মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home সংবাদ জাতীয় সম্মাননা পেলেন প্রবীণ ৩ মনোরোগবিদ

সম্মাননা পেলেন প্রবীণ ৩ মনোরোগবিদ

দেশের প্রবীণ তিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে সংবর্ধনা দিলো মনের খবর.কম। অধ্যাপক হেদায়েতুল ইসলাম, অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সোবহান পেলেন এ সংবর্ধনা।
দেশের প্রথম মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক অনলাইন পত্রিকা হিসেবে মনের খবরের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তাদেরকে সম্মাননা পদক ও উত্তরীয় দেয়া হয়।
রাজধানীর ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে হয় এ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাট্যব্যক্তিত্ব আজাদ আবুল কালাম।
সম্মাননা পাওয়া তিন বিশেষজ্ঞের সংক্ষিপ্ত জীবনী
অধ্যাপক ডা. হেদায়েতুল ইসলাম
১৯৩৪ সালে শরীয়তপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে মেট্রিক ও ১৯৫৩ সালে ইন্টার মেডিয়েট পাস করেন। দুই পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগ অর্জন করেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। ১৯৬০ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
 
hedayet
সরকারি চাকরিতে তার প্রথম কর্মস্থল পাবনা মানসিক হাসপাতাল। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে মাত্র দুজন ব্যক্তিকে ইংল্যান্ডে উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের জন্য বৃত্তি দেয়। তাদের একজন ছিলেন হেদায়েতুল ইসলাম।
তিনি ১৯৬২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট অব সাইক্রিয়াটি থেকে সফলতার সঙ্গে ডিপিএম ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭২ সালে রয়্যাল কলেজ অফ সাইকিয়াট্রি-এর অ্যাফিলিয়েটেড সদস্য হন।
১৯৭০ থেকে টানা সাত বছর পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকায় বদলি হয়ে যোগ দেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সহকারী অধ্যাপক হিসেবে।
১৯৮১ সালে ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে যোগ দিন হেদায়েতুল ইসলাম।
২০০৫ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জন -এফসিপিএস মনোনীত হন।
অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক
অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৫ নভেম্বর, যশোরে।  ১৯৫৬ সালে মাইকেল মধুসূদন তারাপ্রসন্ন গার্লস স্কুলের ইতিহাসে প্রথম ফার্স্ট ডিভিশন পাওয়া দুজন ছাত্রীর মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ সালে মধুসূদন তারাপ্রসন্ন গার্লস কলেজ থেকে প্রথম বিভাগ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি।
১৯৬৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পেশাগত প্রশিক্ষণ শেষে যোগ দেন তৎকালীন পাকিস্তান আর্মি মেডিকেল কোরো। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালাপিন্ডিতে প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করেন।
প্রথম পোস্টিং নিয়ে চলে আসেন পূর্ব পাকিস্তানে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ আর্মি কোরে যোগ দেন তিনি। ১৯৭৪ সালে ‍উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। ১৯৮২ সালে এম আরসি (সাইক) সেকেন্ড পার্ট শেষের পর সেখানে এক বছর অ্যাডাল্ট সাইকিয়াট্রি নিয়ে কাজ করে দেশে ফিরেন।

ahaque
১৯৮৮ সালে যোগ দেন তেজগাঁওয়ে অবস্থিত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। সেখানে কয়েক বছর চাকরি করার পর যোগ দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ-এনআইএমএইচ এ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৯৮ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন অধ্যাপক আনোয়ারা।
চিকিৎসক পরিচয়ের পাশাপাশি তার আরও একটি বড় পরিচয় রয়েছে। তিনি একজন সাহিত্যিক। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শাসমুল হক তার স্বামী।
অধ্যাপক মো. আব্দুস সোবহান
অধ্যাপক মো. আব্দুস সোবহান ১৯৪৯ সালে সিরাজগঞ্জের কুড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৬৪ সালে গান্ধাইল রতনকান্দী ইউনিয়িন আলী আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে ফার্স্ট ডিভিশনে উত্তীর্ন হন তিনি। এরপর ভর্তি হন পাবনার এডওয়ার্ড কলেজে, বিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৬৭ সালে ইন্টার মেডিয়েট পাস করে ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। ডাক্তারি পড়ার মাঝে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চলে যান যুদ্ধে। স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের পর ১৯৭২ অর্জন করেন এমবিবিএস ডিগ্রি।
১৯৭৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রথম পোস্টিং পান পাবনা মানসিক হাসপাতাল। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর আইপিজিএমআর (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়)-এ শুরু হওয়া বাংলাদেশের প্রথম ডিপিএম কোর্সের প্রথম সরকারি কোটার ছাত্র তিনি।
sobhan
১৯৭৮ সালে ডিপিএম ডিগ্রি লাভ করে পুনরায় যোগ দেন পূর্বের কর্মস্থলে। এরপর ভারতে উচ্চশিক্ষার জন্য গমন করেন ১৯৭৯ সালে।  দেশে ফিরে ১৯৮০ সালে পাবনা মানসিক হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসেবে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন আইপিজিএমআর-এ।
১৯৯৪ সালে আবার বদলি হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে, অধ্যাপক ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে। সেখানে দুবছর কাজ করার পর যোগ দেন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে।
১৯৯৭ সালে আইপিজিএম আর পরিবর্তিত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেখানে তিনি মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের প্রথম বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন।  ২০১০ সালে অবসরগ্রহণ করেন তিনি।
প্রতিবেদক
মনের খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

আশাবাদী মনোভাব দীর্ঘায়ু প্রদান করে

আশাবাদী মনোভাব মানুষকে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও মনের জোর বজায় রাখে। বিপদে ধৈর্য প্রদান করে। সম্প্রতি গবেষকগণ এই দাবি করেছেন যে একজন আশাবাদী...

কারো সাথে ঠিকমতো কথা বলতে পারি না

সমস্যা: আমার বয়স ২৭ বছর। আমি ফ্রিল্যান্সিং কাজের সাথে যুক্ত আছি। আমি খুবই কনজারভেটিভ ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি। বর্তমানে আমার কিছু সমস্যা হচ্ছে। কারো সাথে...

করোনা মহামারি ও নয়া স্বাভাবিকতা নিয়ে মনের খবর অক্টোবর সংখ্যা প্রকাশিত

দেশের অন্যতম বহুল পঠিত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন মনের খবর এর অক্টোবর সংখ্যা। অন্যান্য সংখ্যার মত এবারের সংখ্যাটিও একটি বিশেষ বিষয়ের উপর প্রাধান্য...

ধর্ম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যোগসূত্র

অনেকেই মনে করেন ধর্মীয় বিধি বিধান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মাঝে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং বিশেষ করে যারা ধর্মীয় জীবন যাপন করেন তারা উন্নত...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন