বা প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে কী কী সমস্যার মুখোমুখি হন?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: চিকিৎসা সেবার প্রেক্ষাপটে জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। অনুমোদিত পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূণ্য রয়েছে যাতে যথাযথ সেবা প্রদান করতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। অবকাঠামোর ক্ষেত্রে স্থানের স্বল্পতা রয়েছে যাতে সবাইকে যথাযথভাবে বসার ব্যবস্থা করা যায় না যাতে সেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে মনে রাখতে হবে যে, মানসিক রোগীকে শান্ত পরিবেশে যথেষ্ট সময় দিয়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান করতে হয়। প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা অবশ্য যথাযথ অবস্থানে রয়েছি বলে মনে করি।
মনের খবর: মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কীভাবে একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: আমি মনে করি মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখনই একটা রোল মডেল । জনবল এবং স্থানের সংকট দূর করা গেলে আমরা আরো পূর্ণাংগভাবে সেবা প্রদান ও শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারব।

মনের খবর: বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আপনার তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে চলে এবং সরকারের পরিকল্পনা অনুসরণ করে। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আমি আমার পূর্ববর্তী কর্মকর্তার কর্যক্রমের ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছি। ইতোমধ্যে গৃহীত কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ রেফারেল রোগী দেখার জন্য দুইটি আলাদা টিম তৈরী করা, সাইকিয়াট্রি ট্রেনিদের হাতে-কলমে বহির্বিভাগের রোগী দেখানো, নিয়মিত বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠান করা, ট্রেনি সাইকোলজিস্টদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রেজেন্টেশনের ব্যবস্থা করা, ট্রেনি সাইকোলজিস্টদেরকে এলোকেশন করা কেসগুলোর ফলো আপ এবং নিয়মিত সুপারভাইজ করা।
মনের খবর: ভবিষ্যতে বিভাগটির উন্নয়নের জন্য আপনি কী ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: বর্তমান কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে শূণ্য পদে আরো চিকিৎসা কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞের পদায়ন হোক এটা চাই। সরকারের নির্দেশিত এবং গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই।
মনের খবর: বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে হলে সরকারের কোন কোন স্তরে পরিবর্তন বা পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে আপনি মনে করেন?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: স্বাস্থ্য বিষয়ে দেশের পরিকল্পনা এবং প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক পদ তৈরী করা যেতে পারে। স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে লাইন ডিরেক্টর পদ তৈরী করা যেতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের শূণ্য পদসমূহ পূরণের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এর সাথে সাথে বিভিন্ন পদে কর্মরতদের জন্য বর্তমান স্থান যথেষ্ট নয় বিধায় নতুন স্থান বরাদ্দ প্রয়োজন।
মনের খবর: মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্ষেত্রে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক রোগ বিষয়ে সচেতনতা বা আগ্রহ বৃদ্ধিতে কোন উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের দৈনন্দিন পড়ালেখার মাধ্যমেই মানসিক রোগ বিষয়ে সচেতনতা অর্জন করে, কারণ শিক্ষার উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য হচ্ছে পরিবর্তন গ্রহণের মানসিকতা বৃদ্ধি করা। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের উন্নত জীবনাচরণ এবং অর্থনৈতিক সফলতার সম্ভাবনা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠলে তারা মানসিক রোগ বিষয়ে উচ্চতর পর্যায়ে অধ্যয়ন করতে আগ্রহী হয়ে উঠবে । তাই মানসিক রোগ বিষয়ে লেকচার ক্লাসগুলো আকর্ষণীয় করা গেলে এবং মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা নিজেদের আদর্শ চিকিৎসকের রোল মডেল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারলে এই লক্ষ্য অর্জিত হবে।
মনের খবর: মানসিক রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতায় মিডিয়া, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: মানসিক রোগ প্রতিরোধ ও এই ধরণের রোগ নিয়ে জনসচেতনতা তৈরীতে বিভিন্ন নিউজ মিডিয়া (যেমন-নিউজ পেপার), সোশ্যাল মিডিয়া (যেমন-ইউটিউব, টিকটক); পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রো-একটিভ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এই মাধ্যমগুলো সচেতনতা তৈরী করে মানসিক রোগগুলোর উপসর্গ সম্পর্কে জনগণকে অবগত করতে পারে, রোগ সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে পারে।
মনের খবর: একজন চিকিৎসক ও শিক্ষক এই পরিচয়ে আপনি দীর্ঘদিন কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় আগ্রহী চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী হবে?
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক যারা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পেশায় ক্যারিয়ার তৈরী করেছেন বা ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার করতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য হলোঃ “সারা দেশের মানুষ আপনাদের সেবা নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আপনারা দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যত। আপনাদের সুশৃঙ্খল, সময়ানুবর্তী, কর্তব্য পরায়ন হতে হবে। তাহলে আপনাদের হাতে সোনালী সাফল্য ধরা দিবে।“
মনের খবর: মনের খবরের পাঠকদের উদ্দেশ্য মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা নিয়ে কিছু বলুন।
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: মনের খবরের পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য হলোঃ আপনারা যারা মনের খবর পড়েন তারা দেশের সচেতন জনগোষ্ঠীর অংশ। মানসিক রোগ সম্পর্কে নিয়মিতভাবে পড়ালেখা করলে নিজের এবং অন্যের রোগ বুঝতে পারার সাথে সাথে নিজের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মনের খবর: মনের খবর এর কার্যক্রম কতোটা উপকারী এবং প্রয়োজনীয়।
ডা. নুর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন: মনের খবরের কার্যক্রম প্রশংসার দাবীদার; চিকিৎসক এবং জনগণের জন্য উপকারী; এবং দেশে এই ধরণের একটি ম্যগাজিনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করছে।
“বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আমরা ধারাবাহিকভাবে বিশেষ সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। সেই ধারারই অংশ আজকের এই আলাপচারিতা।”
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনেরখবর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য মনেরখবর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।
আরও দেখুন-

