প্রশ্ন: খুব ছোটোলায় বেশ কয়েকবার হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়েছি। ছোট্ট মেয়ে বলে কাছে ডেকে আদর করার বাহানায় দাদার বয়সি, বাবার বয়সি লোক আমার প্রাইভেট পার্টে হাত দিয়েছে। এর পর রাস্তার ভিড়ে, বাসে অচেনা লোকজন ঠিক কতবার গায়ে হাত দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঝে মাঝে মনে হয় এটাই কি জীবন? নিজের পরিবার ছাড়া অন্য কোনো পুরুষ মানুষকে আমি সহ্য করতে পারি না। কেউ আমার দিকে তাকালে অসম্ভব ভয় হয়। মনে হয় আবার হ্যারাস হবো। এসব ভাবতে ভাবতে আমি প্রচণ্ড পরিমাণে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছি। আমি এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাই।

পরামর্শ: আপনার প্রশ্নটা মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। অবশ্যই আপনি এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চান। আপনার ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ়তার দ্বারা আপনি এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন এ আশা রাখি।
আপনি ছোটোবেলায় বয়স্ক ব্যক্তিদের দ্বারা অশোভন স্পর্শের (bad touch) শিকার হয়েছেন। সাধারণত পরিবারের বয়স্ক আত্মীয়/কাছের মানুষদের দ্বারাই ছোটো মেয়ে শিশুরা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তিতে রাস্তার ভিড়ে অচেনা মানুষেরা আপনার গায়ে খারাপ ভাবে হাত দিয়েছে। আপনি এখন সর্বদা ভয়ে থাকেন আবারো এ ধরনের হ্যারাসমেন্ট হতে পারে।
কোনো ঘটনার জন্যই আপনি দায়ী নন। ছেলেবেলায় আপনার বাবা/মা যদি সতর্ক থাকতেন তবে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত হয়ত-বা। তবে মনে হয় তাঁরাও একেবারেই আঁচ করতে পারেননি যে, এ ধরনের কিছু ঘটতে পারে।
এখন আপনি বড় হয়েছেন। এখন আপনাকেই সতর্ক থাকতে হবে। যখনি কেউ আপনার শরীরে হাত দেবে আপনি সাথে সাথেই ঘুরে দাঁড়াবেন; পারলে ঘোরার আগেই পারলে আপনার কাঁধে বা অন্য জায়গায় রাখা হাতটি ধরে ফেলবেন। সবার সামনেই তার নোংরা মনের মুখোশ খুলে দেবেন। সেটা সম্ভব না হলে লজ্জা না করে উচ্চস্বরে জানান দেবেন যে, মহিলাদের এ অপমান সবার অপমান। অন্যায়/অভদ্র আচরণের প্রতিবাদ জানানোটা জরুরী।
তবে আপনি এখন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সম্ভবত আপনার আত্মবিশ্বাসও কমে এসেছে। এজন্য মনোচিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। ঔষধ সেবনের দরকার হতে পারে। সেই সাথে সাইকোথেরাপি সেবা নিন। দীর্ঘমেয়াদে (কম পক্ষে ছয় মাস) লেগে থাকলে আত্মবিশ্বাসী আপনাকে এসব বিষয় বিচলিত করতে পারবে না।
ভালো থাকুন। শুভকামনা আপনার জন্য।
পরামর্শ দিয়েছেন
- অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার
- সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ,
- বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।


