বিষণ্নতা নিয়ে মার্কিন সাঁতারুর স্বর্ণ জয়

অ্যালিসন স্মিট ২৬ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের সাতারু। রিও অলিম্পিকে সাতারে গত সপ্তাহে স্বর্ণপদক জেতেন তিনি। এতটা সফল হলেও তিনি নিজে বিষণ্ণতা থেকে দূরে থাকতে পারেন নি। নিজের অবস্থান, কাজকর্ম নিয়ে তিনি ভুগতেন দারুন হতাশায়। নিজের পেশা নিয়ে, ব্যস্ততা নিয়ে তিনি ছিলেন প্রচন্ড রকম বিরক্ত। তাঁর মতে,”যখন অনুশীলনের জন্য রোজ সকালে আমায় ঘুম থেকে উঠতে হতো তখন থেকেই আমার মাথায় কাজ করতো কখন আমার বিছানায় যেতে পারবো।” তিনি আরো বলেন,”রোজ সকালে আমার অ্যালার্ম বেজে উঠতো আর আমার মনে হতো আমার ওঠার সময় হয়ে গেছে। কিন্তু মানসিকভাবে আমি আবার বিছানায় যাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলাম।” প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে তিনি সুইমিংপুলে যেতেন। প্রচন্ড হতাশা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালে তিনি এই হতাশার চিকিৎসা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। নিজের দৈনন্দিন জীবনে যখন তিনি এরকম সমস্যায় ভুগছেন ঠিক তখনই তিনি হারান তার কাজিনকে। গত বছর মে মাসে তার কাজিন আত্মহত্যা করেন। এরকম একটি দূর্ঘটনা তাকে আরো বেশি হতাশাচ্ছন্ন করে। ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের আরো আবনতি ঘটে। যদিও একপর্যায়ে সকলের সহায়তা ও ডাক্তারী চিকিৎসায় আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠেন।
শুধু তিনি একাই নন, বিশ্বব্যাপি প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ এরকম মানসিক হতাশার শিকার। কিন্তু এখনও মানুষের মাঝে এটা নিয়ে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার বিদ্যমান। এই অজ্ঞতা ও কুসংস্কার প্রতিরোধ করতে স্মিট এর মতো লেখনী ও মন্তব্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। গত মাসে হাফিংটন পোস্টকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্মিট বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এরকম অজ্ঞতা দূর করতে সচেতনতা আবশ্যক। এজন্য প্রয়োজনে যেকারো সাহায্য নেয়া যেতে পারে। ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হলে সাহায্য নেয়াটা আরো জরুরি।” স্মিট দেখিয়ে দিয়েছেন মানসিক অবস্থা দিয়ে কাউকে বিচার করা যায় না। বিভিন্ন কারণে মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হতেই পারে। চেষ্টা ও অনুপ্রেরণা থাকলে মানুষ এরকম অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারে। রিও অলিম্পিকে সোনা জিতে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতাকেও চ্যাম্পিয়ন করে দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র- হাফিংটনপোষ্ট
http://www.huffingtonpost.com/entry/allison-schmitt-depression_us_57aca399e4b06e52746f78cc
আব্দুল্লাহ আল মামুন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মনেরখবর.কম
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here