গত ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে ঢাকার উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বহনকারী একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্মরণে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি) গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।
এক শোকবার্তায় বিএপি জানিয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী মানসিক প্রভাব শুধু দুর্ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই নয়, বরং দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, উদ্ধারকর্মী এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দৃশ্য দেখার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মানসিক আঘাত ও ট্রমা দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএপি নিম্নোক্ত বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে:
বিএপি’র গৃহীত তাৎক্ষণিক পদক্ষেপসমূহ:
- জরুরি মানসিক সহায়তা হেল্পলাইন চালু:
দুর্ঘটনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পরিবারদের দ্রুত মানসিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। - হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের জন্য বিশেষজ্ঞ টিম:
দুর্ঘটনায় আহত ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম সরেজমিনে সেবা দিচ্ছে। - বিশেষ আউটডোর সেল:
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আলাদা একটি আউটডোর সেল চালু করা হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত সেবা দেওয়া হচ্ছে। - আবাসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা:
মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অন্তঃবিভাগে বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। - দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন পরিকল্পনা:
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য পরবর্তীতে পুনর্বাসন ও থেরাপিউটিক রিহ্যাব কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। - গণসচেতনতামূলক প্রচার:
জনসাধারণের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য টেলিভিশন, সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোরোগ সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ প্রচার করা হচ্ছে।
এছাড়া পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, এক্সটেন্ডেড আউটরিচ কার্যক্রম এবং ইনডিভিজুয়ালাইজড কনসালটেশন প্রোগ্রাম গ্রহণের কথাও বিবৃতিতে জানানো হয়।
এই মানবিক সংকটময় মুহূর্তে বিএপি’র এ উদ্যোগ দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আরও দেখুন-

