যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জীবনে সঠিক পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব স্বভাব-চরিত্র এবং কাজের প্রতি আগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিজের পেশাগত পছন্দ ও ব্যক্তিত্বের সাথে মিল রেখে কাজ বেছে নিলে কাজের আনন্দ ও দক্ষতা—দুই-ই অনেক বেড়ে যায়। চাকরি বা কাজ পাওয়া নিয়ে সমাজে নানা রকম ভুল ধারণা প্রচলিত থাকলেও, বর্তমান যুগে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সততা, কাজের ইচ্ছা ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করেই কর্মী নিয়োগ দেয়। এক্ষেত্রে একজন পরামর্শদাতার (কাউন্সেলর) মূল কাজ হলো কর্মীর নিজস্ব ইচ্ছা ও চাহিদার সাথে বাজারের কাজের সুযোগগুলোর একটি সঠিক মিল তৈরি করে দেওয়া।
আরও দেখুন…
এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে, রোমানিয়ার ব্রাসোভ শহরের ৬০ জন কর্মজীবী মানুষের ওপর একটি জরিপ চালানো হয়, যারা সবাই সামাজিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য গবেষক সরাসরি সাক্ষাৎকার এবং কিছু মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা ব্যবহার করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘অমায়িকতা’ বা সবার সাথে মিলেমিশে থাকার গুণটি সবচেয়ে বেশি ছিল। এর পাশাপাশি তারা ছিলেন মিশুক, সাহসী, নিয়মানুবর্তী এবং কাজে সক্রিয়। নতুন কিছু জানার ও শেখার মানসিকতা মানুষের সৃজনশীলতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। নারী ও পুরুষের মধ্যে স্বভাবগত কিছু পার্থক্যও দেখা গেছে; যেমন—নারীরা বেশি অমায়িক ও সহনশীল ছিলেন, অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও মানসিক স্থিরতা বেশি দেখা গেছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মানুষের বাস্তবমুখী স্বভাবের সাথে তার ব্যবহারিক কাজের পছন্দ এবং সামাজিক স্বভাবের সাথে শিক্ষকতা বা সেবামূলক কাজের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
মূল কথা: পেশা বা কর্মজীবন আমাদের জীবনের বাইরের কোনো অংশ নয়, বরং এটি জীবনেরই একটি বড়ো অংশ। তাই ভুল বা অবাস্তব সিদ্ধান্ত এড়াতে প্রত্যেকেরই নিজের যোগ্যতা ও স্বভাবের সাথে মিলিয়ে জীবিকা নির্বাচন করা উচিত, যা তাকে ভবিষ্যতে মানসিক শান্তি ও সফলতা দেবে।
- অনন্যা ভট্টাচার্য্য
- ফেইজ বি রেসিডেন্ট, এমডি (সাইকিয়াট্রি),
- বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।


