কিশোরদেরকে যেভাবে ভালোবাসা জানাবেন

কিশোরদেরকে যেভাবে ভালোবাসা জানাবেন

আমরা সাধারণত খুব কাছের মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ করি, যেমন: মা-বাবা, অথবা সন্তানের ক্ষেত্রে। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসাটা তাদেরকে আগলে রাখার মাধ্যমে বা তাদের প্রতি বন্ধুসুলভ আচরণ দ্বারা প্রকাশ করে। কিন্তু প্রশ্ন এটাই যে, কেন মানুষ অন্যকে ভালোবাসে?
যে বাচ্চা ভালোবাসা পেয়ে বড় হয় তার আত্মবিশ্বাস, অন্যদের সাথে বন্ধুত্ব করা যোগ্যতা অন্য বাচ্চাদের চেয়ে বেশি হয়। অভিভাবকের স্নেহ তাদেরকে আত্মমূল্যায়ণ করতে ও কিশোর বয়সে তাদের ব্যবহার ও আবেগীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলে।
কীভাবে ভালোবাসা প্রদর্শন করবে বাচ্চার প্রতি
১। সন্তানকে এটা বলা যে আমরা তাকে ভালোবাসি।
২। আমরা কীভাবে তাদেরকে মূল্যায়ন করব? সন্তানকে অন্যদের সাথে তুলনা করে বা তার গ্রেড দিয়ে মূল্যায়ন না করে সে যেমন সেভাবেই তাকে দেখা উচিত। তাকে এটা বুঝানো দরকার যে, আমার কাছে সেই উত্তম।
৩। সন্তানকে নৈতিকতার জ্ঞান দেওয়া এবং তাকে বিপদের সময়ে সাবধান করা।
৪। সন্তানকে এমনভাবে তৈরি করা, যেন সে ভবিষ্যতে নিজেকে যোগ্য মনে করতে পারে এবং বাধা বিপত্তিকে প্রতিরোধ করতে পারে।
৫। বাচ্চাকে বুঝানো যে, আমরা সবসময় তার পাশেই আছি, যখন বন্ধুসমাজ তার পাশে থাকবে না, তখনও তার সাথেই থাকব।
৬। সন্তানের কাজে সহায়তা করা। যেমন: তার বাড়ির কাজ তৈরিতে বা সে যেখানে ঘুরতে যেতে চায় সেখানে তাকে নিয়ে যাওয়া।
৭। তাদেরকে নিজের পথে চলতে দেওয়া, যদি তারা বিফল হয় তবু।এভাবে তারা নিজের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা খুঁজে পায়।
আপনার ভালোবাসা কতোটা সত্য?
আপনি কীভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করবেন সেটা কোনো ব্যাপার নয় কিন্তু এর প্রভাব সন্তানের উপর অনেক বেশি। বাচ্চা বুঝতে পারে আপনি তাকে কতোটা ভালোবাসেন।
অনেক সময় বাচ্চারা ভুল বুঝে, যেমন আপনি তাকে বিপদ থেকে সাবধান করলেন কিন্তু সে ভাবছে আপনি তাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাকে স্বাধীনতা দিচ্ছেন না।
এজন্য বাচ্চাদের ভালোবাসাটা বুঝানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আপনি তার সাথে কথা বলার জন্য কেমন শব্দ ব্যবহার করছেন।আপনি কি ভাবছেন, তার চেয়ে মূল্যবান হলো, সন্তান কতোটা জানে তার প্রতি আপনার ধারনা কী?
সুতরাং সন্তানকে বিপদ থেকে রক্ষা করা, ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা বা তার জন্য কিছু করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। আপনি কিছু করার আগে সব সময় তাকে বুঝিয়ে বলবেন আপনি এটা কেন করছেন? যেমন তাকে বলা, আমি তোমার জন্য এই নিয়ম বেধে দিয়েছি, কারণ এটা আমার দায়িত্ব, আর আমরা তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনি যা অনুভব করছেন, সে তা না-ও বুঝতে পারে, সুতরাং আপনার উচিত আপনি যা ভাবছেন তা তাকে মুখে বলা।
তথ্যসূত্র: ‘সাইকোলজি টুডে’ জার্নালে প্রকাশিত কেনেথ গিন্সবার্গের লেখা অবলম্বনে লিখেছেন সুস্মিতা বিশ্বাস।
লিংক: https://www.psychologytoday.com/blog/raising-resilient-children-and-teens/201802/how-we-communicate-we-love-our-teens

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here