ছাড় প্রদানের মানসিকতা সম্পর্ককে আরও সুন্দর করে

0
29
ছাড় প্রদানের মানসিকতা সম্পর্ককে আরও সুন্দর করে
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

সংসার পরিচালনায় ক্ষমতা ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা দাম্পত্য জীবনে সুখের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিটি সম্পর্কই সুন্দর হয় দুজন সঙ্গীর উভয়ের সহযোগিতা এবং প্রচেষ্টার দ্বারা। সম্পর্ক কখনোই এক জনের প্রয়াসে সফলতা পায় না। কম কিংবা বেশী, দুজনের পক্ষ থেকেই চাই ইতিবাচক প্রয়াস এবং আন্তরিক মনোভাব।

আর এই সহযোগিতা এবং ভালোবাসার সম্পর্ক ও মানসিকতা তখনই গড়ে ওঠে যখন সম্পর্কে দুজনার মধ্যে ক্ষমতার একটি সুষ্ঠু বণ্টন বিদ্যমান থাকে। একে অপরের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করলে দুজনের মাঝেই সংসার পরিচালনায় মানসিক প্রশান্তি বিদ্যমান থাকে। তারা নিজেদেরকে দুজনার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করার সুযোগ পায়।

ফলে তাদের কাছে সম্পর্কটা জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, যার পরিপূর্ণতায় তারা নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করতে পারে। এ ধরণের সম্পর্ক যে কোন কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকে এবং তাদের কাছে দাম্পত্য জীবন যাপন করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

সম্পর্কের রসায়নে কোন কিছুই একদম মেপে মেপে করা সম্ভব নয়। সংসার পরিচালনায় দায়িত্ব, কর্তব্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ দুজন মিলে করার মানে এটা নয় যে দুইয়ে দুইয়ে চার করে নেওয়া। কখনো কখনো ঘরের পুরুষ সঙ্গীটি বেশী কাজ করে আবার কখনো অপর জন।

আবার কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমতা বিধানের পরিবর্তে অনেক সময়ই আবেগ ও ভালোবাসার গুরুত্ব বেশী থাকে। এভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রদান নির্ভর করে পরিবেশ পরিস্থিতি, আবেগ, প্রয়োজন এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার উপর। যা বৈবাহিক সম্পর্কে দুজন সঙ্গীকেই মেনে নিতে হয়।

এখানে ক্ষমতা ধরে রাখার বা পরিচালনার সব নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র নিজের কাছে রাখার বা অন্যের মতের গুরুত্ব না দেবার কোন সুযোগ নেই। আর যদি এমনটা হয়, তখন সেই সম্পর্কে দুজনার মধ্যে সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব, অভাব দেখা দেয় মানসিক বোঝাপড়ার।

ফলে সম্পর্ক বেশী দিন দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং একই সাথে সঙ্গীরা একে অপরের পরিপূরক হওয়ার পরিবর্তে এক অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

মনস্তত্ত্ববিদগণ বলেন, তারাই সুখী দম্পতী যারা সম্পর্ক ও সংসার পরিচালনায় একে অপরকে ছাড় দিয়ে চলার মানসিকতা লালন করেন। একটি সম্পর্কে দুজন সঙ্গীর কেউই নিজেকে অবহেলিত, ক্ষমতাহীন, নিয়ন্ত্রণের অধিকার শূন্য এবং অযাচিত ভাবতে চাইবে না।

এ ধরণের ভাবনা কখনোই দাম্পত্য জীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধ করতে পারেনা। কিন্তু সম্পর্কে যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা নীতি নির্ধারণে উভয়েই নিজেদের মতামতকে একে অপরের কাছে সম্মানিত, গুরুত্ববহ ও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে দেখে তখন তাদের মাঝে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক বন্ধন তৈরি হয়। যা তাদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।

এটা সঠিক যে সম্পর্কে এভাবে একে অপরকে সব সময় ছাড় দিয়ে চলা সব সময় সহজ কাজ হয় না। অনেক সময়ই দেখা যায় একই বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যেই এক গভীর আবেগ কাজ করছে। যেমন- অভিভাবকত্ব বা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, তখন সময় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সেসব বিষয় সুরাহা করতে হয়।

সব বিষয়ে এক মত পোষণ করাও সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। অনেক সময় ঘরের অনেক ছোট খাটো বিষয় নিয়েও মতভেদের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, বিবাদ কিংবা মনোমালিন্য ও দাম্পত্য জীবনেরই অংশ।

এসব ক্ষেত্রে অধিক সিরিয়াস না হয়ে বরং ছোট খাটো সমস্যায় ছাড় দিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাছাড়া সবকিছু ধরে না রেখে ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় দেওয়াই একজন উপযুক্ত সঙ্গীর দায়িত্ব।

সবারই নিজস্ব মত এবং দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। একে অপরের মত ও চিন্তা ভাবনাকে গুরুত্ব দিলে বা কিছু সময় অপরের মতকেই বেশী প্রাধান্য দিলে সম্পর্কে নিজে ছোট হয়ে যাওয়ার কোন বিষয় তৈরি হয়না। এতে দুজনার মধ্যেই দুজনের জন্য গুরুত্ব ও যত্ন বাড়ে।

তাই বলা যায়, বিবাদ বা মতভেদকে গুরুত্ব না দিয়ে, কিছু সময় একে অপরকে ছাড় দিয়ে চলার মাঝেই প্রকৃত দাম্পত্য সুখ এবং সন্তুষ্টি লুকিয়ে থাকে। কারণ এখানে উভয়ের কাছেই মনে হয় যে তারা দুজনেই জয়ী হয়েছেন।

লিংক: https://www.psychologytoday.com/intl/blog/imperfect-spirituality/202109/the-power-share-practice-can-improve-your-relationship

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

more

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here