মুড সুইং (Mood swing) বলতে একজন মানুষের অনুভূতি বা মানসিক অবস্থার হঠাৎ বা খুব দ্রুত পরিবর্তনকে বোঝায়। অর্থাৎ, একজন মানুষ কোনো সময়ে খুব ভালো, শান্ত বা আনন্দিত, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই খুব দুঃখী, রাগান্বিত বা বিরক্ত হয়ে পড়তে পারে। সাধারণভাবে মানুষের মেজাজ দিনের বিভিন্ন সময়ে কিছুটা ওঠানামা হওয়া স্বাভাবিক। তবে যখন এই পরিবর্তনগুলো খুব ঘন ঘন হয়, খুব তীব্র হয়, অথবা দৈনন্দিন কাজ, পারস্পরিক সম্পর্ক বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা সৃষ্টি করে, তখন এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
মুড সুইং বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন: মানসিক চাপ বা জীবনের কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা, হরমোনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, ওষুধ বা নেশাজাতীয় পদার্থের অপব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা যেমন বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা ইত্যাদি। সহজভাবে বললে, মুড সুইং হলো মনের অনুভূতির দ্রুত পরিবর্তন, যা কখনো স্বাভাবিক হতে পারে, আবার কখনো মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার একটি লক্ষণও হতে পারে।
মুড সুইং যখন অসুস্থতার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন তার চিকিৎসায় ওষুধ ও সাইকোথেরাপি দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, তাদের কাজ আলাদা। ওষুধ মূলত শরীরের জৈবিক বা ব্রেইন কেমিস্ট্রির ভারসাম্য ঠিক রাখে। অতিরিক্ত মুড ওঠানামা কমায়, ম্যানিয়া বা তীব্র বিষণ্ণতার মতো এপিসোড নিয়ন্ত্রণ করে, রোগের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমায়, দীর্ঘমেয়াদে মনকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। সহজভাবে বললে, ওষুধ মস্তিষ্কের ‘ঝড়’-কে শান্ত করে।
অপরদিকে, সাইকোথেরাপি মানুষের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। নিজের মুড পরিবর্তনের ধরন বুঝতে সাহায্য করে, স্ট্রেস ও তার কারণ মোকাবিলার দক্ষতা শেখায়, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও ইমপালস কমাতে সাহায্য করে, নিয়মিত ঘুম, কাজ ও দৈনন্দিন রুটিন গড়ে তোলে, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি করে। সহজভাবে বললে, সাইকোথেরাপি মানুষকে স্থিতিশীলভাবে জীবনযাপন চর্চা করতে সাহায্য করে।
অল্প কথায় বলা যায়-ওষুধ শরীর ও মস্তিষ্কের জৈবিক ভারসাম্য ঠিক করে আর সাইকোথেরাপি মানসিক দক্ষতা ও ক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করে। মাঝারি থেকে গুরুতর মুড সুইংয়ের ক্ষেত্রে ওষুধ ও সাইকোথেরাপি একসাথে ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। ওষুধ উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করে, আর সাইকোথেরাপি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্থতায় সাহায্য করে।
- ডা. শাহরিয়ার ফারুক
- সহকারী অধ্যাপক, এডাল্ট সাইকিয়াট্রি, ওএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

