মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home সংবাদ আন্তর্জাতিক নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তির উপায়

নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তির উপায়

নিঃসঙ্গতা বলতে সাধারণত একাকী থাকা বা নির্জনতাকে বুঝালেও মূলত এটি একটি মানসিক অবস্থা। যখন মানুষ শূন্যতা অনুভব করে এবং সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখে তখন নিঃসঙ্গতা দেখা দেয়। নিঃসঙ্গতায় ভোগা মানুষেরা অনেক সময় অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও তাদের মানসিক অবস্থার কারণে তা পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক নির্জনতার চেয়ে মানসিকভাবে শূন্যতা অনুভব করাই নিঃসঙ্গতা। যেমন,  স্কুল বা কলেজে আসা নতুন  একজন ছাত্র তার আশেপাশে অনেক বন্ধু-বান্ধব থাকলেও সে নিঃসঙ্গ অনুভব করতে পারে। এক দেশের মানুষ অন্য কোনো দেশে গেলে সে একাকীত্ব বোধ করতে পারে। কারণ আশেপাশে অনেক লোক থাকলেও সবাই তার অপরিচিত। আর ব্যক্তি  যদি মিশুক প্রকৃতির না হন তাহলে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।

Loneliness_10_03_2015

গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী পরিবার, অধিক আয়, উচ্চ শিক্ষা প্রভৃতি কারণে ব্যক্তি কম মাত্রার নিঃসঙ্গতায় এবং শারীরিক সমস্যা, একাকী বসবাস, লোকজনের সাথে কম যোগাযোগ রক্ষা, সামাজিক সম্পর্কের অবনতি প্রভৃতি কারণে বেশি মাত্রায় নিঃসঙ্গতায় ভোগে।

আর দীর্ঘদিন নিঃসঙ্গতায় ভুগলে ব্যক্তির হতাশা, আত্মহত্যা, স্ট্রোক, হৃদরোগ, মানসিক চাপ বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, সমাজরোধী আচরণ, মাদক গ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ জন ক্যাসিপো’র মতে, নিঃসঙ্গতা বংশগতভাবে মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে। এছাড়া স্থান পরিবর্তন, বিবাহ বিচ্ছেদ, নতুন স্থানে গমন, কাছের কেউ মারা গেলে নিঃসজ্ঞতা দেখা দিতে পারে। তিনি নিঃসঙ্গতাকে হতাশার লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন।
‘লোনলিনেস: হিউম্যান নেচার অ্যান্ড দ্য নিড ফর সোশ্যাল কানেকশন’ বইয়ের এ লেখক আরো জানান, মানসিকভাবে যারা দুর্বল তারা অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে নিজেকে অযোগ্য মনে করে এবং একাকী থাকতে চায়। যারা নিঃসঙ্গতায় ভোগে তারা শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই ক্ষতির শিকার হন।

তাই ব্যক্তি যত তাড়াতাড়ি নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে উঠতে পারবে ততটাই তার জন্য মঙ্গলজনক। নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তি পেতে পরামর্শ দিয়েছেন জন ক্যাসিপো। তার পরামর্শগুলো হলো-

• নিঃসঙ্গতার কারণ বুঝে আচরণগত পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে।
• নিঃসঙ্গতা শরীর ও মনে কি প্রভাব ফেলতে পারে তা জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
• মন যাতে ভালো থাকে সে জন্য সামাজিক কাজকর্মে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
• আশেপাশের লোকজনের সাথে বন্ধুত্বমুলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
• ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে হবে এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে মনের কথাগুলো শেয়ার করতে হবে।
• অবস্থার উন্নতির জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ ও চিকিৎসা নেয়া যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, মনের খবর
সূত্র: অ্যাবাউট.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

আশাবাদী মনোভাব দীর্ঘায়ু প্রদান করে

আশাবাদী মনোভাব মানুষকে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও মনের জোর বজায় রাখে। বিপদে ধৈর্য প্রদান করে। সম্প্রতি গবেষকগণ এই দাবি করেছেন যে একজন আশাবাদী...

কারো সাথে ঠিকমতো কথা বলতে পারি না

সমস্যা: আমার বয়স ২৭ বছর। আমি ফ্রিল্যান্সিং কাজের সাথে যুক্ত আছি। আমি খুবই কনজারভেটিভ ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি। বর্তমানে আমার কিছু সমস্যা হচ্ছে। কারো সাথে...

করোনা মহামারি ও নয়া স্বাভাবিকতা নিয়ে মনের খবর অক্টোবর সংখ্যা প্রকাশিত

দেশের অন্যতম বহুল পঠিত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন মনের খবর এর অক্টোবর সংখ্যা। অন্যান্য সংখ্যার মত এবারের সংখ্যাটিও একটি বিশেষ বিষয়ের উপর প্রাধান্য...

ধর্ম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যোগসূত্র

অনেকেই মনে করেন ধর্মীয় বিধি বিধান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মাঝে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং বিশেষ করে যারা ধর্মীয় জীবন যাপন করেন তারা উন্নত...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন