প্রশ্ন: স্যার, আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন মেয়ে। আনুমানিক ২০১৮ থেকে আমার খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয়, খেতে গেলে বমি আসতো। বমির ভাব থাকত সবসময়। ধীরে ধীরে ওয়েট লস এন্ড চেহারার সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে থাকে। ২১ এর দিকে অবস্থা এতই খারাপ হয়, কথা বললে, কান্না করলে ইভেন হাসলেও বমির ভাব হতো বা বমি হয়ে যেত কখনো কখনো। খাবার দেখলে বা কেউ খাবার খাচ্ছে দেখলেও বমি আসে। গ্যাস্ট্রিক এন্ড অন্য প্রবলেম ভেবে সব ডা. দেখানো শেষ। রিপোর্টও নরমাল। একটা সময় এসে নিজেই বুঝতে পারলাম, আমার এটা কোনো শারীরিক প্রবলেম না হয়ত মানসিক হবে। কিছু মাস আগে পিজি তে আমি মানসিক ডা. দেখাই। ঔষধ খাওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ ধীরে ধীরে ইম্প্রভ হলো। কিছু দিন পর আবার আগের মতো এখন অবস্থা। এখন আর খাবার দেখলে ওই সমস্যাটা হয় না কিন্তু এখন আমার ক্ষুধাই লাগে না। পেটে খাবার নেই সেটা আমি ফিল করি। পেট মুচড়িয়ে উঠে। কিন্তু মুখে দিয়ে খাবো সেই আগ্রহ থাকেই না। না খেলেই ভালো লাগে। দীর্ঘ দিন অনেক ভুগছি। ওজনও কমে গেছে অনেক, ২০ বছর বয়সে ওয়েট মাত্র ৩০। কি করবো বুঝতেছি না। এই অবস্থায় আমার কী করণীয় শ্রদ্ধেয় স্যার জানাবেন।
অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান: ধন্যবাদ তোমার প্রশ্নের জন্য। এটা খুব ভালো লাগছে যে তুমি নিজেই বুঝতে পেরেছো যে তোমার সমস্যাটা মানসিক, শারীরিক না। তুমি যে এটা বুঝতে পেরেছো এজন্য তোমাকে ধন্যবাদ। এটা ঠিক যে শারীরিক কোনো কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অন্য কোনোভাবে ধরা না পড়লে মানসিক কারণ থাকতেই পারে। তোমার কাছ থেকে আরও অনেক কিছু জানার দরকার ছিল। তবুও যেটুকু আমি বুঝতে পেরেছি আমার মনে হয় তুমি Psychogenic vomiting সমস্যায় ভুগছো। এ সমস্যায় রোগীর কোনো শারীরিক (Organic) কারণ থাকে না কিন্তু বমি হতে থাকে। আর এসব ক্ষেত্রে কোনো সমস্যায়ও থাকতে পারে যেমন- Anxiety disorder বা Depression। যারা Anxiety disorder বা Depression ভুগে থাকেন তাদের মধ্যে এ ধরনের উপসর্গ থাকে। অন্যদিকে মানসিক ডাক্তারের ওষুধ খাওয়াতে তোমার বমির সমস্যার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু সম্ভবত ওষুধ বন্ধ করে দেয়াতে বা ডাক্তারের পরবর্তী নির্দেশ না মানাতে তোমার সমস্যার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। তবে আশার কথা হলো তোমার বমির সমস্যা এখন নেই। তবে, খাওয়ার ইচ্ছা নাই এবং তোমার ওজন অনেক কমে গেছে। আর যারা ডিপ্রেশনে ভোগে তাদের এমনটা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিপ্রেশনের ওষুধ খেলে তোমার সমস্যার উন্নতি হবে বলে আমি মনে করি। তাই তোমার প্রতি উপদেশ থাকলো দ্রুত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করো।
পরামর্শ দিয়েছেন
- অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান
- মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।


