মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home সংবাদ জাতীয় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জেন্ডার বৈষম্যমূলক রীতিনীতির পরিবর্তন করতে হবে

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জেন্ডার বৈষম্যমূলক রীতিনীতির পরিবর্তন করতে হবে

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধেজেন্ডার বৈষম্যমূলক রীতিনীতির পরিবর্তন করতে হবে বলে মনে করেন জাতীয় মহিলা পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

তিনি বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা এখনও ক্রমবর্ধমান। সহিংসতা প্রতিরোধ করতে এবং জেন্ডার সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হলে সমাজে প্রচলিত জেন্ডার বৈষম্যমূলক রীতিনীতির পরিবর্তন করতে হবে, বৈষম্যমূলক আইনের সংশোধন ও দ্রত বাস্তবায়ন করতে হবে। জেন্ডার সংবেদনশীল পাঠ্যসূচি তৈরি করতে হবে।
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এবং জেন্ডার সমতাপূর্ণ সমাজ গড়তে হলে সমাজে প্রচলিত জেন্ডার বৈষম্যমূলক রীতিনীতির পরিবর্তন জরুরি। এ জন্য বৈষম্যমূলক আইনের সংশোধনও করতে হবে বলে মনে করেন সভার অন্যান্য বক্তারা।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী নির্যাতনের মূল কারণ নারীর অধস্তনতা। এখনো নারীরা মানুষ হিসেবে সমাজে স্বীকৃত নয়। অধ:স্তনতার কারণ হলো পুরুষতান্ত্রিকতা। যা নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে। সামাজিক অবকাঠামোর মধ্যে পুরুষতান্ত্রিকতা রয়েছে। সহিংসতা প্রতিরোধে মহিলা পরিষদ তরুণদের যুক্ত করতে কাজ করছে। শিক্ষা ব্যবস্থাযও নানা অসংগতি আছে। শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। আইন প্রয়োগেও অসংগতি আছে। আইন সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য কাজ করতে হবে। নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচারের ঘটনার শিকার নারীর স্বীকারোক্তিই যথেষ্ট। নারী নির্যাতন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এটিই প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে নারী আন্দোলন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে, আজ সফল ও হয়েছে।
সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম। তিনি বলেন বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যেকোনো বয়সের নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন যুগের দাবি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ ও বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা ইয়াসমিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হসপিটাল-২) ডা. ইউনূস আলী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগেরে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সেলিনা, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএর সামিনা শিপ্রা ও জাতীয় আইন সহায়তা প্রতিষ্ঠানের হালিমা খাতুন।
প্যানেল আলোচক হিসেবে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ ও বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, যথাযথ সেবা নারীরা পায় না। নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এটি নারীর প্রতি সহিংসতার এক ধরণের রূপ। পত্রিকার খবর অনুযায়ী প্রায় ১৫০০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ইউনিসেফ এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে নির্যাতনের শিকার মায়ের প্রতি ছেলে সন্তানেরা সহানুভুতিশীল। তাদের এই ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখতে আমাদের কাজ করতে হবে। মেয়েরা উপার্জন করছে কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অধিকার নেই। এ বিষয়ে পুরুষরদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ্যডভোকেসী আন্দোলন আরো জোরদার করা প্রয়োজন। প্র্রচলিত ধর্ষণের অপরাধ সংক্রান্ত আইন যুগোপযোগী নয়। এটির পরিবর্তন করতে হবে। ধর্ষণের সংজ্ঞা বৈশ্বিকভাবে পরিবর্তিত হলেও বাংলাদেশের আইনে পরিবর্তিত হয়নি। যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে ২০০৯ সালের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের প্রণীত গাইডলাইন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর (হসপিটাল-২) ডা. মো: ইউনূস আলী বলেন ঘরের ভেতরেও নারী নির্যাতন হচ্ছে। ছেলেবেলা থেকে নানারকম বৈষম্য এর মাধ্যমে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি নির্যাতন করা হয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। মূল্যবোধের পরিবর্তন করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সালাহ্ উদ্দিন কাউসার বলেন ধর্ষণই শুধুমাত্র নির্যাতন নয়। নারী নির্যাতনের ব্যাপ্তি বহু। বাংলাদেশে মানসিকভাবে নির্যাতনের বেশিরভাগ দিকটি উপেক্ষিত। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারমুখী কার্যক্রম আরো বেশি করতে হবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি অ্যাড. সেলিনা বলেন বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলা হলেও নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বাইরে বা ঘরে কোথাও নারীরা আজ নিরাপদ নয়। নিজের অভিভাভকের কাছে ও সে নিরাপদ নয়। ঘর থেকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আইনের পরিবর্তন করতে হবে।
ঢাকা ওয়াইডব্লিউসি এর সামিনা শিপ্রা বলেন নারীরা শারীরিক, মানসিক, আর্থিকভাবে যে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তা অনেকেই বুঝতে পারে না। ঘটনা মেনে নেয়ার মত মানসিকতা রয়েছে নারীদের। সকলকে যার যার অবস্থান থেকে সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য সোচ্চার হতে হবে।
জাতীয় আইন সহায়তা প্রতিষ্ঠানের অ্যাড. হালিমা খাতুন বলেন নারী নির্যাতনের ঘটনায় অনেকেই আপোষ করছে নিরাপত্তাহীনতার কারনে। এর ফলে অপরাধী শাস্তি পাওয়া থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার এবং পুলিশ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দায়িত্বপালন করতে পারেনা।
মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যে কোনো বয়সের নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন যুগের দাবি। অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কর্মকর্তাসহ ৭০ জন উপস্থিত ছিলেন।
সভা সঞ্চালনা করেন লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাড. মাকছুদা আক্তার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন

Most Popular

মাদকাসক্ত ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হওয়ার অধিকতর ঝুঁকিতে

কোভিড-১৯ মহামারী এখন সমস্ত পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে গবেষণা বলছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মাঝে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি...

মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে সচেতনতা সৃষ্টিতে করণীয়

মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়ে। কিন্তু সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন কুসংস্কার এবং অসচেতনতা আমাদের এই সেবা গ্রহণের...

দুরন্ত নাকি মানসিক সমস্যায় ভুগছে আপনার সন্তান

শিশুদের প্রতিনিয়ত রাগান্বিত বা আক্রমণাত্মক আচরণ সহ্য করা বাবা-মা অথবা শিক্ষক কারও জন্যই স্বাভাবিক বা সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। তাদের এই আবেগের বহি:প্রকাশ যদি বাড়ির...

নিজের যত্নে জরুরি বিষয়াবলী

নিজের নিয়ন্ত্রণ, উদ্যোগ ও ইচ্ছা প্রসূত হয়ে শরীরের যত্ন নেয়াকে সেলফ কেয়ার বা নিজের যত্ন নেয়া বলে। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হলে আগে নিজের...