মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন করোনায় নিবেদিত স্বাস্থকর্মীরা

0
30

মানসিক সমস্যায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমিতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা। নার্স, চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে চিকিৎসকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়েছিলো। স্বাস্থ্য বিষয়ক এক গবেষণায় এসব তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) রাজধানীর নিপসম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারিকালে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, কুশলবস্থা, সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরসমূহ মানিয়ে নেওয়ার কৌশল’ শীর্ষক জাতীয় জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জরিপের তথ্য বলছে, গড়ে মোট ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (পিটিএসডি) আক্রান্ত হয়েছিলেন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, টেকনোলজিস্ট ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং নার্স ২২ দশমিক ৮০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের অর্থায়নে এই গবেষণা পরিচালনা করে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)। অনুষ্ঠানে গবেষক দলের প্রধান নিপসম’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ ফলাফল তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো আঘাতের কারণে পিটিএসডি হতে পারে। এর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে পুরনো কথা মনে পড়া, দুঃস্বপ্ন, গুরুতর উদ্বেগ ও কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণহীন চিন্তা।

আরো পড়ুন…
সিজোফ্রেনিয়া : ভূতের আঁচড় নাকি মানসিক রোগ?

অধ্যাপক ডা. বায়েজীদ জানান, গবেষণাটি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। ১ হাজার ৩৯৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর গবেষণা করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৯৬ জন চিকিৎসক, ৭১৩ জন নার্স এবং ৮৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। এসব স্বাস্থ্যকর্মী অন্তত এক মাস করোনা রোগীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন জরিপ কর্মীরা।

জরিপে দেখা গেছে, নারীদের পিটিএসডি’র ঝুঁকি ছিল বেশি। যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশেরই পিটিএসডি ছিল। তাদের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ ছিলেন বিবাহিত। স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল, তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রীর (পিপিই) অপ্রতুলতায় এবং করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ছিলেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই মানসিক চাপে ছিলেন, ক্লান্ত ছিলেন এবং অনেকেরই ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছিল। অনেকে তাদের পরিবার এবং আত্মীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এতে তাদের উত্তেজনা ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘সংক্রামক রোগ হওয়ায় রোগীদের মতো আমাদেরও একই ভয় ছিল। অনেক কিছুই আমাদের কাছে ছিল অজানা। হাসপাতালগুলোও এই ধরনের নতুন রোগের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত ছিল না। রোগী, গণমাধ্যম ও গণমানুষসহ সমাজের নেতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি কাজের সময় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আমাদের মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত প্রার্থনা, টিভি দেখা, বই পড়ার মতো কার্যক্রমে সময় ব্যয় করতেন, যাতে পিটিএসডির প্রভাব কম থাকে।

নিপসম’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ বলেন, পিটিএসডি আক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা সবার থেকে দূরে সরে থাকতে পারেন বা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন অথবা তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা থাকতে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের কেউ কেউ মানসিক সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ধূমপান কিংবা ঘুমের ওষুধ সেবনকেও বেছে নিয়েছেন।

পড়ুন….
মাঙ্কিপক্স নিয়ে যা জানা প্রয়োজন
শিশুরা মাথায় আঘাত পেলে যা করবেন

তিনি আরও বলেন, এই স্বাস্থ্য সমস্যাটির সমাধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করা উচিত। গবেষণায় স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মানসিক সুস্থতায় কাউন্সেলিং প্রোগ্রাম ব্যবস্থা জোরদার ও প্রবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক বায়জীদ বলেন, পিটিএসডিতে আক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা এখন কীভাবে কাজ করছেন সে সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কেননা, গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে গত বছর।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল হাসান বাদল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন প্রমুখ।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে 

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪

/এসএস

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।
       
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here