প্রশ্ন: আমার ছেলের বয়স ১০ বছর। ও বাইরে খেলতে গেলে বা স্কুলে গেলে আমি সবসময় চিন্তায় থাকি। মনে হয় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, কেউ তাকে আঘাত করতে পারে কিংবা সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। সে একটু দেরি করে বাসায় ফিরলেই আমি খুব অস্থির হয়ে পড়ি। অনেক সময় বারবার ফোন করে তার অবস্থান জানতে চাই। আমি বুঝতে পারি যে আমার ভয়টা হয়ত অতিরিক্ত, কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। এই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কি আমার সন্তানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে?
পরামর্শ: আপনাকে প্রশ্নের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি আপনার বাচ্চা কোন ক্লাসে পড়ে সেটা জানি না, আপনি লিখেন নাই। আর আপনার কয় সন্তান সেটাও কিন্তু আমরা জানি না, লিখেন নাই। এটা আপনার কততম সন্তান— সেটাও জানি না। আপনার বয়সটাও কিন্তু এখানে লিখেন নাই।
আরো কিছু বিষয় জানতে পারলে খুব ভালো হতো, যেটা এখন আমরা জানতে পারছি না। আপনার প্রশ্নটি পড়ে বুঝা যাচ্ছে যে, আপনি অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার বা উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছেন। আরেকটা হতে পারে যে আপনি সেপারেশন অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন। সেপারেশন অ্যাংজাইটি মানে আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকে দূরে গেলে আপনার অ্যাংজাইটি হওয়া। প্রথমটি আমি যেটা বলছি সেটা হচ্ছে অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার, আর সেপারেশন অ্যাংজাইটি মূলত বাচ্চার হয়, আবার প্যারেন্টসদেরও কিন্তু সেপারেশন অ্যাংজাইটি হতে পারে।
তো যেভাবেই হোক, এটা একটা অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগজনিত সমস্যা। এটার কারণ অনেক রকম হতে পারে। এই রোগের কারণে আপনি আপনার বাচ্চাকে নিয়ে বা আপনাকে নিয়ে হয়ত সবসময় ইনসিকিউরিটি ফিল করেন, সেটাও কিন্তু এটার কারণে হতে পারে। এটা উদ্বেগজনিত সমস্যা এবং আপনি এটার একটা চিকিৎসাও নিতে পারেন। ওষুধ দিয়ে চিকিৎসাও হতে পারে, সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যেতে পারেন, আপনি সাইকোথেরাপি নিতে পারেন।
আপনি নিজের চিকিৎসার কথা বলেন নাই, আপনি বলেছেন যে, ‘‘এই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কি আমার সন্তানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে?’’ দুইভাবে আপনার সন্তানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। একটা হলো—অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাটা সে যদি বুঝতে পারে আপনি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন, তাহলে তার মধ্যেও চিন্তাটা ঢুকতে পারে এবং আপনাকে দেখে প্রভাবিত হয়ে সেও দুশ্চিন্তা করতে পারে। সেই হিসেবে দুশ্চিন্তার একটি রোগ যদি তার মধ্যেও হয়, তাহলে তো নেতিবাচকই।
আবার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা যদি আপনার সন্তানেরও হয়, তাহলে তার জীবননির্বাহ, তার পড়াশোনা, তার বেড়ে ওঠা—এখানেও কিন্তু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সুতরাং এই ব্যাপারটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। আপনি এটুকুই জানতে চেয়েছেন, অতএব উত্তরটা এটুকুই রাখলাম। পরিশেষে আমি বলবো আপনি ও আপনার সন্তান, আপনারা দুজনেই কিন্তু এই ব্যাপারে কোনো মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নিলে আপনারা ভালো থাকতে পারেন। ধন্যবাদ।
পরামর্শ দিয়েছেন
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আজিজুল ইসলাম
- সভাপতি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস-বিএপি।


