ডিলুশন বা বিভ্রম বলতে বোঝায় এমন বিশ্বাস যা বাস্তবতা বিবর্জিত এবং যুক্তি প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি তার এই ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। সে ওই ভ্রান্ত বিশ্বাসকেই সঠিক বলে মনে করে। এটা উপসর্গ হিসেবে বিভিন্ন মানসিক রোগে দেখা যায়, কিন্তু শুধুমাত্র ডিলুশন থাকলে তা নিজেই একটি মানসিক রোগ বা ডিজঅর্ডার হিসেবে গণ্য হয়। শুধু ডিলুশনাল ডিজঅর্ডার নিয়ে গবেষণা হয়েছে অনেক কম। কারণ এটি তেমন কমন বা সাধারণভাবে পাওয়া যায় না। ১৭টি প্রবন্ধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে Prevalence rate লাখে ২৪-৩০। প্রতি ১০০ জন মানসিক রোগীর ১ থেকে ৪ জনের এই সমস্যা থাকতে পারে। ইউরোপের পর্তুগালে এই হার কিছুটা বেশি লাখে ৬০ জন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ হার ১.৮৮%! এখানে আলোচ্য গবেষণা প্রবন্ধে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে National Institute of Mental Health and Neuroscience (NIMHANS) এর ৪৫৫ জন মানসিক রোগীর মাঝে একটি জরিপ চালানো হয় ২০০০ থেকে ২০১৪ সালে। আর্থ সামাজিক পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা হয়-বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, পেশা, বৈবাহিক অবস্থা, অসুস্থতা শুরুর বয়স, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় বয়স, কতদিন ধরে অসুস্থতা, পারিবারিক ইতিহাস, চিকিৎসা, হাসপাতালের বহির্বিভাগে সেবা এবং ভর্তি থাকা ইত্যাদি। সেখানে ডিলুশনাল ডিজর্ডার যাদের মধ্যে আছে তাদেরকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। যেমন-Insidious onset (৩ সপ্তাহের বেশি) ৯৪.৯%, Sub acute onset (০৩ সপ্তাহ থেকে ০৩ মাস) ১.৫%, Acute onset (০৩ সপ্তাহের কম) ৩.৩%। সর্বমোট ৪৫৫ জন রোগীর মাঝে ২৩৬ জন পুরুষ এবং ২১৯ জন নারী ছিলেন। বিবাহিত ৭৯.৩১%, নিম্ন ৬৭.৩১%। ডিলুশনাল ডিজর্ডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে Delusion of Infidelity ৪৪.৬%, তারপর Delusion of Persecution ৩২.৭%, Delusion of Reference ১.১%, Delusion of Grandiosity. ১.৫%। ডিলুশনাল ডিজঅর্ডারের পাশাপাশি কো মর্বিডিটি হিসেবে পাওয়া গেছে ৪১.১% বিষণ্ণতা, ৯.০% উদ্বিগ্নতা, ১০.৯% প্যারানয়েড পারসোনালিটি ডিজর্ডার, ১৩.৪% মাদকাসক্তি। ডিলুশনের পাশাপাশি Auditory Hallucination পাওয়া গেছে ১৭.১%। এইসব রোগীদের পরবর্তী ফলোআপ করে দেখ গেছে ডায়াগনসিস ঠিক ছিল ৮৮.৯% এর এবং ১১.১% এর পরবর্তিতে অন্যান্য মানসিক রোগ নির্ণয় হয়েছিল। এর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ৪.৮%, বাইপোলার মুড ডিজর্ডার ২.৩%, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজর্ডার ১% নির্ণয় হয়েছে। চিকিৎসা পাওয়ার পর রেসপন্স রেট ছিল ৭৫% এর খুব ভালো, ৫০% এর আশানুরূপ নয়। তবে দেখা গেছে, সেকেন্ড জেনারেশন এন্টি সাইকোটিকে ভালো রেসপন্স করে। যদিও এই গবেষণাটি শুধুমাত্র একটা হাসপাতালের ডাটা নিয়ে করা হয়েছে, যেখানে মানসিক রোগীরাই আসে। সুতরাং কমিউনিটিতে কেমন হার তা এখনো নির্ণয় করা যায়নি। তবুও ফলাফল দেখে বোঝা যায় এটাকে খুব একটা Rare বা বিরল রোগ বলা যাবে না। তবে আশার কথা হচ্ছে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং যথাযথ চিকিৎসায় ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Reference
Clinical Presentation and Course of Persistent Delusional Disorder: Data From a Tertiary Care Center in India Karishma R. Kulkarni, MBBS, Rashmi Arasappa, MD, […], and Pratima Murthy, MD Prim Care Companion CNS Disord. 2016; 18(1): 10.4088/PCC.15m01883. Published online 2016 Feb 4. doi: 10.4088/PCC.15m01883PMCID: PMC4874764 PMID: 27247844
- ডা. সাদিয়া আফরিন
- শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ,
- জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

