বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর শ্যামলীতে বৈজ্ঞানিক আলোচনা, পেশাগত মতবিনিময় ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) শ্যামলী সিনেমা হল বিল্ডিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাইকেয়ার হেলথ অ্যান্ড রিসার্চে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
‘Lived Experiences Heard: Real Voices, Real Change’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। রোগীর চিকিৎসায় শুধু শারীরিক উপসর্গ নয়, তাঁর মানসিক অবস্থা, অনুভূতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সব বিভাগের চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও দেখুন…
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল; জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. অনুপম হোসেইন; আল-মানার হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ড. আবু খলদুন আল-মাহমুদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাইকেয়ার হেলথ অ্যান্ড রিসার্চের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম; অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন এবং প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. আবদুল কাদির নোমান; এবং ফিজিওথেরাপিস্ট, লেখক ও ডিপিআরসির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. শফিউল্লাহ প্রধান।
অনুষ্ঠানে ‘Patient’s Mental Health Is Every Doctor’s Responsibility Too’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রুবাইয়াৎ ফেরদৌস। তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ডা. রুবাইয়াৎ ফেরদৌসের রচিত ‘মনকে বুঝি, মানুষকে পাশে রাখি’ বইয়ের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন। ‘মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও রেফারেল গাইড—সাধারণ জনগণ ও চিকিৎসকদের জন্য’ উপশিরোনামে প্রকাশিত বইটি মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও যথাযথ রেফারেলের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে রচিত।
বইটিতে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের ধারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের জন্য রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বিষয়ে সহায়ক নির্দেশনা দেওয়ার উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে তাঁরা লেখিকাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মিলিত ফটোসেশনে অংশ নেন।
আলোচনায় বক্তারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।


